
করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতির কারণে মাঠ পর্যায়ে সরকারের যে কঠোর নির্দেশনা
ছিল, তা গত ক’দিন যাবত ঢিলেঢালা অবস্থায় ছিলো। নির্দেশনা শুরুর দিকে খুব
কঠোরভাবে মানা হলেও ২/৩ দিন পর প্রশাসনের তৎপরতা কিছুটা শিথিল হওয়ার সুযোগে
মানুষজন রাস্তায় নামতে শুরু করে এবং সব ধরনের যানবাহন আস্তে আস্তে রাস্তায়
নামা শুরু হয়। কিছু কিছু দোকানপাটও খুলতে শুরু করে। একপর্যায়ে ‘সব কিছুই
যেনো স্বাভাবিক হয়ে গেছে’ এমন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছে। অথচ করোনা পরিস্থিতি
দিন দিন ভয়াবহ অবস্থার দিকে যেতে থাকে। করোনা ভাইরাসের থাবা থেকে রক্ষা
পেতে সকল মানুষকে ঘরে অবস্থান করতে বলা হয় জেলা প্রশাসন থেকে। সব ধরনের
দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়।
এদিকে সরকারের এই নির্দেশনা অমান্য করে রাস্তায় মানুষ এবং যানবাহনের চলাচল
বেড়ে যাওয়ায় সরকার কঠোর অবস্থানে যায়। বুধবার রাতেই আইএসপিআর থেকে ঘোষণা
আসে বৃহস্পতিবার থেকে সেনাবাহিনী মাঠে কঠোর অবস্থানে থাকবে।
ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী মাঠে থেকে সরকারি নির্দেশনা
বাস্তবায়নে কঠোর ভূমিকায় থাকবে। গতকাল বৃহস্পতিবার চাঁদপুর শহরসহ সর্বত্রই এ
চিত্র দেখা গেছে। ম্যাজিস্ট্রেট, সেনাবাহিনী ও পুলিশকে দেখা গেছে কঠোর
অবস্থানে। চাঁদপুর সদর উপজেলায়ই ছিলো মোবাইল কোর্টের তিনটি টিম সক্রিয়। এই
তিনটি টিম ১৪টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে। এঁরা আইন অমান্য করায় বিভিন্ন
মানুষ ও দোকান থেকে মোট ৪ হাজার ৫০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। এছাড়া
নতুনবাজার ফাঁড়ি পুলিশ এবং মডেল থানা ও ট্রাফিকের যৌথ চেক পোস্ট ৯৮টি
সিএনজি অটোরিকশা, অটোবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা আটক করে সেগুলো পুলিশ
লাইন এবং ফাঁড়িতে রাখা হয়।
এদিকে গতকাল সকাল সাড়ে দশটার পর থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের এমন তৎপরতার
কারণে শহরের চিত্র মুহূর্তের মধ্যে পাল্টে যায়। সব অটোবাইক ও সিএনজি
অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। রিক্সা চলে একেবারেই সীমিত আকারে। মানুষও
অনেক কমে যায়। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই তৎপরতা শুধু শহরেই নয়,
গ্রাম পর্যায়েও ছিলো। সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও
ম্যাজিস্ট্রেট টহল দেয় এবং অভিযান চালায়। এতে করে পুরো চিত্র পাল্টে যায়।
প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপকে সচেতন মানুষ স্বাগত জানায়। মানুষের অবাধ
বিচরণে করোনা ভাইরাসের মতো ভয়ঙ্কর ব্যাধি যেনো চাঁদপুর জেলায় কোনোভাবেই
বিস্তার না করতে পারে সে জন্য প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে
সর্বস্তরের মানুষ।
