চাঁদপুর: সদর উপজেলার তরপুরচণ্ডী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের কাজী বাড়ির আ. রাজ্জাকের বড় ছেলে মিন্টু কাজী (৩৯)। গত ২০ বছর আগে পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য সৌদি আরবে পাড়ি জমান। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস সবাইকে কাঁদিয়ে আজ (৩ নভেম্বর) লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন তিনি।
মঙ্গলবার মিন্টুর লাশ বাংলাদেশ বিমানযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবে বলে পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হয়েছেন। তার মৃত্যুতে শোকের মাতম চলছে পুরো এলাকা জুড়ে।
প্রিয়জন হারানোর কী ব্যথা তা অনুভব করা যায় মিন্টুর বাড়িতে গেলে। নিহত মিন্টু বাবা মা, স্ত্রী, সন্তান আত্মীয় স্বজনের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারি দেখে কেউ চোখে পানি ধরে রাখতে পারছেন না। সান্তনা দেয়ার ভাষা যেন সবাই ভুলে গেছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে ইঞ্জিন মিস্ত্রির কাজ করতেন মিন্টু। ঘটনার দিন নিজের গাড়ি নিয়ে জেদ্দায় মালামাল আনতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তিনি। জেদ্দা যাওয়ার আগে পরিবারের সদস্যদের সাথে তার শেষ কথা হয়।
নিহত মিন্টুর চাচা কাজী হারুন অর রশিদ বলেন, ‘আমাদের পরিবারের মধ্যে মিন্টু ছিল আমার সবচেয়ে ঘনিষ্ট। সব সময় ও হেসে কথা বলত। কারো সাথে রাগ অভিমান ছিল না ওর। তাকে আজ শেষ বিদায় দিতে কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে।’
উল্লেখ্য, গত ১৫ অক্টোবর সৌদি আরব স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় মিন্টু কাজী। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী রুপা আক্তার মুক্তা (২২), একমাত্র মেয়ে কারিনা আক্তার পুতুল (সাড়ে ৪ বছর), বাবা-মা, ভাই-বোনসহ আত্মীয়-স্বজন রেখে গেছেন।

