প্রতিনিধি
নিজের ক্রয়কৃত বাজারের বিষাক্ত তরমুজ খেয়ে পাইকদী গ্রামে ১ নারীর মৃত্যু হয়েছে। আর অপর ১ নারী অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের পাইকদী গ্রামে। জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল পাইকদী গ্রামের শ্রমজীবী জয়নাল খানের স্ত্রী ১ সন্তানের জননী শিল্পী বেগম (২৫) তার বাপের বাড়ি সফরমালী হতে পাইকদী গ্রামে আসার পথে একটি তরমুজ ক্রয় করেন। ঐ তরমুজ খেয়ে শিল্পী বেগম অসুস্থ হয়ে পড়েন। বাড়ি ও আশেপাশের লোকজনের পরামর্শে তাকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য চাঁদপুরের একটি প্রাইভেট হাসপাতালের সামনে নিয়ে আসলে রাত ৯টায় তিনি মারা যান। অপর দিকে গত ২৫ এপ্রিল একই গ্রামের মৃত রুস্তম খানের স্ত্রী তারা বানু (৫৫) তরমুজ খান। তিনিও অসুস্থতা বোধ করলে চিকিৎসার জন্যে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ রয়েছেন।
বর্তমানে বাজারে যে সকল তরমুজ রয়েছে সে সকল তরমুজগুলোতে বিষাক্ত তরল পদার্থ ঢুকিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। আর এ তরমুজ খেয়ে মারা যাওয়াসহ অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইউপি সদস্য মোস্তফা খান জানান, শুনেছি তরমুজ খেয়ে শিল্পী বেগম নামে আমার এলাকার এক নারী মারা গেছেন। চাঁদপুর শহরের পালবাজার এলাকায় ভ্যানে করে তরমুজ বিক্রেতা মোঃ হোসেন জানান, আমরা ঘাট থেকে তরমুজ কিনে এনে বিক্রি করে থাকি। মেডিসিন দেয়ার ব্যাপারে আমার জানা নেই। চাঁদপুর কালী বাড়ি এলাকায় তরমুজ বিক্রেতা জহিরুল ইসলাম জানান, চৌধুরীঘাট থেকে তরমুজ কিনে এনে বিক্রি করি। বিষক্রিয়া ও রং আছে কিনা আমার জানা নেই। চাঁদপুর চৌধুরী ঘাটের তরমুজ ব্যবসায়ী কবির ট্রেডার্সের মালিক কবির খান জানান, বেপারীদেরকে টাকা দিয়ে দেই। তারা ভোলা থেকে তরমুজ নিয়ে আসে। আমরা বেপারী থেকে বুঝে নিয়ে বিক্রি করি। মেডিসিন মেশানো হয়েছে কিনা তা আমাদের জানা নেই।
চাঁদপুর আড়াইশ� শয্যা বিশিষ্ট সরকারি জেনারেল হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার (সার্জারী) ডাঃ মাহমুদুন্নবী মাসুম জানান, তরমুজটাকে লাল দেখানোর জন্যে বিভিন্ন কেমিক্যাল, (রং) প্রবেশ করানো হয়। তাজা ও সতেজ রাখার জন্যে রাসায়নিক পদার্থ এবং ফরমালিন ব্যবহার করা হয়। কিন্তু উভয়টা বিষ। এটা মারাত্মক ক্ষতিকর। আর ওই সকল বিষাক্ত জিনিস খেয়ে মানুষ অসুস্থ হওয়াসহ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আঃ কাইয়ুম জানান, ভেজাল বিরোধী অভিযানের আওতায় এটা পড়ে। অভিযানের মাধ্যমে ভেজাল মিশ্রিত তরমুজ বিক্রেতাদের আইনের আওতায় নেয়া প্রয়োজন। চাঁদপুর জেলা ক্যাবের সভাপতি জীবন কানাই চক্রবর্তী জানান, তিনটি গবেষণাগারে তরমুজের ভেজাল বিষয়ে পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা যাবে না।
