
রফিকুল ইসলাম বাবু ॥
চাঁদপুর ফরিদগঞ্জে স্বামির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে শনিবার রাতে ৩ সন্তানের জননী নাজমা বেগমের (৩৫) বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। বর্তমানে গৃহবধূ নাজমা বেগম চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় ভর্তি রয়েছে।
জানাযায়, ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিন হাসা গ্রামের মোক্তার গাজীর সাথে গত ১৭ বছর পূর্বে নাজমা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রয়েছে। নাজমা বেগম জানায়, বিয়ের সময় তার স্বামীকে যৌতুক হিসেবে ২৮ হাজার টাকা ১ ভড়ি স্বর্ন ও ঘরের আসবাবপত্র দেয়। সে টাকা শেষ হয়ে যাওয়ার পর তার স্বামি মোক্তার হোসেন প্রায় প্রতিদিন নাজমার বাপের বাড়ী থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য নাজমাকে মারধর করতো। স্বামির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে নাজমা তার বাপের বাড়ি থেকে বেশ কয়েকবার টাকা এনে দেয়। নাজমা আরো জানায়, তার স্বামি জুয়া খেলার প্রতি প্রচন্ড আসক্ত। জুয়া খেলার টাকা যোগাড় করতে তাদের সংসারের আসবাবপত্র বিক্রী করে ফেলতো। সে এলাকার বহু জনের কাছে টাকা ধার দেনা করে রেখেছে। সে টাকার জন্য নাজমাকে প্রতিদিন বেদম ভাবে মারধর ও চাঁপ প্রয়োগ করতে থাকে। স্বামির অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে অবশেষে নাজমা ৩ সন্তানের মায়া ত্যাগ করে সে ঘরে রাখা এন্ড্রিন খেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালায়। বিষয়টি টের পেয়ে তার সন্তানরা ও বাড়ির অন্যান্য লোকজন তাকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়। বর্তমানে তার অবস্থা আশংকাজনক রয়েছে বলে জানাযায়। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
