চাঁদপুর শহরের চৌধুরী মসজিদ এলাকায় রডবোঝাই ট্রাক চাপায় কাঁচামাল
বহনকারী শ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে এখন মৃত্যুপথযাত্রী। হারুন গাজী (৪৫) নামে এ
নিরীহ শ্রমিকের বাঁচার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানা গেছে। তার বাড়ি চাঁদপুর
শহরের তরপুরচ-ী এলাকায়। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক পৌনে ২টার সময় এ
ঘটনা ঘটে।
ঘটনার প্রতিবাদে শ্রমিক হারুনের সহকর্মী পালবাজারের কাঁচামালের আড়তের
শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা ঘাতক ট্রাকটি ভাংচুর করে এবং প্রায় দুই
ঘণ্টা সে এলাকার সকল সড়ক অবরোধ করে রাখে। এমনকি আজিজ ব্রাদার্সের মালিক আঃ
আজিজ মিয়াজীকে শ্রমিকরা অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশ তাকে জনরোষ থেকে রক্ষা
করে ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় পুলিশ মালবাহী ট্রাকটি আটক
করে থানায় নিয়ে যায়। ট্রাকের মালিক হচ্ছেন ছমিদ মাঝি।
দুপুর প্রায় ২টার সময় ঘটনাস্থল পালবাজার ব্রিজ এলাকা এবং চৌধুরী মসজিদ
এলাকায় এসে দেখা যায়, চতুর্মুখী সড়ক অবরোধ। রাস্তায় এলোপাতাড়ি ভ্যানগাড়ি
ফেলে এবং বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জড়ো হয়ে পুরো সড়ক অবরোধ করে রাখে। তখন শত শত
শ্রমিক ‘খুনি আজিজের ফাঁসি চাই ফাঁসি চাই’ শ্লোগানে উত্তাল ছিলো। কখনো
কখনো শ্রমিকদের মারমুখী হয়ে আজিজের দোকানের দিকে ধেয়ে যেতে দেখা যায়। এক
সময় আজিজ বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের রোষানলে পড়ে। তখন পুলিশ কৌশলে আজিজকে জনতার
রোষানল থেকে রক্ষা করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে দেয়।
এদিকে ঘটনাস্থলে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নাসিম উদ্দিন তাঁর সঙ্গীয়
ফোর্সসহ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তাঁকেও হিমশিম খেতে হয়েছে।
একপর্যায়ে পুলিশের গাড়ি বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের রোষানলে পড়ে। ওসি নাসিম উদ্দিন
এ সময় হ্যান্ড মাইক দিয়ে শ্রমিকদের শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান। পরে পুলিশ
অনেক চেষ্টা করে রাস্তা থেকে শ্রমিকদের তুলে নিয়ে রাস্তায় যান চলাচল
স্বাভাবিক করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক শান্ত জানান, পালবাজারের আনোয়ার ট্রেডার্সের
কাঁচামাল পিকআপ থেকে আনলোড করছিলো শ্রমিক হারুন গাজী। তিনি মূলত কাঁচামাল
ব্যবসায়ী হারুন পাটওয়ারীর আড়তের শ্রমিক। হারুন কাঁচামাল আনলোড করতে পিকআপের
সাথে দাঁড়ানো ছিলো। আর তখনই আজিজ ব্রাদার্সের অপর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রহিম
ব্রাদার্সের (পূবালী ব্যাংক ভবনের নিচ) একটি রডবোঝাই ট্রাক সেখানে এসে
পার্কিং করার সময় ট্রাকটি শ্রমিক হারুনকে চাপা দেয়। তার মাথা, চোয়াল ও
শরীরে মারাত্মক আঘাত পান। ফেটে যাওয়া স্থান থেকে এবং শরীরের জখমের স্থান
থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকে। তাকে অজ্ঞান ও মুমূর্ষু অবস্থায় তার
সহকর্মী শ্রমিকরা তাকে সাথে সাথে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে
যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে ঢাকা
মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত শ্রমিক
হারুনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, আজিজ ব্রাদার্স এবং রহিম ব্রাদার্সের মালবাহী
ট্রাক একই সময় কয়েকটি একসাথে এসে পুরো এলাকার রাস্তা দখল করে রাখে। তাদের
শ্রমিকরা খুবই বেপরোয়াভাবে ট্রাক থেকে রড আনলোড করে এবং দোকান থেকে রড
ট্রাকে লোড করে। অথচ এ এলাকার সড়কটি খুবই জনবহুল একটি সড়ক। এখানে দিনরাত শত
শত মানুষ পায়ে হেঁটে এবং ছোট যানবাহনে চড়ে চলাচল করে থাকে। আজিজ ও রহিম
ব্রাদার্সের এ মালামাল লোড-আনলোড করার অব্যবস্থাপনার কারণে বহু মানুষ হতাহত
হয়েছে। আঃ আজিজকে এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় আসার জন্যে বহুবার বলা
হলেও তিনি কোনো কর্ণপাতই করেননি। এ কারণে শ্রমিকরা গতকালকের ঘটনায় তার উপর
বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে।
