প্রতিনিধি
চাঁদপুর শহরের পুরাণবাজার এলাকার স্কুলগামী মেয়েরা প্রতিদিন বখাটেদের উত্ত্যক্তের শিকার হচ্ছে বলে অভিভাবকদের অভিযোগ। স্কুলে যাওয়া ও ছুটির সময় বাড়ি ফেরার কালে এলাকা ভিত্তিক ছেলেরা মেয়েদের পিছু নেয়। তারা রাস্তায় বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় মেয়েদের ইভটিজিং করে। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক জাফরাবাদ ও পূর্ব শ্রীরামদী এলাকার ক�জন সচেতন নাগরিক জানায়, পুরাণবাজার লোহারপুল, আল-আমিন মিল চত্বর, চালতা গাছতলা, পালপাড়া সড়ক, হাফিজিয়া মাদ্রাসা ব্রিজ, বটতলা স্কুল, মদিনা রাইস মিল ব্রিজ ও দাসপাড়া মোড় এলাকায় স্কুলগামী মেয়েদের পিছু নিয়ে তাদেরকে উত্ত্যক্ত করছে বখাটেরা। রাস্তায় মেয়েদের কাছ থেকে মোবাইল নাম্বার চেয়ে অনেকে তাদের নাজেহাল করছে। মধুসূদন স্কুল সম্মুখ, খেলার মাঠ, পলাশের মোড়, নতুন রাস্তা, হরিসভা, পশ্চিম শ্রীরামদী এলাকায়ও বখাটেদের উৎপাত লক্ষ্যণীয়। স্কুলগামী মেয়েরা উত্ত্যক্তের শিকার হলেও বখাটেদের বিরুদ্ধে ভয়ে কেহ কিছু বলার সাহস পাচ্ছে না। অভিভাবকরা অপমানিত বোধ করায় প্রতিবাদ করছে না। অনেক অভিভাবক বাধ্য হচ্ছে মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ করে দিতে। ইভটিজিংয়ের কারণে সম্প্রতি পুরাণবাজার গার্লস হাই স্কুল কর্তৃপক্ষ মেয়েদের স্কুল বিরতির সময় রাস্তায় বের না হওয়ার নির্দেশ দেয়।
পুরাণবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আবু সাইদ এ ধরনের অভিযোগ শুনে কিছুদিন আগে পালপাড়া ব্রিজের কাছে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ইভটিজারদের সতর্ক করে দেন। তারপরও এলাকার রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণির বিপথগামী তরুণ ও কিশোর রাস্তায় দাঁড়িয়ে নানা ভঙ্গিমায় মেয়েদের প্রেম নিবেদন করে এবং উত্ত্যক্ত করে আসছে। অভিযোগে আরো জানা যায়, গ্রাম এলাকা থেকে অনেক মেয়ে পুরাণবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, নূরিয়া পাইলট হাই স্কুল, হাফেজ মাহমুদা পৌর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এবং মধুসূদন হাই স্কুলে লেখাপড়া করতে আসছে। গ্রামের মেয়েরা বখাটেদের উৎপাতে অতিষ্ঠ। লোকলজ্জার ভয়ে তাদের অভিভাবকরা বাধ্য হচ্ছে তাদের মেয়েদের স্কুলে পড়ালেখা বন্ধ করে দিতে। প্রতিদিন স্কুল সময় ও ছুটির সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা একটু কৌশল অবলম্বন করলে মেয়েদের পিছু নেয়া এবং উল্লোখিত এলাকার দোকানপাট ও রাস্তার মোড়ে টহল দিলে ইভটিজিংয়ের বিষয়টি তাদের নজরে আসবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া সহজ হবে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা মনে করেন। এ ব্যাপারে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
