স্টাফ রিপোটার ॥
মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর বাজারে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটি লিঃ নামে একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের প্রায় ৪ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোরে সোসাইটির নারায়ণপুর অফিসে তালা দিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে যান বলে স্থানীয়রা জানান। একই সাথে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটির মতলব দক্ষিণ ও কচুয়া অফিসেও তালা ঝুলিয়ে কর্মকর্তারা পালিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানিয়েছেন।
এদিকে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটির পাস বই যা গ্রাহককে দেয়া হয়েছে তাতে সরকার অনুমোদিত কোনো রেজিঃ নম্বর এবং সংস্থার কোনো স্থায়ী বা অস্থায়ী ঠিকানা পাওয়া যায়নি। সে হিসেবে প্রতারিত গ্রাহকরা কোথায় গিয়ে টাকা চাইবে তার কোনো উত্তর খুঁজে পাচ্ছে না।
তবে জানা গেছে, গ্রামীণ কো-অপারেটিভ মাল্টিপারপাস সোসাইটির চেয়ারম্যান ওয়ালিউল্লাহ মাসুদ কচুয়া উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের বিতারা গ্রামের মোল্লা বাড়ির বাসিন্দা। তার সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।
জানা যায়, গত ২০০৮ সালের দিকে নারায়ণপুর বাজারে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ নামের এই আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে। এ সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয় ও এফডিআর বাবদ প্রায় ৪ কোটি টাকা আমানত সংগ্রহ করে। প্রতারক চক্র গ্রাহকদের জমাকৃত টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে প্রতারিত গ্রাহক মোঃ ইউসুফ প্রধান জানান, তিনি ২০১০ সালে ৫ বছর মেয়াদী ডিপিএস করেন। ডিপিএসে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। আগামী সপ্তাহে মেয়াদ শেষে তার জমাকৃত টাকা দেয়ার কথা। কিন্তু তার আগেই ভুয়া এ কোম্পানির কর্মকর্তারা উধাও হয়ে যায়। ইউসুফ প্রধানের মতো আরও অনেক প্রতারিত গ্রাহক অর্থ হারিয়ে সর্বশান্ত হওয়ার কথা জানান এ প্রতিবেদকের কাছে।
এদিকে গ্রামীণ কো-অপারেটিভ সোসাইটির ভাড়া বাড়ির মালিক মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, ২০১২ সালে সংস্থাটি ৫ বছরের জন্য আমার বাড়ি ভাড়া নেয়। আমি যথাযথ নিয়ম মেনে স্ট্যাম্পের মাধ্যমে তাদেরকে ভাড়া দেই। কিন্তু গত ৬ সেপ্টেম্বর সকালে গ্রাহকরা এসে অফিস বন্ধ দেখে আমাকে বিষয়টি জানায়।
