মো. শিমুল হাছান,^: ফরিদগঞ্জে যুবকের মৃত্যুর ১৫৫ দিন পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়। গতকাল (২০ মার্চ) উপজেলার ১৬ নং রুপসা দক্ষিন ইউনিয়নের দক্ষিন সাহেবগঞ্জ গ্রামের খলিফা বাড়ীতে এ ঘটনা ঘটে।
বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ১৩ অক্টোবর ঐ গ্রামের বাবুর খলিফার ছেলে রুবেল হোসেন (১৮) এলাকার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ (সাইড লাইন) এর তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎপৃষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায় এবং তাকে বাঁচানোর জন্য একই পরিবারের আরো ৩ জন আহত হয়। পরে লাশের ময়নাতদন্ত ছাড়াই কবর দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তখন গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে শালিশ বৈঠকে ১ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয় বিদ্যুতের নতুন সঞ্চালন লাইনের জনৈক ঠিকাদার। কিন্তু বাবুল খলিফা তাতে সন্তষ্ট না হয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারী/২০১৮ ইং তারিখে একই এলাকার অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ গ্রহনকারী ছিদ্দিকুর রহমানের ছেলে মোঃ মিলন হোসেন কে প্রধান আসামী করে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করে। মামলা নং- ৪৪/২১-০২-১৮ ইং। ঐ মামলায় গত ২৬/০২/২০১৮ ইং তারিখে আদালত কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়না তদন্ত করার আদেশ দেন। সেই প্রেক্ষেতে গতকাল মঙ্গলবার নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ ইমরান হোসেন ও ফরিদগঞ্জ থানার এসআই মোঃ নাজমুল হাছান এর নেতৃত্বে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে প্রেরন করেন।
এ বিষয়ে মামলার বাদী নিহত রুবেলের পিতা বাবুল খলিফা বলেন, অপরিকল্পীত অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তারে জড়িয়ে আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে এবং তাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার পরিবারের আরো ৩ জন সদস্য মারাত্মক আহত হয়েছে। স্থানীয় শালীশ বৈঠকে আমাকে ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরন দেওয়ার সিন্ধান্ত হয়। কিন্তু আমি তখন ক্ষতিপূরণ (চিকিৎসা) বাবদ ১ লক্ষ টাকা পাই। যাদের অবৈধ অপকর্মের জন্য আমার ছেলের মৃত্যু হয়েছে তাদের সঠিক বিচার হওয়ার জন্য আমি আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আদালত কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নিদ্দেশ দেয়। আশা করি আদালতের মাধ্যমে আমার ছেলের হত্যাকারীদের সঠিক বিচার পাবো।
