প্রতিনিধি
চাঁদপুরের ইলিশ। অনন্য স্বাদ, নাম আর খ্যাতিতে বিশ্বসেরা। এ জন্য দামও তুলনামূলক বেশি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে চাঁদপুরের ইলিশের চাহিদা আকাশচুম্বি। আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা বুকিং দিয়ে রাখেন। অর্থ বিনিয়োগ করেন। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইলিশ মৌসুম। এখনও জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না ইলিশের ঝাঁক। এ জন্য হতাশা জেলেদের, ব্যবসায়ীদের। তারপরও যে ইলিশ মিলছে তার জন্য রয়েছে কাড়াকাড়ি। বর্তমানে এক কেজির ওপরে ইলিশের মণ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায়। আর ৫০০ গ্রাম থেকে এক কেজির নিচে মণ বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকায়, যা সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে।
ইলিশের রাজধানী খ্যাত চাঁদপুরে এবার ইলিশ-সংকট। পদ্মা-মেঘনায় এবার ইলিশের ভয়াবহ আকাল। নদীতে ইলিশ নেই বললেই চলে। ইলিশের এই ভয়াবহ সংকটের কারণে চাঁদপুরের আমদানি-রফতানি কেন্দ্র অনেকটা অচল হয়ে পড়েছে। বর্তমানে মাত্র ১২৮ ব্যবসায়ী আমদানি-রফতানির কাজে নিয়োজিত আছে। বাকি ১৬৮ ব্যবসায়ী তাদের ব্যবসা অনেকটা গুটিয়ে ফেলেছে।
চাঁদপুর বড় স্টেশন এলাকায় গড়ে ওঠেছে বিশাল ইলিশ রফতানি কেন্দ্র। এখানে এক সময়ে আমদানি-রফতানির কাজে নিয়োজিত ছিল ২৯৬ ব্যবসায়ী। এখান থেকেই ইলিশ মৌসুমে গড়ে ২০০ কোটি টাকার হাজার হাজার মণ ইলিশ আমদানি-রফতানি হতো, যা থেকে সরকারের বিরাট অংকের রাজস্ব আয় হতো। কিন্তু এবার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
ইলিশ মৌসুমে যেখানে গত বছর ১০০ টনের বেশি ইলিশ দেশের অভ্যন্তরে সরবরাহ ছাড়া বিদেশে রফতানি হয়েছে। সেখানে এ বছর আগস্ট পর্যন্ত মাত্র ৩/৪ টন ইলিশ সরবরাহ সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চাঁদপুর রফতানি কেন্দ্র থেকে এসব ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে ট্রেনে ও বাসে পাঠানো হয়ে থাকে। আর সরকারও রাজস্ব পেতো। কিন্তু এবার ইলিশ-সংকটে রফতানি খুবই কম। সরকারের রাজস্ব আয়ও কম।
এ সংকট নিরসনে এখনই পরিকল্পিতভাবে নদী ড্রেজিং, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষণ থেকে পদ্মা-মেঘনার পানি রক্ষা, কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধ ও জাটকা নিধন প্রতিরোধ আরও কঠোর করার দাবি মাছ ব্যবসায়ীসহ ইলিশ বিশেষজ্ঞদের।
চাঁদপুর রফতানি কেন্দ্রের রফতানি ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের এক পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, চাঁদপুর বড় স্টেশন রফতানি কেন্দ্র থেকে ২০১৩ সালে ইলিশ মৌসুমে ১০০ টনেরও বেশি ইলিশ দেশের বিভিন্ন স্থানে রফতানি হয়েছে। টাকার অংকে যার পরিমাণ ২০০ কোটি টাকারও বেশি। এসব ইলিশ ট্রেনে ও বাসে রফতানি হওয়ায় সরকারের রাজস্ব আয়ও হতো। চাঁদপুর রেলওয়ে বড় স্টেশন টিওয়াইএ শহীদুল্লাহ জানান, ২০১৩ সালে ইলিশ মৌসুমে আগস্ট পর্যন্ত ইলিশ রফতানি করে ৩ লক্ষাধিক টাকা সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে। কিন্তু চলতি বছর আগস্ট পর্যন্ত ট্রেনে ইলিশ রফতানি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। অর্থাৎ সরকারের রাজস্ব আয় ৫০% কমে গেছে। এছাড়াও ট্রাকে প্রচুর ইলিশ রফতানি হচ্ছে।
চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ ইদ্রিছ আলী গাজী এবং সচিব উত্তম কুমার দে জানান, ইলিশ সংকটের কারণে চাঁদপুরে আমদানি-রফতানিকারকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এসব ব্যবসায়ীরা ইলিশ মৌসুমে ১০০ কোটি টাকারও বেশি দাদন দিচ্ছে ১০ হাজার জেলে ও ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ীদের। আর এ টাকার ৮৫% ব্যাংক থেকে সিসি লোন ও ১৫% কিস্তিতে নিয়ে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে নদীতে ইলিশ না থাকায় জেলে ও ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ীরা টাকা ফেরত বা মাছ দিতে পারছে না। এতে লোনের সুদ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মূল ব্যবসায়ীরা।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট নদী কেন্দ্র চাঁদপুরের ইলিশ গবেষক ও মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোঃ আনিছুর রহমান জানান, ইলিশের ভরা মৌসুম সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে। সে সময় ইলিশ প্রচুর ধরা পড়বে। তিনি ইলিশ সংকটের কারণ হিসেবে বঙ্গোপসাগর মুখে ডুবোচর, মেঘনা নদীতে ডুবোচর, নদীর গভীরতা হ্রাস, পরিবেশগত পরিবর্তন, নদী দূষণ, নির্বিচারে জাটকা নিধন, অধিকমাত্রায় ডিমওয়ালা ইলিশ আহরণ ও কারেন্ট জালের অবাধ ব্যবহার বলে উল্লেখ করেন। – See more at: https://www.jugantor.com/economics/2014/08/17/135828#sthash.Gy4ZHz9R.YyCNyjWc.dpuf
শিরোনাম:
রবিবার , ৩ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২০ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
