প্রতিনিধি
ফরিদগঞ্জ কালির বাজার কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মাজেদা আক্তার (১৯) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে পাষণ্ড স্বামী মাইন উদ্দিন। মঙ্গলবার গভীর রাতে পৌর এলাকার কাছিয়াড়া গ্রামের মিজি বাড়িতে (পালের বাড়ি) এ ঘটনা ঘটিয়ে ঘাতক মাইন উদ্দিন পালিয়ে যায়। পুলিশ বুধবার সকালে লাশ উদ্ধার করে পোস্ট মর্টেমের জন্য চাঁদপুর প্রেরণ করে। এ ব্যাপারে নিহত গৃহবধূর মা শামছুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য নির্যাতন পূর্বক হত্যা করা হয়েছে বলে ফরিদগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন (নং-১৮, তাং-২৩/৪/২০১৪)। মামলায় নিহত মাজেদা আক্তারের স্বামীসহ ৪জনকে আসামী করা হয়।
নিহতের পরিবারের লোকজন জানায়, ৪ মাস পূর্বে ২০১৩ সালের ২৭ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবেই সন্তোষপুর গ্রামের আমান উল্লার তৃতীয় মেয়ে মাজেদা আক্তারের সাথে বিদেশ ফেরৎ কাছিয়াড়া গ্রামের আঃ করিম মিজির দ্বিতীয় ছেলে মাইন উদ্দিনের বিবাহ হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর সাথে বনিবনা ছিলো না। এ নিয়ে বেশ ক�বার ঘরোয়াভাবে সালিস হয়। বুধবার সকালে তারা জানতে পারে মাজেদা আক্তারকে খুন করে ঘরের বিছানায় ফেলে রেখে স্বামী মাইন উদ্দিন পালিয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাজেদাকে নির্যাতন করে মেরে লাশ বিছানায় ফেলেই সকালে সে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্টে নিহত গৃহবধূর গলায় ও মুখে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর খুনের আলামত দেখেও ঘাতক মাইন উদ্দিনের পরিবারের কাউকে আটক করেনি বলে স্থানীয় লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করে। নিহত মাজেদার বোন সাজেদা জানান, বিয়ের সময় যৌতুকের কোনো কথা না থাকলেও বিয়ের পর নানাভাবে মাইন উদ্দিনের পরিবারের লোকজন যৌতুকের দাবিতে তার বোনকে নানা কথা বলতো। তাদের ধারণা, এ কারণেই তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়।
ঘাতক মাইন উদ্দিনের বাবা আঃ করিম মিজি জানান, বিয়ের পর থেকেই তার পুত্রবধূ মাজেদা স্বামীকে অপছন্দ করতো। সময়ে অসময়ে বাবার বাড়ি চলে গেলেও তারা বারবার তাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। এ নিয়ে কদিন পূর্বে সন্তোষপুরে সালিস হয়েছে। তিনি জানান, বিয়ের পর থেকে মাইন উদ্দিন ও মাজেদা এসব নানা কারণে এক ছাদের নিচে থাকলেও আলাদা জীবনযাপন করতো। ঘটনার রাতেও তারা আলাদাভাবে ঘুমিয়ে ছিলো। সকালে তিনি ফজরের নামাজ আদায় করার জন্য মাইন উদ্দিনকে ডাকলে মাইন উদ্দিন দরজা খুলে বেরিয়ে আসে। এরপর তাকে আর দেখিনি। পরে মাজেদাকে ডাকাডাকির পর তার ঘরে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। তবে মৃত্যুর কোনো কারণ তিনি জানেন নি। মাজেদার বাবা আমান উল্লা ফোনে জানান, মাজেদা গজারিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করার পর কালির বাজার কলেজে এইচএসসিতে ভর্তি হয়। সেখানে ২০১৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষা দিলে ইংরেজিতে খারাপ করায় এই বছর আবারো পরীক্ষা দেয়। তিনি জানান, তার মেয়েটি এবার পাস করবে বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো। পরীক্ষা ও ক্লাসের কারণেই সে প্রায়শই বাপের বাড়ি সন্তোষপুর আসতো। তিনি জানান, গত সপ্তাহেই মাজেদাকে তার স্বামী মাইন উদ্দিন সন্তোষপুরে মারধর করে। পরে তিনি সংসার রক্ষার স্বার্থে উভয়কে বুঝিয়ে ফরিদগঞ্জে পাঠান। কিন্তু এই যাওয়াই যে তার মেয়ের জন্য শেষ যাওয়া হবে, তা তিনি বুঝতে পারেননি। তিনি তার মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন।
