স্টাফ রিপোর্টার॥ চাঁদপুর জেলা শহরের পুরাণবাজারে জাটকা নিধন থেমে নেই। ইলিশ অভয়াশ্রম রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা সময়ের মধ্যে এই এলাকার ৩টি স্পটে অভিযানের দুই-তিন পর থেকেই শুরু হয় ইলিশসহ জাটকা নিধন। যা এখনো চলছে বলে এলাকা সূত্রে জানা যায়। টেম্পু ইলিশসহ জাটকা নিধন ক্রয়-বিক্রয়ের আড়ৎদারী করে পুরাণবাজারের ৬ জন স্থানীয় যুবনেতা কামিয়ে নিয়েছে লাখ-লাখ টাকা।তাদের দুইজন ওয়ার্ড পর্যায়ের যুবদল এবং অন্যরা যুবলীগ নেতা।
জাটকা ধরার চিহ্নিত স্পটগুলো হচ্ছেঃ পুরাতন ফায়ার সার্ভিস মাঠ সংলগ্ন শহর রক্ষা বাঁধের তালগাছ তলা। হরিসভা মন্দির কমপ্লেক্সের বিপরীত নদীরপাড় ব্লকের ওপর,রনাগোয়াল টেলু ঢালীদের বাগান ও জাফরাবাদের বার্বুচিঘাট। পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ড এবং সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের প্রায় শতাধিক জেলে সরকারি চাউল খাচ্ছে এবং তারা জাটকাও ধরছে।
একটি সুত্র জানায়, পুরাতন ফায়ার সার্ভিস তালগাছতলা ও হরিসভা এলাকায় প্রায় ২০জন জেলে নদীতে যায় এবং জাটকা ধরে। পশ্চিম শ্রীরামদীর রনাগোয়াল ঢালী বাড়ি বাগানঘাটে এবং বার্বুচিঘাটে দাদন দেয়া জেলেদের প্রায় ২৫টি নৌকা জাটকা ধরছে।এরা এলাকায় রাজনৈতিক ও সন্ত্রাসী প্রভাব খাটিয়ে প্রতি বছর এ চক্রটি আইন অমান্য করে কারেন্ট জালের জেলেদের নদীতে নামায় এবং জাটকা ধরায়। মা ইলিশ রক্ষার প্রজনন সময়েও নিষেজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার চালানোরও অভিযোগ রয়েছে ওই চক্রটির বিরুদ্ধে। চাঁদপুর শহরের নৌ-পুলিশ ষ্টেশনের পাশে লঞ্চঘাটের টিলা বাড়ি নামক স্থানে আগে ভরপুর জাটকা ধরা এবং বিক্রি হতো। প্রশাসনের কঠোর নজনদারিতে সেখানে নিষেধাজ্ঞার সময়ে জাটকা ধরা কমে আসলেও পুরাণবাজারের উল্লেখিত চিহ্নিত স্পটগুলিতে জাটকা নিধন প্রশাসন বন্ধ করতে পারছেনা। হচ্ছে না বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। এবার পুরাণবাজারে বিপুল পরিমানে জাটকা ধরা হয়েছে। মধ্যশ্রীরামদী,মোম ফ্যাক্টরী,রিফিউজি কলোনী,ম্যারকাটিজ রোড উত্তর এবং দক্ষিন এলাকার মহল্লা, মেয়র সড়কের ওপর বসানো বাজারে,হরিসভা,পশ্চিম শ্রীরামদী,ঘোষপাড়া,পালপাড়া,রয়েজ রোড,জাফরাবাদ ,পূর্বশ্রীরামদী,দোকানঘর,রঘুনাথপুর এলাকার বাড়ি-বাড়ি এবার প্রচুর পরিমানে জাটকা বিক্রি হয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী। এ সব এলাকার অধিকাংশ মানুষের ঘুম ভেঙ্গেছে জাটকা ক্রয়-বিক্রযের হাঁক-ডাক,চিৎকার চেচামেচিতে। পুরাণবাজার ফাঁড়ি পুলিশ কয়েক দফা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমানে কারেন্টজাল এবং জাটকা জব্দ কররেও দুর্বৃত্তদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এলাকাবাসীর সহযোগিতা, রাজনৈতিক দলের নেতাদের হস্তক্ষেপে এবং প্রশাসনের কঠোর ভুমিকাই পারে চিহ্নিত ওই এলাকার জাটকা নিধন বন্ধ করতে ,এমন মতামত পর্যবেক্ষক মহলের।চিহ্নিত কয়েকজন দুর্বৃত্ত রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে তারা ব্যাক্তি স্বার্থে জাতীয় ইলিশ মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে নিজেরা লাভবান হয়েছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক , পুলিশ সুপার,পৌর মেয়রসহ রাজনৈতিক অন্যান্য নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন এলাকাবাসী
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
