
সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট: জাটকা সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকারি নিষেধাজ্ঞার আলোকে গত ১ মার্চ হতে দুই মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু করেছে চাঁদপুর জেলা প্রশাসন। অভিযান শুরুর প্রাক্কালে অভিযানের সমন্বিত পরিকল্পনা তৈরির উদ্দেশ্যে বিগত ২৫ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক অঞ্জনা খান মজলিশের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটবৃন্দ, চাঁদপুর জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড, আনসার বাহিনী, মৎস্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম দৃঢ়ভাবে পরিচালনার জন্য সমন্বিত অপারেশন্যাল প্ল্যান প্রস্তুত করা হয় এবং জেলা প্রশাসকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়াও জাটকা শিকার হতে জেলেদের বিরত রাখার লক্ষ্যে চাঁদপুর জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে জেলার ৪ উপজেলার ৪০,০০৫ টি জেলে পরিবারের প্রত্যেকটিকে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ০৪ মাস ১৬০ কেজি ভিজিএফ(চাল) প্রদানের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সেইসাথে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে নিষিদ্ধ সময়ে জাটকা আহরণ বন্ধ রাখার ব্যাপারে জেলেদের সড়ঃরাধঃরড়হ করার জন্য জেলেদের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃংখলা বাহিনী ছাড়াও সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। তারা সকলেই নিজ নিজ এলাকায় জাটকা নিধন রোধে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের সাথে একাত্মতা পোষণ করেন এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে প্রতিজ্ঞা করেন।
এর ধারাবাহিকতায় গত ১ মার্চ হতে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল হতে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত মোট ৭০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে জেলা পুলিশ, নৌ পুলিশ, কোস্ট গার্ড , মৎস্য বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সীসমূহকে নিয়ে ৮ ঘন্টা করে ৩ শিফটে ২৪ ঘন্টাব্যাপী নদী এবং নদীতীরবর্তী স্থানসমূহে জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু করা হয়। জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃংখলাবাহিনীর জোরদার অভিযানের ফলে এপর্যন্ত ১৪৪৮ মেট্রিক টন জাটকা , ২৭.৭ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল , জাটকা পরিবহনের নিমিত্ত ব্যবহৃত নৌকা এবং স্পিডবোট জব্দ করা হয়। সেইসাথে ৩৮ টি মামলায় ৭১ জনকে কারাদন্ড প্রদান করা হয় । তাছাড়া এ অভিযানে এ পর্যন্ত মোট ১,২৬,০০০ টাকা অর্থদন্ড আদায় করা হয়।
জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃংখলা বাহিনীর জোর তৎপরতার ফলে চাঁদপুরের পদ্মা এবং মেঘনা নদীতে জাটকা নিধন উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। তবে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানসহ অন্যান্য অভিযান হতে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, নদীর দুর্গম চরাঞ্চল এবং এলাকাসমূহে অসাধু জেলেরা স্থানীয় অসাধু ব্যক্তিদের সহায়তায় নদী থেকে কৃত্রিমভাবে চ্যানেল বা খাল তৈরি করে মাছ ধরা নৌকা এবং দেশীয় অস্ত্রসহ সংঘবদ্ধ হয়ে অবস্থান করছে।
সেইসাথে তাদের অসাধু কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তারা তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকাগুলোকে ৪ বা ততোধিক ইঞ্জিনবিশিষ্ট দ্রুতগতিসম্পন্ন নৌকায় পরিণত করেছে। ফলে, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃংখলা বাহিনী যখনই তাদেরকে আটক ও নিবৃত্ত করার চেষ্টা করে , তখনি তারা মারমুখী হয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে থাকে। তাছাড়া, দ্রুতগতিবিশিষ্ট জলযান ব্যবহারের ফলে তাদেরকে আটক করাও অনেক সময় দুরূহ এবং কষ্টকর হয়ে উঠে। এসব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে প্রতীয়মান হয়, সংঘবদ্ধ কতিপয় অসাধু চক্র প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে নদীতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে। এসকল অসাধু চক্রের তৎপরতা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে জেলা প্রশাসন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তাদের বিরূদ্ধে উত্তরোত্তর জোরদার অভিযান পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।
এমতাবস্থায়, জেলা প্রশাসন, চাঁদপুরের পক্ষ হতে সংশ্লিষ্ট সকল এজেন্সীসমূহ, আইনশৃংখলা বাহিনী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সুশীল সমাজ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং জনসাধারণের কাছে আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে।
চাঁদপুরনিউজ/এমএমএ/
