
শওকত আলী :
চাঁদপুর নৌ-সীমানার মেঘনা-পদ্মা নদী দিয়ে প্রতিদিন অর্ধ শতাধিক ছোট বড় নৌ-যান চাঁদপুর-মতলব-নারায়নগঞ্জের মধ্যে চলাচল করছে। এ রুটে প্রতিদিন লঞ্চগুলোতে হাজার হাজার যাত্রী শিশু মহিলা সহ যাতায়াত করছে ঝুকির মধ্যে। এ রুটে চাঁদপুর নৌ-টার্মিনাল সহ অধিকাংশ পন্টুনের নাজুক অবস্থা বিরাজ করছে। এতে করে এ রুটের ৫ সহস্রাধিক যাত্রীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে ও কষ্ট স্বীকার করে এ রুটে যাতায়াত করতে হচ্ছে। যে কোন মূহূর্তে নড়বরে পন্টুনের কারণে বড় ধরণের দুর্ঘটনার ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে। তবুও যাত্রীরা তাদের শিশু সন্তান ও বৃদ্ধ মহিলাদের নিয়ে প্রতিদিন চাঁদপুর মতলব নারায়নগঞ্জের মধ্যে ঝুকিপুর্ণ পন্টুন ব্যবহারের মধ্য দিয়ে চলাচল করে যেতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে উদাসীন হওয়ায় বছরের পর বছর পার হলেও এসব অকেজো পন্টুন মেরামত করছে না বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা এ সব স্থায়ী লঞ্চ ঘাট দিয়ে যাতায়াতের প্রয়োজনে এ রুট দিয়ে প্রতিদিন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা করছে। এর মধ্যে চাঁদপুর সদর উপজেলার কানুদী-জহিরাবাদ নামক ২টি গুরুত্বপূর্ণ লঞ্চঘাট রয়েছে। এ লঞ্চঘাটগুলোর পন্টুনটি স্থাপন করা হয়েছে ভাসমান অবস্থায়। পন্টুটির চারিদিকে নদী, মাঝখানে পন্টুনটি নোঙ্গর অবস্থায় বেঁধে রাখা হয়েছে। নদীতে ঝড়-তুফান ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের আঘাতে পন্টুনটি সারাক্ষণ নড়বরে অবস্থায় থাকছে ও ধুলতে থাকে। যাত্রীরা লঞ্চে উঠার জন্য পন্টুনে আসবে এ ধারণা করে নৌকা যোগে নদীর পার থেকে পাড়ি দিয়ে পন্টুনে উঠে। তারপর ভাসমান পন্টুন থেকে লঞ্চে উঠে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। সব চেয়ে ঝুকি পূর্ন লঞ্চ ঘাট গুলো হচেছ,সফরমালি,আমিরাবাদ,এখলাশপুর,মহনপুর,দশানী,ষাটনলও ছটাকী। এ রুটে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ৩০টি স্টিল বডি ১ তলা বিশিষ্ট লঞ্চ যাতায়াত করে বলে লঞ্চ মালিক প্রতিনিধি রুহুল আমিন হাওলাদার জানান। এ রুটের ঘাটগুলো প্রতিবছর সরকারি ভাবে ইজারা দিয়ে সরকার লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব আয় করে নিলেও ঘাট সংস্কার কিংবা ঘাটে প্রবেশের রাস্তা নির্মাণ করছে না। ১০টি লঞ্চ ঘাটের অধিকাংশ পন্টুন পুরাতন হওয়ায় যে কোন মূহূর্তে ডুবে যাওয়ার আশংকা রয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। পন্টুনগুলো লঞ্চের আঘাতে দীর্ঘদিনে ভেঙ্গে বেকাজোকা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। কর্তৃপক্ষকে এলাবাসী পন্টুনের দুরঅবস্থার কথা ও যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিনি বলে এলাকাবাসী জানান। চাঁদপুর-মতলব-নারায়নগঞ্জের মধ্যে ১০টি লঞ্চ ঘাটের মধ্যে কানুদি, সফরমালি ও জহিরাবাদ লঞ্চঘাটগুলো বেশি ঝুকিপুর্ণ বলে কর্তৃপক্ষ জানান। এছাড়া কানুদি ও জহিরাবাদ এ ২টি লঞ্চঘাটে পন্টুন ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের জীবনের দিক বিবেচনা করে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। শুস্ক মৌসুমে যাত্রীরা কাঁদা মাটি মাড়িয়ে পন্টুনে উঠে লঞ্চে উঠতে হয়। বর্তমানে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা বা বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় যাত্রীরা নৌকা দিয়ে ঝুঁকির মধ্যে পন্টুনে উঠে তারপর লঞ্চে উঠতে হচ্ছে। লঞ্চটি হঠাৎ এসে পন্টুনে ধাক্কা দিলে পন্টুনটি নড়ে গিয়ে সরে যায়। এ সময় অনেক যাত্রী ছিটকে নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনা স্বীকার হচ্ছে। বেশির ভাগ স্বীকার হচ্ছে শিশুরা। গত ১ বছর পূর্বে কানুদি লঞ্চে ঘাটে পন্টুন জরাজীর্ণ হওয়ায় লঞ্চের ধাক্কায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্র ছিটকে নদীতে পড়ে নিখোঁজ হয়। পরে তার লাশ নদীতে একদিন পর ভেসে উঠে।
এ ব্যাপারে চাঁদপুর নৌ-বন্দর কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পানি বৃদ্ধির কারণে পন্টুন নদীর কিনার থেকে মাঝখানে চলে গেছে। পূর্বে যেখানে ছিলো বর্তমানে সে জায়গাই পন্টুন আছে। ঘাটগুলো ১ বছরের জন্য ইজারা দেওয়া হয়েছে। ইজারাদার পানি বৃদ্ধির কারণে যাত্রীদের নৌকা দিয়ে পারাপার করছে। যে সব পন্টুন খারাপ সেগুলোর বেপারে বিআইডব্লিউটিএ-এর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন পন্টুন আসলে তা পাল্টে নতুন পন্টুন স্থাপন করা হবে বলে তিনি জানান।
