চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে ধান ক্ষেত থেকে মাইনুদ্দিন খান (১৫) নামে এক কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে মডেল থানা পুলিশ। কিশোরকে হত্যা করে ধান ক্ষেতে নিয়ে লুকিয়ে রেখে ঘাতক খুনি নারায়নগঞ্জে গিয়ে আত্বগোপন করার পর খুনের ঘটনা জানতে পেরে নিহতের স্বজনরা খুনি সুমন খান (১৮) কে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করেছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় লক্ষীপুর গ্রামের নূরজ্জামান খান বাড়ির পিছনের বিলে নিহত মাইনুদ্দিন খানের মৃত দেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে মডেল থানার এসআই রফিকুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল গিয়ে ধান ক্ষেত থেকে ময়না তদন্তের জন্য লাশটি থানায় নিয়ে আসে। ঘটনার পরপরই চাঁদপুর মডেল থানার ওসি মামুনুর রশিদ ও এএসআই পলাশ বড়–য়া ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রকৃত ঘটনা তদন্ত করে খোজ খবর নেয়।
এলাকাবাসীরা জানায়, গত বুধবার সকাল ১১ টায় লক্ষীপুর নূরজ্জামান খান বাড়ির হামিদ খানের ছেলে মাদকাসক্ত সুমন খান তার একটি সাইকেলে নিহত মাইনুদ্দিন খান ও একই বাড়ির রহিম খানের ছেলে জাকির খান সহ লক্ষীপুর ইয়াছিন খানের দোকানের সামনে দিয়ে আসছিলো। এমন সময় বিপরীত দিক থেকে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। দোকানের সামনে বসে থাকা মিজান খান ঘটনাটি দেখতে পেয়ে তার ছেলে মাইনুদ্দিন আহত হওয়ায় সে ক্ষিপ্ত হয়ে ঘাতক সুমন খানের সাইকেলটি রাস্তার পাশে ছুড়ে মারে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। এর প্রতিশোধ নিতে মাদকাসক্ত সুমন খান তার সহযোগীদের সাথে নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় মাইনুদ্দিন খানকে খবর দিয়ে এনে লাঠি দিয়ে এলোপাথারি আঘাত করার পর শরীরে থাকা শুয়েটার গলায় পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওযার পর ঘাতক সুমন ও তার সহযোগীরা মাইনুদ্দিনের মৃত দেহ টেনে বিলের মাঝখানে ধানক্ষেতে ফেলে চলে আসে। সন্ধ্যার পর থেকেই মাইনুদ্দিনকে তার স্বজনরা সকল জায়গায় খোজাখুজি করে না পেয়ে কান্নাকাটি শুরু করে। ঘাতক সুমন ঘটনাটি ঘটিয়ে কাউকে কিছু বুজতে না দিয়ে তার নিজ ঘরে ঘুমিয়ে থাকে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোড়ে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে সুমন তার ভাই জাহাঙ্গীরের চায়ের দোকানে কাজে চলে আসে। মাইনুদ্দিনের সন্ধান কোথাও না পেয়ে তার বড় ভাই ঢাকা থেকে নারায়নগঞ্জ এসে সুমনকে ব্যপক জিজ্ঞাসাবাদ করে। এসময় সুমন হত্যার ঘটনা তাদের কাছে স্বিকার করে। এদিকে হত্যার ঘটনা জানাজানি হলে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩ টায় মাইনুদ্দিনের চাচা নজরুল খান ও বাবা মিজান খান বাড়ির পাশে ধান ক্ষেত এলোমেলো দেখতে পেয়ে মাঝখানে এসে মৃত্য মাইনুদ্দিনের লাশের সন্ধান পায়। এসময় লক্ষীপুর গ্রামের হাজার হাজার নারী পুরুষ লাশ দেখতে এসে ভীড় জমায়। খবর পেয়ে ১০ নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম খান ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। ঘাতক সুমন খানকে নারায়নগঞ্জে আটকে রাখার পর চেয়ারম্যান সেলিম খান তাৎক্ষনিক নারায়নগঞ্জের থানা পুলিশকে অবহিত করলে তারা ঘাতককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বর্তমানে নারায়নগঞ্জ থানার হেফাজতে রয়েছে।
এ ব্যপারে নিহতের বাবা মিজান জানায়, তার ৫ ছেলে ২ মেয়ের মধ্যে ৩য় সন্তান ছিলো মাইনুদ্দিন। সে ঢাকার ফার্মঘেটে তার ভাই নাছিরের ফুটপাতে প্যান্ট সার্টের দোকানে কাজ করতো। গত ৫ ডিসেম্বর নতুন ভোটর হওয়ার জন্য বাড়িতে আসে। বুধবার সকালে সুমনের সাইকেল নিয়ে মাইনুদ্দিন ও জাকির সহ ৩জন রাস্তা দিয়ে বেপোরোয়া ভাবে যাওয়ার পথে মোটর সাইকেলের সাথে সংঘষের হাত থেকে প্রানে রক্ষা পায়। এ ঘটনায় সুমনের সাথে বাকবিতন্ডা হলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইনুদ্দিন খানকে হত্যা করে। মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, কিশোরকে হত্যা করে লাশ ধান ক্ষেতে ফেলে রাখার পর পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। ঘাতককে নারায়নগঞ্জে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

