
স্টাফ রিপোর্টাস ॥ চাঁদপুর সরকারি কলেজের বহু পুরাতন ও ঐতিহ্যবাহী কলেজ মসজিদটির বিশাল পাকা স্থাপনাটি মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ায় এলাকার নিয়মিত ধর্ম প্রাণ মুসল্লি, ছাত্র, অভিভাবক ও শিডিউল ক্রয় করে স্থাপনাটি নিলামে ক্রয় করতে না পারা ঠিকাদারদের মধ্যে মারাত্মক চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করতে দেখা গেছে। কয়েকজন ঠিকাদার ও এলাকার সচেতন মহলের দাবি মসজিদটির স্থাপনার মূল্য রয়েছে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। প্রকাশ্যে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে নিলাম করা হলে সরকার এই মসজিদটির স্থাপনা বিক্রয় করে কমপক্ষে ৯ থেকে ১০ লক্ষ টাকা পেত। স্থানীয় পত্রিকার মাধ্যমে নিলাম বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হলে অনেকে অংশ গ্রহণ করতে পারতো ও অনেক বেশি শিডিউল বিক্রি হলে সরকার সেখান থেকেও রাজস্ব আয় করতে পারতো। ঠিকাদার ইউসূফ মাঝি শিডিউল ক্রয়কারী অন্য ঠিকাদারদের সাথে প্রতারণা করে ২টি শিডিউল ড্রপিং করায় ঠিকাদাররা তাদের ইচ্ছা মতো মূল্য নির্ধারণ করে শিডিউল ড্রপিং করতে পারেননি বলে জানায়। এই সুযোগে ইউসূফ মাঝি ২য় পর্যায়ে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত না হওয়ায় অল্প মূল্যে বিশাল মসজিদটির স্থাপনা ক্রয় করতে পেরে তরিগড়ি করে তা ভেঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে। মসজিদটিতে বহু মূল্যবান ভিম, রড, ইট থাকায় ঠিকাদার অনেক লক্ষ টাকা লাভবান হবে। আর সরকার তথা চাঁদপুর সরকারি কলেজ বিরাট অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। এই ব্যাপারে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সচেতন এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ জানান, নিলাম কমিটির সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে শিক্ষা অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই অনুমতি দিয়েছেন।
সরজমিনে চাঁদপুর সরকারি কলেজ এলাকা নাজির পাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, চাঁদপুর সরকারি কলেজ মসজিদটি প্রায় ১‘শ ফুট লম্বা ও ৪৫ ফুট চওড়া জায়গার উপর অবস্থিত। এই মসজিদের ছাদ ভেঙ্গে ফেলার ফলে দেখা যায় ছাদে বহু রড ব্যবহার করা হয়েছিল। এছাড়া লোহার ভিম রয়েছে, যার মূল্য অনেক। এছাড়া এ স্থাপনা থেকে হাজার হাজার ইট বাহির হচ্ছে। অন্য দিকে দরজা, জানালা ও পিছনের সাইডে থাকা ১‘শ ফুট লম্বা লোহার গ্রীরিল রয়েছে। যা বিক্রি করলে অনেক অর্থ পাওয়া যাবে। নিলামের মাধ্যমে মসজিদ স্থাপনাটি অল্প মূল্যে পাওয়া ঠিকাদার ইউসূফ মাঝি তার সহযোগী ছাব্বির ছৈয়াল ও মতলবের স্বপন অনেক সংখ্যক শ্রমিক ব্যবহার করে তরিগড়ি করে মসজিদ স্থাপনা ভেঙ্গে মিনি মালবাহী গাড়ি দিয়ে মালামাল অন্যত্র নিয়ে যেতে দেখা যাচ্ছে। এই ব্যাপারে ইউসূফ মাঝির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জেনে আমরা ৮ থেকে ১০টি শিডিউল ক্রয় করি। সে মতে ১৯শে জুলাই ১৭ তারিখে আমাদের যারা শিডিউল ক্রয় করি তারা সকলে একমত হয়ে সমঝোতার মধ্যমে ২টি শিডিউল ড্রপিং করি। সে সময় একটি শিডিউলে ৭৫ হাজার টাকা ও অন্যটিতে ৮৫ হাজার টাকা লিখে ড্রপিং করি। নিলাম কর্তৃপক্ষ ওই তারিখে সেই দিন আর আমাদের অনুকূলে সিদ্ধান্ত না দিয়ে ২য় বার পত্রিকার মাধ্যমে নিলাম বিজ্ঞপ্তির জন্য সময় নিয়ে কার্যক্রম সমাপ্ত করেন। পরবর্তীতে কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাকে ডেকে নিয়ে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় মসজিদের স্থাপনা নেওয়ার জন্য অনুরোধ করে। পরে গত ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আমাদেরকে কাজের অনুমোতি দেন। সে মতো আমরা