
স্টাফ রিপোর্টার:
চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারের যে কথা সে কাজ। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে বলেছিলেন, ‘অন্য জেলায় কী হচ্ছে সেটা আমার দেখার দায়িত্ব না। এ জেলার (চাঁদপুর) মানুষ চাচ্ছে সড়কে চলাচল নিষিদ্ধ ট্রাক্টর চলবে না, ব্যস্ এটাই আমি বুঝি। এটাতে কোনো ছাড় নেই। এবার তিনি যত বড় ক্ষমতার ব্যক্তিই হোন না কেনো।’ সেদিন তিনি খুব কঠিনভাবে এ ঘোষণা দিলেন, সেদিন থেকেই সারাজেলায় শুরু হয়ে গেলো অ্যাকশন। জেলার আট থানার পুলিশ ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে নেমে গেলো। শুধু আটকই নয়, ট্রাক্টরের চাকাও ছিদ্র করে দেয়া হচ্ছে। রাস্তায়ই নয়, এখন বাড়িতে গিয়েও হানা দিচ্ছে পুলিশ। প্রতিদিনই এখন ট্রাক্টর আটক হচ্ছে। গত নয় দিনে জেলায় শতাধিক ট্রাক্টর আটক করেছে থানা পুলিশ।
গত ১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম তাঁর কার্যালয়ে চাঁদপুরের সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। সে সভায় সাংবাদিকরা সড়কে ট্রাক্টর চলাচলের বিষয়টি তুলে ধরেন। সাংবাদিকরা পুলিশ সুপারকে জানান, শুধুমাত্র চাঁদপুর শহরের নতুনবাজার এলাকায় ট্রাক্টর চলাচল করছে না। এছাড়া সদর উপজেলাসহ সকল উপজেলায় ট্রাক্টর নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। পুলিশ সুপারকে এ বিষয়টি কঠোরভাবে দেখার অনুরোধ জানান সাংবাদিকরা। বলতে গেলে সেদিন রাত থেকেই অ্যাকশন শুরু হয়ে যায়। ট্রাক্টরের বিরুদ্ধে জেলাব্যাপী শুরু হয় সাঁড়াশি অভিযান।
জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে জানা যায়, গতকাল ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নয় দিনে জেলায় মোট ১শ’ ১৫টি ট্রাক্টর আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আটক হয়েছে হাজীগঞ্জে। এ উপজেলায় প্রায় অর্ধশত ট্রাক্টর আটক হয়। অনেক ট্রাক্টরের চাকা ছিদ্র করে দেয়া হয়। এদিকে অভিযানের ভয়ে যারা ট্রাক্টর আপাতত রাস্তায় নামায় নি, বাড়িতে রেখে দিয়েছে, পুলিশ সেখানে গিয়েও হানা দিয়েছে। পুলিশের এ অ্যাকশনে খুশি সাধারণ জনগণ। তারা পুলিশ সুপারের এ কঠোর মনোভাবকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করে, ট্রাক্টর নামক এ অবৈধ যন্ত্রদানবটি সড়কে চলাচল বন্ধ হলে মানুষের জানমাল রক্ষা পাবে এবং রাস্তাগুলোও অল্প সময়ে ধ্বংস হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাবে।
