চাঁদপুর নদী পথে ছোট বড় বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনায় অনেক যাত্রী নিহত হয়েছে। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও চাঁদপুর লঞ্চ ঘাটে দু’ লঞ্চের চাপায় ঘটনাস্থলে হামিদা (৩৫) নামের এক গৃহবধূর মর্মান্তি মৃত্যু হয়েছে আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে আসা সোনার তরী লঞ্চটি চাঁদপুর ঘাটে আসার পর ইঞ্জিন চালিত নৌকায় নামার সময় এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, মহিলা ও শিশুসহ ৫-৬ জন যাত্রী ইঞ্জিন চালিত নৌকায় নামার পর দু’টি লঞ্চ নৌকাটিকে চাপ দিলে কৌশলে নৌকার মাঝি লঞ্চের উঠে বাকী যাত্রীদের উপরে তুলে নেয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে হামিদা (৩৫) নামে গৃহবধূ উপরে উঠার সময় দু’ লঞ্চের চাপায় তার কোমড় পিষে গিয়ে ঘটনাস্থলেই সে মৃত্যু বরণ করে। এ সময় তার সাথে থাকা ৬ বছরের শিশু এ অবস্থা দেখতে পেয়ে লঞ্চ থেকে নৌকায় নামতে গিয়ে পানিতে পরে যায। পরে সাথে থাকা অন্য মহিলারা বাচ্চাকে টেনে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় উঠায়।
হামিদার স্বজনরা তাকে বাঁচানোর জন্য দ্রুত ইঞ্জিন চালিত ওই নৌকাটিতে নিয়ে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত্যুর ঘটনাটি চাঁদপুর মডেল থানাকে অবহিত করার পর সুযোগ বুঝে নিহতের স্বজনরা হামিদার লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। খবর পেয়ে মডেল থানার এসআই শাহাবাুদ্দিন হাসপাতালে গিয়ে লাশটি না পেয়ে হাসপাতালে নিয়ে আসা বহনকারী হালিমার মোবাইল নাম্বার ০১৯৪৫৩৯২৬৭৪ এ কল করলে তারা সঠিক কোন তথ্য প্রদান করে ন্। পরে মোবাইল সংযোগটি কেটে দেয়।
লঞ্চঘাটে বেশ কয়েকজন যাত্রী জানায়, ইঞ্জিন চালিত নৌকা থেকে যাত্রীবাহি লঞ্চে উঠানামা করতে গিয়ে সম্প্রতিকালে বেশ কয়েকজন যাত্রী নিহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছে। বিআইডব্লিউটিএ ও নৌ পুলিশ বেশ কয়েকবার সতর্ক করার পরেও এসব নৌকার মাঝিরা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুল প্রদর্শন করে তারা অনবরত যাত্রী উঠানামা ও মালামাল নিয়ে থাকে। এছাড়া চলন্ত লঞ্চে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইঞ্জিন চালিত নৌকা থেকে লঞ্চে যাত্রীরা উঠানামা করতে দেখা যায়।
আজ দুপুরে লঞ্চ থেকে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় নামার সময় দু’ লঞ্চের চাপায় এ দুর্ঘটনায় যাত্রী হামিদার অকাল মৃত্যু হয়। নিহত হামিদা দোকানঘর এমদাদিয়া মাদ্রাসার পাশে লন্ড্রীর দোকান মালিক মনু শেখের ছেলে ইব্রাহিম শেখের স্ত্রী। লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিহত হামিদার মৃতদেহ তার স্বজনরা জানাজা শেষে দোকান শেখ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করে।
পুলিশ সুত্রে জানা যায়, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লঞ্চ দুর্ঘটনায় যাত্রী নিহত হওয়ার সংবাদ জানানোর পর খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সন্ধান পায় নি। পুলিশ যাওয়ার পূর্বেই লাশের স্বজনরা লাশ নিয়ে বাড়িতে চলে যায়। লঞ্চ দুর্ঘটনায় যাত্রী নিহত হওয়ায় লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিরোনাম:
সোমবার , ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

