
চাঁদপুর শহরে প্রবাসী স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রীর বিরুদ্ধে হত্যা
মামলা দায়ের করা হয়েছে। মৃত্যুর ৮ দিন পর সোমবার ৪ মে দুপুরে আদালতের
নির্দেশে মৃত খলিলুর রহমান মিন্টু মিজির (৪৫) লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য কবর
থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। এদিন চাঁদপুর সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের ২নং
ওয়ার্ড উত্তর বালিয়া (করেগো দোকান) মিজি বাড়ির কবরস্থান থেকে নির্বাহী
ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়।
উত্তর বালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল রহিম মিজির ছেলে খলিলুর রহমান মিন্টু
মিজি প্রায় ১৫ বছর যাবৎ সৌদি আরবে ছিলেন। গত ২৪ ডিসেম্বর দেশে আসার পরেই
পরিবার নিয়ে চাঁদপুর শহরের মমিনপাড়া বহরদার বাড়ি সড়কের নিজ বাড়িতে বসবাস
করেন। গত ২৪ এপ্রিল হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্ত্রী লায়লী বেগম
ডাক্তারের পরামর্শে ঢাকা নেয়ার পথে বাবুরহাটে মৃত্যুবরণ করেন। সেখান থেকে
লাশ নিয়ে এসে মহামারী করোনাভাইরাস পরিস্থিতির মধ্যে দ্রুত তার গ্রামের
বাড়িতে লাশ দাফন করে ফেলেন।
এ ঘটনায় প্রবাসী মৃত খলিলুর রহমান মিন্টু মিজির বড় বোন শেফালী বেগম বাদী
হয়ে ভাইকে হত্যার অভিযোগে তার স্ত্রী লায়লী বেগম ও শ্যালক সোহাগ জমাদার
(পিতা আঃ রশিদ জমাদার, সাং মদিনা বাজার, মদনা, চাঁদপুর সদর)-এর বিরুদ্ধে ১
মে ২০২০ চাঁদপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সেই মামলার প্রেক্ষিতে আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর
এসিল্যান্ড ইমরান হোসেন সজিবের উপস্থিতিতে পুলিশ ঘটনার আটদিন পর কবর থেকে
লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
মৃত মিন্টু মিজির বোন, চাচী ও ভাগি্ন জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ স্বামী-স্ত্রীর
মধ্যে টাকা পয়সা ও শহরের বাড়ি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। সেই দ্বন্দ্বের জের
ধরে স্ত্রী লাইলী বেগম ও শ্যালক সোহাগ জমাদার তাকে মেরে ফেলেছে।
করোনাভাইরাসের আতঙ্কের গুজব ছড়িয়ে আমাদের কাউকে লাশ দেখতে বাধা দেয় এবং
দ্রুত পারিবারিক কবরস্থানে রাতের অাঁধারে দাফন করে ফেলে। তারা এই ঘটনায়
অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসেন সজিব জানান, এই ঘটনায় একটি হত্যা
মামলা দায়ের করা হলে আদালতের নির্দেশে লাশটি উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য
মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মামলার আসামী প্রবাসীর স্ত্রী লায়লী বেগম জানান, গত ২৪ ডিসেম্বর
বিদেশ থেকে দেশে এসে তার স্বামী সুস্থভাবে জীবনযাপন করেছেন। হঠাৎ ২৪ এপ্রিল
তিনি বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়লে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ সালেহ
আহমেদকে দেখালে তার পরামর্শ মতে ঔষধ খাওয়ানো হয় এবং সুস্থ হয়ে উঠেন। পরে ২৬
তারিখে আবারো অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক্তারের পরামর্শে তাকে ঢাকা নেয়ার পথে
বাবুরহাটে তার মৃত্যু হয়। সেখান থেকে নিয়ে এসে করোনা পরিস্থিতির কারণে
রাতেই লাশ দাফন করা হয়। তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন বলে আমরা ধারণা করছি।
মৃত মিন্টুর স্ত্রী লায়লী বেগম বলেন, ননদ শেফালী বেগমের সাথে ৩ বছর পূর্বে
আমাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই কারণে সে ক্ষিপ্ত হয়ে এই মিথ্যা
অভিযোগে আমাদেরকে হয়রানি করছে।
মামলার বাদী এজহারে উল্লেখ করেন যে, ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে ২৬ এপ্রিল
রাত ১০টার সময় তার মমিনপাড়ার বাড়িতে গিয়ে ভাইয়ের মৃতদেহ দেখতে পান। তার
গলায় দাগ এবং মাথার পেছনের অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনার দিন বেলা ২টা হতে
৬টার মধ্য কোনো এক সময় মিন্টু মিজিকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা
হয়েছে।
বালিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার জাহিদ খান জানান, লোক মারফত জেনেছেন
তার এলাকার মিন্টু মিজি শহরের বাসায় স্ট্রোক করেছেন। জেনারেল হাসপাতালে
নিয়ে গেলে সেখানে রাখেনি। ঢাকা নেয়ার পথে সে মারা গেছে। পরে তার জানাজা ও
দাফন গ্রামের বাড়িতে হয়েছে।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সিরাজুল ইসলাম জানান, প্রবাসী
মৃত্যুর ঘটনায় তার বোন শেফালী বেগম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের
করেছেন। এই ঘটনায় আদালতের নির্দেশে আমরা লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য
মর্গে প্রেরণ করেছি। মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম চলবে।
