
মিজান লিটন
ফরিদগঞ্জের ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউনিয়নস্থ ঐতিহ্যবাহী চান্দ্রা বাজারের ছিদ্দিক প্লাজার নিচতলার রূপা জুয়েলার্সে এক দুর্ধর্ষ চুরি সংঘটিত হয়েছে। আলহাজ্ব বাচ্চু স্বর্ণকারের মালিকানাধীন রূপা জুয়েলার্স থেকে চোরের দল ৫৬ ভরি স্বর্ণ, ৬০ ভরি রূপাসহ নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলে বাচ্চু স্বর্ণকার অভিযোগ করেন। ঘটনাটি ঘটে গত ২৫ ডিসেম্বর রাতের কোনো এক সময়।
সরজমিনে রূপা জুয়েলার্সে গেলে কান্না জড়িত কণ্ঠে মালিক আলহাজ্ব বাচ্চু মিয়া স্বর্ণকার জানান, গতকাল রাত সাড়ে ৮টায় প্রতিদিনের ন্যায় দোকান বন্ধ করে বাড়িতে যাই। সকাল ৮ টায় আমার ছেলে রাসেল দোকান খুলে ভিতরে ঢুকলে উত্তর পাশের দেওয়াল ভাঙ্গা দেখেন। দোকানের ভিতরের স্বর্ণালংকারের খালি প্যাকেটগুলো সব তছনছ হয়ে আছে এবং সিন্ধুক খোলা। দোকানে থাকা কোন স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাগুলো নাই। পরক্ষণেই রাসেল আমাকে ফোন করেন। এ সময় আমি হতবিহ্বল হয়ে কোনো মতে দোকানে আসি এবং বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করি।
বাচ্চু স্বর্ণকারের বড় ছেলে অ্যাডভোকেট মোঃ ফিরোজ আশরাফ সুমন চুরির নমুনাগুলো এ প্রতিনিধিকে দেখান। দেখা যায়, চোরের দল বড় বড় ব্যাংক কিংবা শিল্প প্রতিষ্ঠানে চুরির স্টাইলে দোকানের উত্তর পাশ দিয়ে ছাদ থেকে রশি দ্বারা নেমে উত্তর পাশের ৬ ইঞ্চি ওয়াল ভেঙ্গে জুয়েলার্সে প্রবেশ করে। ওয়াল ভাঙ্গার সামনে একটি বড় পঁচিশ মণ ওজনের সিন্ধুক রশি দ্বারা সরিয়ে ভেতরে ঢুকে। পরে একে একে দোকানের ভিতরে থাকা নগদ অর্থসহ সকল মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি ফরিদগঞ্জ থানাকে অবহিত করলে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হোসেনসহ আরো কয়েকজন এসআই ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনাটির খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু সাহেদ সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান ওয়াহেদুল ইসলাম, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রিনা নাছরিন, ১নং বালিথুবা পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান পাটওয়ারীসহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ ও হাজার হাজার উৎসুক জনতা ঘটনাস্থলে আসেন। উৎসুক জনতার মধ্যে অনেকেই কানাঘুষা করতে শোনা গেছে, বাজার কমিটির অবহেলার কারণেই কয়েকদিন পর পর বাজারে খুনসহ এ ধরনের মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ব্যাপারে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