স্থাপনা ভেঙ্গে নিচ্ছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নিলাম কম-বেশি হয়েছে সেটা কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করুন। আমার সাথে আরো ২জন পার্টনার রয়েছে তারা হচ্ছে সাব্বির ছৈয়াল ও মতলবের স্বপন মিয়া। এই ব্যাপারে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. এ এস এম দেলোয়ার হোসেনের সাথে সরাসরি তার কার্যালয়ে গিয়ে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, কলেজ মসজিদটি দীর্ঘ দিন যাবৎ জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। ভিম ও দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়, অল্প বৃষ্টি হলেই মসজিদের ভিতরে পানি ঢুকে নামাজের বিঘœ সৃষ্টি হতো। গত রমজান মাসে ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা নামাজ পড়তে গিয়ে সমস্যা পোহাতে হয়। যার ফলে মসজিদটি পরিত্যক্ত ঘোষণার জন্য শিক্ষা অধিদপ্তরে চিঠি পাঠাই। সে মতে শিক্ষা অধিদপ্তর মসজিদটির স্থাপনা পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। পরে সরকারি নিয়ম মোতাবেক মসজিদটি নিলামে বিক্রি করে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় জেলা প্রশাসক সভাপতি, অধ্যক্ষ, সদস্য সচিব, চাঁদপুর শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সদস্য, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সদস্য। এই কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক জাতীয় দৈনিক পত্রিকা সমকাল ও কালের কন্ঠে ৮ই জুলাই ২০১৭ তারিখে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। সে মোতাবেক ৪‘শ টাকা করে ৯টি শিডিউল বিক্রি হয়। সে সময়ে নিলাম বিজ্ঞপ্তির কমিটি স্থাপনার মূল্য যথাযথ না হওয়ায় ঠিকাদার অনুকূলে সিদ্ধান্ত না দিয়ে নিলাম অসমাপ্ত ঘোষণা করেন এবং পরবর্তীতে নিলাম বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নেন। পরবর্তীতে গত ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৭তারিখে সর্বশেষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ১লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা স্থাপনার মূল্য নির্ধারণ করেন ও স্থাপনাটি ভেঙ্গে সরানোর জন্য ১লক্ষ ৩১ হাজার ৮‘শ ৭ টাকা। সর্বমোট ২ লক্ষ ৭০ হাজার ২‘শ ৫৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এই কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক শিক্ষা অধিদপ্তরে প্রস্তাবনা পাঠালে শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজি ১লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় নিলামের মাধ্যমে স্থাপনাটি দেওয়ার অনুমতি দেন। সে মোতাবেক ঠিকাদার ইউসূফ মাঝিকে স্থাপনা ভেঙ্গে নেওয়ার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা মূল্যের মসজিদ স্থাপনাটি ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকায় পাওয়া ঠিকাদার ইউসূফ মাঝি শিডিউল ক্রয়কারীদের সাথে প্রতারণা করে সব শিডিউলগুলো ড্রপিং করতে না দেওয়ায় নিলামে স্থাপনাটি যথাযথ মূল্য নিলামে উঠেনি। সে নিজে ২টি শিডিউল ড্রপিং করে ৭৫ ও ৮৫ হাজার টাকা লিখে। পরে কাজ না পাওয়ায় অপর শিডিউল ক্রয়কারী ঠিকাদারদের কোনো অর্থ না দিয়ে খালি হাতে বিদায় করেন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে অল্প মূল্যে নিজের নামে নিলামে স্থাপনাটি নিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। যা নিয়ে শিডিউল ক্রয়কারী ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তোজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
শিরোনাম:
রবিবার , ৩ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২০ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
