
স্টাফ রিপোর্টার
পুলিশের মাদক বিরোধী চলমান অভিযানে চাঁদপুর শহরস্থ পুরাণবাজারে নিরাপরাধ ক’জনকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পৌর প্যানেল মেয়রের সাথে পুলিশের হট্টগোল দেখা দিলে অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী পুরাণবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু সাঈদের অপসারণ দাবি করে।
জানা যায়, গত ১০ জুন দিবাগত রাত প্রায় ১২টা নাগাদ পুলিশের ১টি দল পুরাণবাজার পশ্চিম শ্রীরামদী হরিসভা এলাকা হতে রক্সি (২৩), বাসু খান (৩০), সম্পদ সাহা (২০), নাঈম হোসেন (২১) ও বাবু বকাউল (২০) নামে ৫ জনকে আটক করে। এ আটকের সংবাদে এলাকার মানুষজনসহ তাদের অভিভাবকগণ নিজ এলাকার কাউন্সিলর পৌর প্যানেল মেয়র ছিদ্দিকুর রহমান ঢালীকে জানালে তিনি আটক ব্যক্তিদের ব্যাপারে খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারেন, তারা এলাকার নিরাপরাধ ও নিরীহ মানুষ। কোনো ধরনের অপরাধ বা মাদকের সাথে তারা জড়িত নয়। প্যানেল মেয়র তাদের সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে এবং এলাকাবাসীসহ আটককৃতদের পরিবারের অনুরোধে কর্মরত পুলিশের কাছে ছুটে যান। তিনি পুরাণবাজার নতুন রাস্তার কাছে পুলিশের গাড়িতে আটককৃতদের দেখতে পেয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়ার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু কর্মরত পুলিশ তাদেরকে ছাড়া যাবে না বললে এক পর্যায়ে প্যানেল মেয়র নিজের পরিচয় দিয়ে জানান, আপনারা মাদকাসক্ত ব্যক্তি, মাদক বিক্রেতা, ক্রেতাসহ সন্ত্রাসীদের আটক করেন আমাদের আপত্তি নেই। আমরা আপনাদের সহযোগিতা করবো। কিন্তু যাদের আটক করেছেন তারা তো মাদক বা অন্য কোনো অপরাধের সাথে জড়িত নয়। তাদেরকে আটক করবেন কেনো। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে পুলিশের কতিপয় সদস্য প্যানেল মেয়রের সাথে অশোভন আচরণ করে। তখন পুরাণবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জও ঘটনাস্থলে ছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় প্যানেল মেয়র হতভম্ব হয়ে যান। তিনি নিজের মানসম্মানের কথা চিন্তা করে ঘটনাস্থল থেকে ফিরে আসেন।
ইতিমধ্যে এ ঘটনার সংবাদ অনেকের কাছেই পৌঁছে যায়। ভোরের আলো ছাড়ানের সাথে সাথেই এ ঘটনায় ক্ষোভ জানাতে ক’ শ’ নারী-পুরুষ প্যানেল মেয়রের বাড়ির নিকট জড়ো হতে থাকে এবং তারা প্যানেল মেয়রের সাথে পুলিশের খারাপ আচরণের জন্য ক্ষোভ প্রকাশপূর্বক পুরাণবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জের অপসারণ দাবি করে। প্যানেল মেয়র উপস্থিত জনতাকে শান্ত থাকতে বলেন। তখন তিনি বলেন, আমার মেয়র আছে, কাউন্সিলরগণ আছেন, আমার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আছেন। তাঁরা ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। এ ব্যাপারে আপনারা শান্ত থাকুন। পুলিশ মাদকের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিচ্ছে। নিরীহ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, তা দেখার দায়িত্ব আমাদের রয়েছে। এলাকাবাসী পরে পৌরসভায় এসেও মিছিল করতে থাকে এবং পুরাণবাজারের আইসির অপসারণ দাবি করে। এ দিকে এ ঘটনায় পৌর কাউন্সিলরদের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারাও কলম বিরতিসহ পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করতে নিজেদের মাঝে দফায় দফায় মিটিং করলে পৌর মেয়রের হস্তক্ষেপে তা শান্ত হয়। এ দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে জন্য পৌর মেয়রসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক হয়।
এ ব্যাপারে পুরাণবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ আবু সাঈদের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান যে, প্যানেল মেয়রের সাথে সৃষ্ট ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। ঘটনার দিন রাতে পুলিশ সদস্যগণ কয়েকটি ভাগে বিভক্ত ছিলো। তিনি তখন অন্য একটি গ্রুপের সাথে অন্য স্থানে ছিলেন। এ দিকে গতকালও মাদক বিরোধী মিছিল করে এলাকাবাসী। পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানান এলাকাবাসী। তবে তারা এও বলেন, এখনো অনেক মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারী রয়েছে যাদেরকে পুলিশ চিনে। ইচ্ছা করলে যে কোনো সময় পুলিশ এদের আটক করতে পারে। এ দিকে আরো জানা যায়, যাদের আটককে কেন্দ্র করে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে পুলিশ তাদেরকে গতকাল সন্ধ্যায় ছেড়ে দিয়েছে।
