শাহরিয়ার খাঁন কৌশিক ॥ মার্চ-এপ্রিল দুই মাষ নদীতে জেলেদের মাছ ধরা নিষেধ করে ঘোষনা দিয়েছে সরকার। মেঘনা-পদœা নদীতে কোন ধরনের জাল ফেলে মাছ ধরতে ও বিক্রী করতে পারবে না। কিন্তুু কিছু অসাধু জেলেরা সরকারের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে রাতের আধাঁরে নদীতে কারেন্টে জাল ফেলে জাটকা ইলিশ নিধন করছে। প্রতিদিন রাতে জাটকা মাছ ধরে পুরানবাজার রওনাগোয়াল এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে বিক্রী করছে। বুধবার রাত ১০ টায় এই মাছ ধারা ও বিক্রী করাকে কেন্দ্র করে দোকানপাট বসতঘর ভাঙ্গচুর করে। হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। গুরুত্তর আহত ইমান গাজী ও কালুকে সদও হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করানো হয়েছে।
জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড পুরানবাজার ওনাগোয়াল এলাকার জব্বার হাওলাদারের ছেলে জেলে নুরু ইসলাম হাওলাদার নদী থেকে মাছ ধরে নদীর পাড়ে এসে বিক্রি করতে আসে। এসময় মধ্যম শ্রীরামদীর নুর জামান গাজীর ছেলে ইমান গাজী এসে নুরু ইসলাম হাওলাদারকে মাছ বিক্রি করতে বাঁধা দেয়। এ ঘটনায় নুরু ইসলাম হাওলাদার ও তার লোকজন ইমান গাজীকে বেধম মারধর করে তার মাথা ফাঁটিয়ে দেয়। রাত ১১ টায় মাছ ধরা ও বিক্রীকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মাঝে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। হামলাকারিরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে দুটি দোকান ও প্রতিবন্দী আয়শার ঘর ভাঙ্গচুর করে। এতে পরিস্তিতি আরো ঘোলাটে হতে শুরু করে। ঘটনার পরেই খবর পেয়ে পুরানবাজার ফাঁড়ির এসআই জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনে আনে ও ঘটনার সাথে জরিত একজনকে আটক করে। হামলার ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাস্থলে থাকা মধ্যম শ্রীরামদী লিটন গাজি জানায়, প্রতিদিন রাতে ওনাগোয়াল এলাকার মেঘনা নদীর পাড়ে জাটকা ইলিশ বিক্রী করে। মাছ ধরা ও বিক্রী নিয়ে প্রতিদিন রাতে জেলেদের সাথে স্থানীয় যুবকদের বাকবিতন্ডার সৃষ্টি হয়। ঘটনারদিন রাতে জেলে নুরু ইসলাম হাওলাদারকে বাঁধা দেওয়ায় সে ইমান গাজীকে মারধর করে মাথা ফাঁটিয়ে দেয়। ঘটনার পরেই সেই এলাকার জেলে কুদ্দুস গাজী, শফিক খাঁন, রফিক খাঁন, শরীফ পাটওয়ারী, মফু খাঁন, নুরু ইসলাম,জাকির দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে আহত করে।
এলাকার কয়েকজন জানায়, সরকারের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে রাতের আধাঁরে নদীতে কারেন্টে জাল ফেলে জেলেরা জাটকা ইলিশ নিধন করছে। প্রতিদিন রাতে জাটকা মাছ ধরে পুরানবাজার রওনাগোয়াল এলাকায় মেঘনা নদীর পাড়ে বিক্রী করছে। নৌ-পুলিশের সাথে টাকার বিনিময়ে সমাযোতা করে নদীতে জাটকা মাছ ধরে জেলেরা বিক্রী করে।
প্রশাষন এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে নদীতে মাছ ধরা করা যাবে না ও সরকারের জাটকা নিধন বন্ধ করার উদ্দ্যেশ ব্যর্থ হবে।
