প্রতিনিধি
ছোট ছোট ছেলে-মেয়ের মারামারির ঘটনাকে পুঁজি করে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি সংক্রান্ত বিরোধের প্রতিশোধ নিতে মারধরের এক পর্যায়ে ছুরি দিয়ে আঘাত করে ফুফাতো ভাই সফিকুর রহমানকে পৃথিবী থেকে বিদায় করে দেয় মামাতো ভাই পারভেজ। এই হত্যাকাণ্ড রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা সফিকুর রহমানের পরিবারটিকে পথে বসিয়ে দিয়েছে। নিহত সফিকুর রহমান তিন সন্তানের জনক। এ ব্যাপারে নিহতের স্ত্রী আহত মোসাঃ বেগম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় গতকাল শুক্রবার সকালে লিখিত অভিযোগ করেছেন। ঘটনাটি উপজেলার ১২নং চরদুঃখিয়া পশ্চিম ইউনিয়নের দঃ বিষকাটালি গ্রামে ঘটে।
মোসাঃ বেগম জানান, গত ২৫ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে তাদের গ্রামের বাড়িতে শিশুদের খেলাচ্ছলে নিজেদের মধ্যে সৃষ্ট ঝগড়ার এক পর্যায়ে প্রতিপক্ষ পারভেজ মাঝি, তার পিতা লিটন মাঝিসহ আরো ক’জন সফিকুর রহমানের পরিবারের উপর হঠাৎ আক্রমন করে। তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেগমকে আঘাতকালে তাকে বাঁচাতে স্বামী সফিকুর রহমান (৩৫) এগিয়ে আসলে তাকেও বেদম মারধর করে হামলাকারীরা। একপর্যায়ে পারভেজ ছুরি দিয়ে মামাতো ভাই সফিকুর রহমানের তলপেটে আঘাত করলে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে মারা যায় সফিকুর রহমান। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়নি।
থানায় মামলা করতে এসে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনটি সন্তান ফরহাদ (১২), জাফর (৭) ও মিম (৪)কে দেখিয়ে বেগম বলেন, স্বামীকে হারিয়ে আমি এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। শিশুদের ঝগড়া নিয়ে তার স্বামীকে এভাবে ছুরি দিয়ে মেরে ফেলার দৃশ্য সে ভুলতে পারছে না। অবুজ এই তিনটি সন্তান নিয়ে সে কোথায় যাবে কি করবে তা ভেবে পাচ্ছে না। তিনি জানান, পার্শ্ববর্তী হাইমচর উপজেলার আলগী গ্রামে তার পৈত্রিক বাড়ি। বাবা মরহুম জয়নাল আবেদীন তাকে ১৭ বছর পুর্বে সফিকুর রহমানের কাছে বিয়ে দেন। সংসারে অভাব থাকলেও সুখের অভাব ছিল না। কিন্তু একটি ছুরি সেই সুখের ঘর ভেঙ্গে তছনছ করে দিলো। তিনি তার স্বামী হত্যার বিচার দাবি করে বলেন, হত্যাকারীদের বিচার না হলে তারা এলাকায় আরো বেশি দানবীয় ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে সফিকুর রহমান মৃত্যুবরণের পর মডেল থানা পুলিশ লাশ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে রেখেছে।
