প্রতিনিধি
মালবাহী মিনি হ্যান্ড গাড়ি চুরির সাথে জড়িত মূল হোতাদের এখনও আটক করতে পারেনি পুলিশ। কিন্তু গাড়ি কেনা ক্রেতাসহ সন্দেহভাজন ক�জনকে নিজ গাছতলা এলাকা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর অনুরোধের বিনিময়ে সন্দেহভাজন আটককৃতদের মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে ছেড়ে দেয় জেলা ডিবি পুলিশ। ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার রাতে। ফরিদগঞ্জের রূপসা বাজার এলাকার আলোনিয়া গ্রাম থেকে চুরি হওয়া মালবাহী মিনি হ্যান্ড গাড়ির মূল চোর ও তার সহযোগীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
জানা যায়, নিজ গাছতলা এলাকার রাসেল পাঠান ও ইব্রাহীম রমজানের আগের দিন ২৯ জুন বেড়াতে যান ফরিদগঞ্জের রূপসা এলাকায়। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে তারা দু�জন নেশাখোর। ওইদিন রাতে তারা আলোনিয়া গ্রামে গাঁজা সেবন করতে ছিলেন। এ সময় ওই এলাকার অপরিচিত গাড়ি চালক জসীম তাদের সাথে এসে যোগ দেয়। নেশাগ্রস্ত অবস্থায় জসীম বলতে থাকেন তার ভাইয়ের একটি গাড়ি আছে সেটা বিক্রি করবেন। গাড়িটি ছোট হলেও মুদি মালামাল বহন করা যায়। এ কথা শুনে রাসেল পাঠান ও ইব্রাহীম ওই দিন রাতেই গাড়িটি ইব্রাহীমদের স� মিলের সামনে নিয়ে আসে। ইব্রাহীমের ব্যবসায়িক পার্টনার ফজলুকে বলে গাড়িটি বিক্রি করে দেয়ার জন্য। ফজলু নিজ গাছতলা এলাকার গাড়ি চালক আব্বাসকে ডেকে নিয়ে আসে গাড়ি কেনার জন্য। কিন্তু তার কাছে টাকা না থাকায় সে অপারগতা জানায়। সে বিক্রেতাদের জানায় মীম ভ্যারাইটিজ স্টোরের মালিক শরীফ পুরাতন একটি গাড়ির সন্ধান পেলে তাকে জানাতে
বলেছিলেন। এ সময় তারা সকলে মিলে শরীফের কাছে নিয়ে আসে গাড়িটি বিক্রি করার জন্য। গাড়িটির দাম উঠে ৫০ হাজার টাকার মতো। সে সময় শরীফ ২০ হাজার টাকা দেবে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সামনে স্ট্যাম্পের বিনিময়ে রাসেল পাঠান ও ইব্রাহীমের কাছ থেকে নিয়ম অনুযায়ী গাড়ি ক্রয় করেন। এর মধ্যে ওই টাকা রাসেল ও ইব্রাহীম ভাগ করে নিলেও গাড়ি চোর জসীম কোনো টাকাই পায়নি।
একই এলাকার পার্শ্ববর্তী বাড়ির লাল গাজীর ছেলে কালু গাজী বিষয়টি জানতে পারেন। গাড়ির উপরে থাকা মোবাইল নম্বর থেকে গাড়ির মূল মালিককে বিষয়টি জানিয়ে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে আসার জন্য বলে কালু গাজী। গাড়ির মালিক বিষয়টি জেলা ডিবি পুলিশকে অবগত করেন। জেলা ডিবি পুলিশের এসআই সিরাজুল ইসলামের পরামর্শে গাড়ির মালিক ফোন করেন কালু গাজীকে যে তিনি টাকা নিয়ে এসেছেন। এ সময় কালু শহরের ওয়ারলেস বাজার এলাকার এম কে ইলেকট্রনিকের ওয়ালটন শোরুমে অবস্থান করলে ডিবি পুলিশ তাকে সেখান থেকে আটক করেন। তার তথ্য অনুযায়ী ডিবি পুলিশ গাড়ি ক্রয়কারী শরীফ (২৮), আব্বাস (৩২), কালু গাজী (৩৫) ও রাসেল পাঠান (২৪)কে আটক করে এসপি অফিসের নিচে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। আটককৃতদের লোকজন খবর পেয়ে তাদেরকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড মেম্বারদের নিয়ে আসেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিরীহদের ছেড়ে দেবার জন্য ডিবির এসআইকে অনুরোধ জানালে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের কাছ থেকে সে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এ সময় চেয়ারম্যান তার গুরুত্বপূর্ণ কাজে চলে যান ইউপি সদস্যকে রেখে। ডিবি পুলিশের এসআই ওই জনপ্রতিনিধি ও আটক শরীফ, আব্বাস ও কালু গাজীর পরিবারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা আদায় করে নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেন। ডিবি পুলিশ এ সময় চুরি গাড়ি বিক্রির সাথে জড়িত রাসেল পাঠানকে মাদকসহ ধরলেও টাকার বিনিময়ে তাকে ছেড়ে দেন। আটককৃত কালু গাজী সহ অন্যান্যদের ছেড়ে দেয়ার ব্যাপারে ওয়ারলেসবাজার এলাকার ওয়ালটনের শোরুমের স্বত্বাধিকারী কালাম পাঠান টাকার ব্যবস্থা করেন। গতকাল রোববার দুপুরে তার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না।
ডিবি পুলিশের হাতে আটককৃতদের মোটা অঙ্কের উৎকোচের বিষয়টি জেলা গোয়েন্দা অফিসার ইনচার্জ মোঃ আঞ্জুম ফেরদৌসের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা এসআই সিরাজ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করেন। বিষয়টি আমাদের নলেজের বাইরে।
জেলা ডিবি পুলিশের এসআই ও উৎকোচ গ্রহণকারী সিরাজুল ইসলামের সাথে এ বিষয়ে আলাপ করতে চাইলে তিনি বলেন, যাদেরকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদেরকে সন্দেহজনকভাবে আটক করা হয়েছিল। টাকা নেয়ার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি চুপ করে থাকেন।
ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামী ধরার ব্যাপারে পুলিশ সুপারের সাথে আলাপকালে পুলিশ সুপার মোঃ আমির জাফর উপস্থিত সংবাদকর্মীদের সামনে ডিবির এসআইকে নির্দেশ দেন মূল আসামীকে ধরার জন্য। তিনি বলেন, গাড়ি পাওয়া মূল মালিক যদি মামলা করতো তাহলে আসামীদের ধরতে অনেক সুবিধা হতো। তবে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
