প্রতিনিধি

ণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী, চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম বলেছেন, মতলবের মানুষ ঢাকাসহ শহরে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত। উচ্চ পদে যারা আছেন তারা কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া গ্রামে আসেন না। আমি ঢাকায় এক সুধী সমাবেশে বলেছি, যারা উচ্চ পদে চাকুরি করেন তারা গ্রামে গেলে দোষ কী। গ্রামে গিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারেন। আমরা সবাই মিলে মতলবকে সাজিয়ে তুলতে পারি। তিনি আরো বলেন, আমি ১৯৯৭ সালে প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলাম। সে সুযোগে আমি এলাকার জন্য কি কাজ করেছিলাম তা আপনারা জানেন। মতলবের ব্রিজ নির্মাণ প্রক্রিয়ার কাজ আমি ৪ বছরে বারোআনা করে দিয়ে গেছি। আমার পরে ১৩ বছরে কেউ ব্রিজটি করতে পারেনি। আমি মতলবকে উপ-শহর হিসেবে উন্নতি করবো। জুন মাসের মধ্যে ধনাগোদা নদীর উপর দুই মতলব সংযোগ সেতুর কাজ শুরু হবে। এ সেতুটি মতলব উত্তরের জন্য অনেক জরুরি। এটি হলেই গ্যাস নিয়ে আসবো মতলব উত্তরে। গ্যাস আসলে মতলবে শুরু হবে কলকারখানা নির্মাণের হিড়িক। অপেক্ষা করুন, জমি বিক্রি করবেন না। ব্রিজ হয়ে গেলে মতলবের জমি সোনা হয়ে যাবে। জমির দাম হবে ঢাকার চেয়ে বেশি। তিনি বলেন, স্বল্প সময়ে ঢাকা যাওয়ার জন্য কালিপুর দিয়ে ফেরি দেয়া হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা স্থান ভিজিট করে গেছেন। আগামী মাসেই ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে। তিনি বলেন, ক্রীড়ার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে অনেক সুনামের সাথে এগিয়ে চলছে। খেলাধুলায় মতলবেরও সুনাম রয়েছে। মতলব উত্তর উপজেলা মাঠকে মিনি স্টেডিয়ামে রূপান্তরিত করা হবে। পর্যটন কেন্দ্রটির উন্নয়ন এবং ২০১৪ ও ২০১৫ সালের মধ্যে মতলবে কোনো ঘর বিদ্যুৎ ছাড়া থাকবে না ও প্রতি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। মতলবের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারে এবং ভালো থাকবে।
গতকাল শুক্রবার মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দশ সাকিবের সন্ধানে (স্কুল ও মাদ্রাসা ভিত্তিক) ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ, উপজেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা শিক্ষা সমিতি আয়োজিত সংবর্ধনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মায়া চৌধুরী উপরোক্ত কথাগুলো বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু আলী মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষক ও শিক্ষানুরাগী প্রকৌশলী মমিনুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী, ছেংগারচর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব রফিকুল আলম জর্জ ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি শহীদ উল্লা প্রধান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আশ্রাফুল আলম। সভা পরিচালনা করেন উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম ও প্রচার সম্পাদক কামরুজ্জামান হারুন। সভা শেষে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সভাপতি মাইনুল ইসলাম খান নিখিল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস ও সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদার, ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল হক চৌধুরী বাবুল, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান জহির ও সাধারণ সম্পাদক কাজী শরীফ, উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক তানজিদ সরকার রিয়াদ, উপজেলা বিভাগীয় কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানবৃন্দ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সুধীজন।
