স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর-ঢাকা নৌ পথে চলাচলকারী যাত্রীবাহী নৌযানে সবচেয়ে বেশি অসামাজিক কার্যকলাপ হয়ে থাকে। আর এ অসামাজিক কার্যকলাপে সবচেয়ে বেশি জড়িত তরুণী আর প্রবাসীদের স্ত্রীরা। পুলিশ রাতে লঞ্চে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
গত ৭ জুন চরভৈরবী ও ঢাকা নৌ পথে চলাচলকারী আব-এ ঝমঝম লঞ্চে তেমনি একটি ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাত নারীর লাশ পাওয়া যায় লঞ্চের দ্বিতীয় তলার মাঝ বরাবর একটি স্টাফ কেবিনে। ১৫ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত ওই অজ্ঞাত নারীর লাশের কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি। লঞ্চের কেবিন থেকে অজ্ঞাত নারীর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্ত শেষে চাঁদপুর পৌর কবরস্থানে আঞ্জুমানের মাধ্যমে দাফন করা হয়। সন্ধান চেয়ে পোস্টারিং করা হয়েছে সর্বত্র। লাশ উদ্ধারের পর থেকে পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের নির্দেশে মডেল থানা পুলিশ ও নৌ পুলিশ রাতে লঞ্চে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত ৮ জুন থেকে ২০ জুন পর্যন্ত ১২ দিনে কমপক্ষে অর্ধ শতাধিক তরুণী ও প্রবাসীর স্ত্রীদের আটক করেছে। পর পুরুষের সাথে এদেরকে চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশে হস্তান্তর করা হয়েছে। এরা হলো ঃ রিপন হোসেন-শাহিনা আক্তার, আলমগীর হোসেন-নাছরিন আক্তার, আহসান হাবিব-ফাতেমাতুজ জোহরা, খোকন হোসেন-কুসুম, জামাল হোসেন-রোমেনা, রনি-আফরোজা, হাসিম-রিনা আক্তার, খালেছুর-স্বপ্না, জুলহাস-জরিনা, নাজমুল-রুবি, হিরু সর্দার-সালমা, জাফর-খাদিজা, ইয়াসিন-মাহমুদা, হৃদয়-শেফালী, এরশাদ-রুমা বেগম, মাহফুজ-হিরা, মোজাম্মেল হোসেন-শিপা ইসলাম, বেলাল হোসেন-সোনিয়া আক্তারসহ আরো বেশ কয়েক জোড়া।
এদের মধ্যে কেউ মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক, আবার কারো স্বামী প্রবাসে রয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে। পরবর্তীতে এদের অভিভাবকদের ডেকে এনে চাঁদপুর মডেল থানায় ও নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে মুচলেকার মাধ্যমে জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে। যাদের অভিভাবক আসেনি এমন ২/৩ জোড়া তরুণ-তরুণীকে ২৯০ ধারায় আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে এএসআই জসীম উদ্দিন ও এএসআই মুনসুর আহমেদ সঙ্গীয় সদস্যদের নিয়ে রাত ১০টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সকল যাত্রীবাহী লঞ্চে এ অভিযান পরিচালনা করে থাকেন।
