ফাহিম শাহরিন কৌশিক
চাঁদপুর শহরের নাজির পাড়া এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রতারণা করে টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে মির্জা হোসেন মিশু নামক এক প্রতারক। টাকা না দেয়ায় প্রতারক মিশুর অবৈধ মোটরসাইকেলটি ক্ষতিগ্রস্ত স্বপন আটক করে থানায় নিয়ে আসলে ভূয়া সাংবাদিক ও ‘অপরাধ চক্র’ পত্রিকার সংবাদাতা বলে নাম ভাঙ্গিয়ে মুরাদ হোসেন মূসা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে পুলিশকে ভয় দেখিয়ে তা ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতারকের বিরুদ্ধে চাঁদপুর মডেল থানায় স্বপন বাদী হয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করার পর তাকে প্রতারক চক্ররা বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানায়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিষ্ণুদী ব্যাংক কলোনীর সাত্তার খানের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম খান নাজির পাড়া মৃত ইসহাক মিয়ার ছেলে মির্জা হোসেন মিশুর দোকান তিন বছরের জন্য ৭৫ হাজার টাকা অ্যাডভাঞ্চ নিয়ে ভাড়া নিয়ে খান সুপার শপ নামে ব্যবসা শুরু করে। কিছুদিন যেতে না যেতেই প্রতারক মির্জা হোসেন মিশু দোকানসহ তাদের বাড়ি বিক্রির পাঁয়তারা শুরু করে। এসময় মিশু ব্যবসায়ী স্বপনের কাছ থেকে প্রতারণা করে দু’লাখ টাকা হাওলাত নেয়। স্বপন পাওনা টাকা তার কাছে চাইলে বাড়ি বিক্রি করে টাকা দিবে বলে সে জানায়। পরে জনৈক বিল্লাল হোসেনের কাছে দোকান ও বাড়ি বিক্রি করে উধাও হয়ে যায়। এঘটনায় ব্যবসায়ী স্বপন বাদী হয়ে ২০১৪ সালের ১৬ মার্চ চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে এসআই প্রদীপ কুমার তদন্ত করে থানায় আসার নোটিশ দেয়। অভিযোগ হয়েছে খবর শুনে প্রতারক মিশু শহরের কিছু লোকজন নিয়ে ব্যবসায়ী স্বপনের সাথে শালীসি বৈঠকে বসে। সেখানে স্বপনের দেয়া অ্যাডভাঞ্চ ৭৫ হাজার টাকা, নগদ ২ লাখ টাকা ও দোকানে থাকা ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার মালামালের ক্ষতিপূরন দিবে বলে স্বাব্যস্ত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৫ এপ্রিল প্রতারক মিশু টাকা দিবে বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু টাকা না দেয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত স্বপন ও ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সামনে থেকে মিশুর অবৈধ একটি ফেজার নীল রঙ্গের (ঢাকা-মেট্টো-ল ১৭-৪৯৫৪) ভূয়া নেমপ্লেটে মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে। অবৈধ মোটরসাইকেলের সামনে ইংরেজিতে প্রেস ইস্টিকার লাগিয়ে মিশু ও তার শ্যালক মুরাদ হোসেন মূসা প্রকাশ্যে শহরে গাড়ি চালাতো। গাড়িটি ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য অপরাধ চক্রের সংবাদদাতার নাম ভাঙ্গিয়ে ভূয়া সাংবাদিক মুরাদ হোসেন মুসা থানায় এসে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে পুলিশকে ভয় দেখিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। তার সহযোগি পুরাণবাজারের ডেকোরেটরের মিস্ত্রি এসআর শাহআলম ফোন করে ক্ষতিগ্রস্ত স্বপন ও পুলিশ চাঁদপুর মডেল থানার জনৈক এসআই চাঁদা দাবি করেছে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে।
একটি সূত্র জানায়, ভূয়া সাংবাদিক মুরাদ হোসেন মূসা ও তার ভগ্নিপতি মিশু চাঁদপুর শহরে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত রয়েছে। এর পূর্বে তারা বেশ কয়েকটি চোরাই মোটরসাইকেল এনে চাঁদপুরে বিক্রি করেছেন। এছাড়া রেলের লাইন চুরি করে ট্রাকে করে নেয়ার সময় বড় স্টেশনের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাদের আটক করে। মূসা সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রথমবারের মতো রক্ষা পায়। এভাবেই সে সাংবাদিকদের নাম বিক্রি করে প্রকৃত সাংবাদিকদের মান ক্ষুণœ করছে। এদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রতারণা থেকে মুক্তি পাবে জনগণ।
শিরোনাম:
রবিবার , ২৮ জুন, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৪ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
