বিসিক শিল্প নগরী সম্প্রসারণে ১০ একর
নতুন জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।
রয়েছে সড়ক, নৌ ও রেল পথের
ত্রিমূখী যোগাযোগ ব্যাবস্থা।
প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায়
দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদেরকে
এ অঞ্চলে বিনিয়োগে
উৎসাহীত করা।
চাঁদপুর জেলা ঐতিহ্যগত দিক থেকে অনেক পুরনো একটি নদী উপকুলী অঞ্চল হিসেবে সর্বত্র রয়েছে পরিচিতি। এ জেলাটি যদিও নদী উপকুলীয় অঞ্চল তা সত্তেও সড়ক পথ, নৌ পথ ও রেল পথের ত্রিমূখী যোগাযোগ ব্যাবস্থা থাকায় ঢাকা ও চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়েও ভালো পজিশনে রয়েছে চাঁদপুর শহর। এ ছাড়াও চাঁদপুরের বাবুরহাটে গড়ে ওঠা বিসিক শিল্প নগরীটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। কারণ এটি সম্প্রসারণে ইতমধ্যে আরো ১০ একর নতুন জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। অন্যদিকে চাঁদপুরের বুক চিরে বহমান মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদির পাড় ঘেষে রয়েছে শিল্প কলকারখানা গড়ে তোলার মত বিস্তৃত এলাকাজুড়ে নদি তীর। যা সংরনের জন্য সরকারী বরাদ্দের কমতি নেই। এখন প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তাদেরকে এ অঞ্চলে বিনিয়োগে উৎসাহীত করা।। আর এটি নিশ্চিত হলে চাঁদপুর হতে পারে দেশের অন্যতম একটি শিল্প নগরী।
বাংলাদেশে সব ধরণের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো এমন হাতেগোনা যে কয়েকটি জেলা রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম চাঁদপুর। এছাড়া বাংলাদেশের কেন্দ্রবিন্দু রাজধানী ঢাকা ও পুরাতন বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের পর সব ধরনের বাণিজ্যিক সুবিধা নিয়ে বৃটিশ আমলেই গড়ে উঠেছিল চাঁদপুর শহর। এ ছাড়াও চাঁদপুর শহর বৃটিশ আমলেই পৌর শহর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়ে মেঘনা তীরবর্তী এ অঞ্চলে বানিজ্যিক কার্যক্রমে ব্যাপক সমৃদ্ধি অর্জন করে। পরবর্তীতে একটি জেলা শহর হিসেবে পুনঃ প্রকাশ ঘটে। যা বর্তমানে সব ধরণের যোগাযোগ সুবিধা নিয়ে চলছে। যেমনিভাবে রয়েছে জলপথের বিশেষ সুবিধা তেমনিভাবে রয়েছে স্থলপথের আরো অনেক সুবিধা। বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঢাকা ও চট্টগ্রাম খুব সহজে অল্প সময়ে যোগাযোগ করার সুযোগ রয়েছে এ জেলা থেকে। এছাড়া বাংলাদেশের সকল জেলার সাথে আভ্যন্তরিণ সম্পর্ক রক্ষার্থে ঢাকা ও চট্রগ্রামের চাইতে বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। অপর দিকে বাংলাদেশ সরকারের প থেকে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন নদিতীর সংরণে এবং সব ধরনের উন্নয়নে রয়েছে বিশেষ পরিকল্পনা। ইতোমধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুৎ লোডশেডিং রোধ করে চাঁদপুর শহরে নতুন নতুন শিল্প কারখানা স্থাপনের সুযোগ করে দিচ্ছে। অনেক আগ থেকেই চাঁদপুরকে বাণিজ্যিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্থাপিত হয় ঐতিহ্যবাহী দু’টি পাটকল ডব্ল্উি রহমান ও আল কায়েদ জুট মিল। যদিও বর্তমানে এগুলো বন্ধ রয়েছে। এছাড়া পুরান বাজারসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় রয়েছে প্রায় শতাধীক খাদ্যদ্রব্য ও পন্য উৎপাদনকারী শিল্প কলকারখানা। যার মধ্যে অন্যতম হলো অটো রাইস মিল, ওয়েল মিল, ফাওয়ার মিল এবং নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পন্য উৎপাদনকারী বিভিন্ন শিল্প কারখানা। কিন্তু বিশ্বায়নের প্রভাবে পাটকল দুটির উপর নির্ভরশীলতা হ্রাস পাওয়ায় বর্তমানে পাটকল দুটি বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে হাজার হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এসব বেকার শ্রমিকরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। এ পরিস্থিতিতে চাঁদপুর শহরের প্রধান প্রধান স্থানগুলোতে ও পাটকল দুটির আশে পাশে অনেক সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন অনাবাদি জমি রয়েছে। এছাড়াও চাঁদপুর ওয়ারলেছ বাজার থেকে শুরু করে চাঁদপুর-রায়পুর সড়ক ধরে বাগাদী চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকাজুড়ে রয়েছে মিল ফ্যাক্টরী করার উপযোগী অনেক জমি। এ স্থানটি চাঁদপুরের স্থলপথের প্রবেশদার। অন্যদিকে ইচলি ঘাট এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর তীর ঘেষে সম্ভাবনাময় অনেক অনেক অনাবাদী জমি। চাঁদপুরের সচেতন মহল ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠকরা বলছেন, এতসব সুবিধা নিয়ে গড়ে উঠা এ শহরটিকে একটি শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য প্রাথমিকভাবে চাঁদপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, শিল্পপতি, উদ্যোগক্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রচেস্টায় দেশের বড় বড় কম্পানি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে এ অঞ্চলে শিল্প কলকারখানা, মিল ফেক্টরী গড়ার আগ্রহ তৈরীর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে চাঁদপুরের কৃতিসন্তান যারা জেলার বাহিরে এবং বিদেশে বিভিন্ন শিল্প বাণিজ্যের সাথে জড়িত তাদেকেই এ উদ্যোগ গ্রহনে এগিয়ে আসতে হবে। সর্বপরি যে কোন উপায়ে সম্ভাবনাময় এ জেলা শহরকে আধুনিক ও সমৃদ্ধ শহর হিসেবে গড়তে হবে এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।
এমন প্রত্যাশার কথাই শুনিয়ে ছিলেন গত ২৫’ই জুন চাঁদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বার্ষিক সাধারণ সভায় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. ইসমাইল হোসেন, পুলিশ সুপার মো. আমির জাফর, পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরুল ইসলাম, চেম্বারের সভাপতি আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর আখন্দ সেলিম, উপদেষ্টা আলহাজ্ব ওসমান গণি পাটওয়ারী, চাঁদপুর প্রেসকাবের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া জীবনসহ চাঁদপুরের অনেক গুনিজন।

