বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর অন্ত:সত্ত্বা কুমারী জেসমিন (১৬) হত্যা মামলার ডাবল চার্জশীটভূক্ত আসামী এলাকার অসংখ্য নারী কেলেংকারীর নায়ক আরেক রসুখা নূর ইসলাম প্রকাশ লেদা মাত্র ১৩ দিনের মাথায় জামিনে এসেই নিহতের হতভাগ্য পিতা বাদী মো: চুন্নু মিয়াকে সপরিবারে হত্যা করার হুমকি দেয়ার আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, বিবাদীপক্ষ সন্ত্রাসী লেদা গং মামলায় বাদী পক্ষকে সহায়তাকারী লোকজনদের একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে মারাত্মকভাবে হয়রানি করবে বলে এলাকার বিভিন্ন লোকজনদের কাছে বলে বেড়াচ্ছে। গত ২৫ জানুয়ারি ২০১৫ খ্রি: তারিখ রাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ হরিণা গ্রামের বিলের মধ্যে নিয়ে আসামীরা সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সুন্দরী তরুণী জেসমিনকে গলা টিপে হত্যা করে এবং হত্যার ক্লু ও মোটিভ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য লাশের মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে বিষের বোতল অর্ধেক বিষভরা অবস্থায় লাশের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, এলাকার অসংখ্য দুস্কর্মের হোতা জেলখাটা দাগী অপরাধী কুখ্যাত নূর ইসলাম লেদার আপন ভাগিনা সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বাবু বিয়ের প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে জেসমিনকে অন্ত:সত্ত্বা করে এবং পরবর্তীতে মামা লেদার কু-পরামর্শ মোতাবেক প্রেমিক বাবু বন্ধু মিরাজকে সাথে নিয়ে হত্যাকান্ড সংঘটিত করে। পরে লেদা হত্যাকান্ড ধামাচাপা দেয়ার জন্য লাশ গুম করার অপপ্রয়াস চালিয়ে ব্যর্থ হয় এবং হত্যা মামলার গতি ভিন্নদিকে ধাবিত করার জন্য বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের কাছে জোর চেষ্টা-তদবির করে।
চাঞ্চল্যকর অন্তঃসত্তা জেসমিন হত্যা মামলার আসামী মিরাজকে গ্রেফতার করা হলেই মামা লেদা আর ভাগিনা বাবু মিলে ঠান্ডা মাথায় অন্ত:সত্ত্বা জেসমিন হত্যাকান্ড সংঘটিত করার এবং হত্যাকান্ড ধামাচাপা দেয়ার আগে-পরের সকল রহস্যই থলের বিড়ালের ন্যায় ধীরে ধীরে বেরিয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে ফরিদগঞ্জ থানায় বা: দ: বি: ৩০২/২০১/১০৯/৩৪ পিসি এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী/০৩) এর ধারায় হত্যা মামলা (নং-জি,আর-২৫/২০১৫ইং) দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ বিভাগের চৌকস এস.আই মো: নিজাম উদ্দিন লোভ-লালসা এবং প্রভাব বিস্তারের উর্ধ্বে থেকে প্রয়োজনীয় ও উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং ব্যাপক তদন্তকার্যক্রমশেষে ৩ আসামীর বিরুদ্ধে ডাবল চার্জশীট প্রদান করেন। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় ডাবল চার্জশীটভূক্ত আসামীরা হচ্ছে : (১) সাইফুল ইসলাম প্রকাশ বাবু (২২), (২) মো: মিরাজ বেপারী (২৫) ও (৩) নূর ইসলাম প্রকাশ লেদা (৪৩)। এদের মধ্যে প্রথমোক্তজন ঘটনার পর পরই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় এবং বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছে। বাকী দুই আসামী মিরাজ ও লেদা দীর্ঘদিন পলাতক থাকে এবং লেদা দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গত ১৭ জুন ২০১৫ খ্রি: তারিখে আদালতে হাজির হলে বিজ্ঞ বিচারক জামিন বাতিল করে লেদাকে জেলহাজতে পাঠায়।
কিন্তু গত ৩০ জুন ২০১৫ খ্রি: তারিখে মাত্র ১৩ দিন জেলহাজত খাটার পর বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর অন্ত:সত্ত্বা কুমারী জেসমিন
হত্যা মামলার ডাবল চার্জশীটভূক্ত আসামী নূর ইসলাম প্রকাশ লেদা বিজ্ঞ আদালত থেকে মিস কেইসের (নং-১১৫১/২০১৫) মাধ্যমে জামিন লাভ করেন। জামিনে বেরিয়ে এসেই এলাকার ভয়ংকর ও দুর্ধর্ষ অপরাধী নূর ইসলাম প্রকাশ লেদা ওইদিনই অর্থ্যা ৩০ জুন ২০১৫ খ্রি: তারিখ রাত ৮ টার দিকে মো: অলু শেখ, পিতা- মৃত আবুল হোসেন, আল্-আমিন শেখ (২৬), পিতা- মো: অলু শেখ, বাবুল রাঢ়ী (৪০), পিতা-মো: মোসলিম রাঢ়ী, মহসীন মিজি (৩৬), পিতা-সত্তর মিজি, সর্বসাং-গুলিশা, থানা ও জেলা-চাঁদপুরকে সাথে নিয়ে বাদীর বসতবাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বে তিন রাস্তার মোড়ে মামলার বাদী মো: চুন্নু মিয়াকে একা পেয়ে মারার জন্য উদ্যত হয়। চুন্নু মিয়ার শোরচ্যিকার শুনে আশপাশ থেকে সাক্ষীগণ আসতে থাকলে বিবাদীরা তাকে এই মর্মে হুমকি দিয়ে বলে, তিনি যদি জেসমিন হত্যা মামলাটি আদালত থেকে উঠিয়ে না নেন তাহলে তার মেয়ের মতো (জেসমিনের মতো) তাকে এবং তার পরিবারের লোকদের খুন করে লাশ গুম করে দিবে। অসহায় চুন্নু মিয়া তার এবং তার পরিবারের লোকদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী (নং-৭৪, তাং-০২/৭/২০১৫ইং) এন্ট্রি করেন। এমতাবস্থায় অভিজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকমহল মনে করেন চাঁদপুর জেলার আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টিকারী মতলবের জোড়খালীর ৮ খুনের মতোই নীরিহ চুন্নু মিয়া ও তার পরিবারের লোকদের তথা সপরিবারে চুন্নু মিয়া হত্যার শিকার হওয়ার জোর আশংকা রয়েছে। এ ব্যাপারে অন্ত:সত্ত্বা জেসমিন হত্যা মামলার বাদী হতভাগ্য চুন্নু মিয়া এবং তার পরিবারের লোকদের উপরোল্লিখিত বিবাদীদের হত্যার হুমকির রোষানল থেকে অবিলম্বে রক্ষা করার জন্য সচেতন এলাকাবাসী চাঁদপুর জেলা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সু-দৃষ্টি আকর্ষণপূর্বক ত্বরিত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
শিরোনাম:
বুধবার , ২৬ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

