রফিকুল ইসলাম বাবু, চাঁদপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বিষয়ে সনদ যাচাই বাছাই কার্যক্রম চলছিলো। বাছাই কার্যক্রম চলাকালে এক মুক্তিযোদ্ধার সনদ ভুয়া বলে প্রমানিত হলে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টায়।
ঘটনার আলোকে জানাযায়, চাঁদপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা প্রদানের জন্য সকল কাগজপত্র যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনার দিন সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের টাহরখিল বেপারী বাড়ির মৃত জালাল উদ্দিন বেপারীর ছেলে আব্দুল কাদির বেপারী নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবী করে সনদ নং ৫৩২০৭ দেখিয়ে ভাতার জন্য সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ে কাগজপত্র জমা দেন। সদর থানা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ুআবুল কালাম মো: শামছুল আলম চিশতী ঐ কাগজপত্র যাচাই বাছাই করে উক্ত ৫৩২০৭ সনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র জাল ও নকল বলে তাদের কাছে সন্দেহ হয়। পরে তিনি কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ড কাউন্সিলে যোগাযোগ করলে তারা জানান, প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪৮ হাজার এর বেশি কোন সনদে স্বাক্ষর করেননি। তাছাড়া কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলে ৫৩২০৭ এ নাম্বারে কোন সনদ ও চাঁদপুরে কবির বেপারী নামে কোন মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নেই। এতেই প্রমানিত হয় আব্দুল কাদির বেপারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আবুল কালাম চিশতী সদর থানা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্যাডে লিখিত অভিযোগ দিয়ে তাকে পুলিশে সোপর্দকরা হয়েছে। আটক আব্দুল কাদির বেপারী জানান, তিনি মৃত হরুন কমান্ডারের মাধ্যমে তার কাগজপত্র কেন্দ্র থেকে আনান। ২০০১ সালে তিনি গ্যাজেট ভুক্ত তালিকায় লিপিবদ্ধ ২০০৩ সালে তা বাস্তবায়ন শেষে প্রধান মন্ত্রী কর্তৃক স্বাক্ষরিত হয়ে ২০০৫ সালে এ সনদ কমান্ডার হারুনের মাধ্যমে তার কাছে আসে। তিনি জানান তিনি কোন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা নয়। যারা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে তারা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে। তাদের মূল কারন হলো তিনি গত মুক্তিযোদ্ধা নির্বাচনে নাকি তাদের বিপক্ষ প্যানেলকে ভোট দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা অফিসের সহকারি সুমন তার কাছ থেকে যাচাইবাছাইকালে তার কাছ থেকে নাম উঠানোর জন্য ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে সদর উপজেলা কমান্ডার আবুল কালাম চিশতী সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম বাবুকে জানান যদি আমার অফিস সহকারি সুমন তার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি প্রমানিত হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। বিষয়টি তাই তার বিরুদ্ধে এ কাজটি করা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ আটক আব্দুল কাদিরের কাগজপত্র পর্যবেক্ষন করছেন।
