রফিকুল ইসলাম বাবু ॥ চাঁদপুর হাজীগঞ্জ পূর্ব হাটিলায় নাছরিন আক্তার রিবা নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। অজ্ঞাত দু ব্যাক্তি রাতের আঁধারে ঘরে প্রবেশ করার পর গৃহবধূ ও তার বোন রেখা চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পরে। পরবর্তিতে গৃহবধূ রিবাকে কুমিল্লা সিডি প্যাথ হাসপাতালে নিলে সে বৃহস্পতিবার রাতে মৃত্যু বরণ করে। এ ঘটনায় হাজীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আলমগীর হোসেন সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় গৃহবধুর মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন। ঘটনার বিবরণে জানাযায়,৯ অক্টোবর রাতে চাঁদপুর হাজীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব হাটিলার ৮নং ওয়ার্ডের বেপারী বাড়ীর প্রবাসী রহিম বেপারীর মেয়ে নাছরিন আক্তার রিবা ও তার বোন নবম শ্রেণীর ছাত্রী রেখা এই দুজন বাড়ীতে ঘুমিয়ে ছিলো। তাদের মা ঐ দিন ঢাকায় তাদের আত্মীয়ের বাসায় অবস্থান করেছিলেন। রাত আনুমানিক ১১ টার দিকে হটাৎ চিৎকারের শব্দ পায় পাশ্ববর্তী বাড়ীর চাচি সম্পর্র্কিত মিনু বেগম। তিনি এসে দরজা জানালা বন্ধ দেখে ঢাকায় অবস্থানরত তাদের মাকে ফোন দিয়ে এ চিৎকারের খবর জানায়। পরবর্তিতে তাদের মা অনেকবার ফোনে তার মেয়ে নাছরিন আক্তার রিবা ও রেখার মোবাইলে কল করার চেষ্টা করেও তারা ফোন ধরেনি। পরবর্তিতে পাশ্ববর্তী বাড়ীর চাচি সম্পর্র্কিত মিনু বেগমকে বিষয়টি জানার জন্য বলে। মিনু বেগম তার তার পাশের ঘরের মেয়ের জামাই মাহফুজ এবং আঁখি নামের এক তরুনীকে নিয়ে পূণরায় গৃহবধূ রিবা ও রেখার ঘরের কাছে গিয়ে ডাক চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে রেখা এসে দরজা খুলে দেয়। এ সময় মিনু বেগম দেখে নাছরিন আক্তার রিবা খাটের উপর অচেতন ও তার বোন নবম শ্রেণীর ছাত্রী রেখা মাটিতে লুটিয়ে পরে আছে। এ সময় আহত রেখা তাকে জানিয়েছে দুজন অজ্ঞাত ব্যাক্তি ঘরে ছিল। এদের মধ্যে একজন তার বোন রিবার গলায় স্বর্নের চেইন নিয়ে টানাটানি করে। পরবর্তিতে পাশ্ববর্তী লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় বাড়ীর আরো লোকজন এসে অচেতন রিবাকে প্রথমে হাজীগঞ্জ বিসমিল্লাহ হাসপাতালে নেয়। পরবর্র্তিতে অবস্থা গুরুতর হলে তাকে কুমিল্লা সিডি প্যাথ হাসপাতালে নিলে পরের দিন বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে গৃহবধূ রিবা মৃত্যু বরণ করে। এদিকে পরিবারের লোকজন প্রথমে ধারনা করেছিলেন অজ্ঞাতরা হয়তো রিবাকে ধর্ষন করেছে। কিন্তু কুমিল্লা সিডি প্যাথ হাসপাতালে নিয়ে পরীক্ষা নিরিক্ষার পর রিপোর্ট অনুযায়ী ধর্ষনের কোন আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানাযায়। তবে মৃত গৃহবধুর গলায় নখের আঁচড় রয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এদিকে ঘটনার দিন থেকে মৃত গৃহবধুর ছোট বোন রেখা গুরুতর আহত অবস্থায় হাজীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছে। সে কোন কথা বলতে পারছেনা। এ বিষয়ে ঘটনায় হাজীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আলমগীর হোসেন জানান, আমরা গৃহবধূ রিবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসেছি। মৃত গৃহবধু ররিবার চাচি মিনু বেগম থেকে জেনেছি দুজন অজ্ঞাত ব্যাক্তি ঘরে প্রবেশ করেছে। তারা লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে গেছে। আমরা মৃত রিবার মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছি। তদন্ত শেষে রিপোর্ট দেওয়া যাবে । ৮নং হাটিলা পূর্ব ইউপি চেয়ারম্যান মো: জলিলুর রহমান দুলাল মির্জা জানান, মৃত রিবা ভয় পেয়েছে বলে শুনেছি।পরবর্তিতে সে কুমিল্লা হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করে। তবে জেনেছি দুজন অজ্ঞাত ব্যাক্তি ঘরে প্রবেশ করেছে। যে বা যাহারা এই অপরাধের সাথে জড়িত তাদের উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি। মৃত গৃহবধু রিবার চাচি মিনু বেগম জানান, আমরা চিৎকার শুনে গৃহবধূ রিবা ও রেখার ঘরের কাছে গিয়ে ডাক চিৎকার করে তাদের দরজা খোলার জন্য বলি। একপর্যায়ে রেখা এসে দরজা খুলে দেয়। এ সময় দেখি রিবা খাটের উপর অচেতন হয়ে পরে আছে ও তার বোন রেখা মাটিতে লুটিয়ে পরে আছে। রেখা জানিয়েছে কারা যেন দুজন ব্যাক্তি তার বোন রিবার গলায় স্বর্নের চেইন নিয়ে টানাটানি করে। পরবর্তিতে পাশ্ববর্তী লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনা শুনার পর, মৃত রিবার বাবা রহিম বেপারী ও তার স্বামী হজরত আলী বিদেশ থেকে চলে এসেছে। তবে গৃহবধূ রিবার মৃত্যু নিয়ে পুরো এলাকায় এক রহস্যে ছড়িয়ে পরেছে। সবারই মনে নানা গুঞ্জন কিভাবে অজ্ঞাত লোকগুলো ঘরে প্রবেশ করেছে? কারন দরজা জানালা কোথাও ভাংচুর দেখা যায়নি। তারা কোন স্বর্নালংকারও নেয়নি। তাহলে কোন অজ্ঞাত কারনে তারা আসলো। তারা কারা এসব নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এলাকাবাসীর মধ্যে।
