পবিত্র মাহে রমজানে মুমিন মুসলমানরা দিনে রোজা রাখেন এবং রাতে এশার নামাজের পর ২০ রাকাত তারাবীহর নামাজ নিয়মিত আদায় করে আসছেন। ইদানীং বিভিন্ন মসজিদে কিছু সংখ্যক মুসলি্ল ৮ রাকাত তারাবীহ নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বের হয়ে যান। যা অতীতে কখনো দেয়া যায় নি। এ নিয়ে মুসলি্লদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে।
গত ১৮ রমজান সোমবার চাঁদপুর শহরের বেগম জামে মসজিদে দেখা যায়, ২০ রাকাত তারাবীহ নামাজ আদায় না করে কিছু সংখ্যক মুসলি্ল ৮ রাকাত আদায় করে বের হয়ে যায়। প্রায় প্রতিটি কাতার থেকে ২/১ জন করে ৮ রাকাত আদায়কারী মুসলি্ল বের হয়ে গেলে কাতারগুলো ফাঁকা হয়ে যায় এবং নামাজের মাঝখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এহেন অবস্থায় ২০ রাকাত আদায়কারী মুসলি্লরা ইমাম সাহেবের কাছে জোর দাবি জানান যারা ৮ রাকাত পড়ে তারা মসজিদের পেছনের কাতারে নামাজ পড়তে। আরো ক’জন মুসলি্ল বলতে থাকেন এরা ইদানীং মসজিদে ৮ রাকাত তারাবীহর নামাজ আদায় করে এবং নামাজের পর মোনাজাত দেয় না আবার বিতর নামাজ না পড়ে ফেতনা সৃষ্টি করছে। এরা ফেতনার জন্য মসজিদে আসে। এরা যদি ৮ রাকাত পড়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে চায় তাহলে তাদের মসজিদে না আসা উচিত। ৮০ ঊধর্ে্বা এক মুসলি্ল বলেন, আমরা ছোট বেলা থেকেই তারাবীহ নামাজ ২০ রাকাত পড়ে আসছি। ওরা আবার কারা তারা ৮ রাকাত পড়ে। আবার দেখি মাথায় টুপি নেই। কি যে অবস্থা।
এ ব্যাপারে কথা হয় বেগম জামে মসজিদের খতিব মুফতি মোঃ মাহবুবুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, তারাবীহ নামাজ ২০ রাকাত চার মাযহাবের ইমামের ঐক্যমত। তারাবীহ নামাজ শুধু বাংলাদেশে নয়, সারা পৃথিবীতে ২০ রাকাত আদায় করা হয়। যারা ৮ রাকাত তারাবীহ নামাজ বলে আদায় করে এর সপক্ষে কোনো দলিল নেই। বরং আল্লাহর রাসূল রমজানে ও রমজানের বাইরে ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ নামাজ পড়তেন। এখন এরা যদি সে মতে পড়েন তাহলে এ নামাজ মসজিদে না এসে ঘরে পড়াই তাদের জন্য ভালো।

