প্রতিনিধি
ফরিদগঞ্জে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় মরিয়ম নামে সাড়ে ৫ বছরের এক শিশু এবং রুবেল নামে ২০ বছরের এক যুবক মারা গেছে। শিশুটি মারা যায় ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের চতুরা হাসপাতাল এলাকায়, আর যুবকটি মারা যায় ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফকির বাজার এলাকায়। দু�জনই ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ফরিদগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়ক বেশ কিছুক্ষণ অবরোধ করে রাখে।
গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদগঞ্জ-রায়পুর সড়কের চতুরা হাসপাতাল এলাকায় ট্রাক চাপায় মরিয়ম নামে শিশুটি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, রায়পুর থেকে ফরিদগঞ্জগামী একটি ট্রাক (ঢাকা-ড-১৯১) রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া মরিয়মকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী ওই সড়ক প্রায় ২ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। পরে পুলিশ এসে অবরোধ তুলে নেয়। নিহত মরিয়ম ওই এলাকার রিক্শা চালক আবু তাহেরের মেয়ে। মরিয়ম আইসক্রিম কিনতে বের হয়েছিল। আর ঘাতক ট্রাক তার প্রাণ কেড়ে নেয়।
অপরদিকে একই দিন বেলা আনুমানিক ২টার সময় ফরিদগঞ্জ উপজেলার ফকিরবাজার এলাকায় বৈশাখী বাসের চাপায় রুবেল (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়। এতে উত্তেজিত এলাকাবাসী কিছু সময়ের জন্য হাজীগঞ্জ- রামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে রাখে। রুবেল ঐ এলাকার ঘনিয়া দরবার বাড়ির ফজলুল হকের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, এদিন দুপুরে রামগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা হাজীগঞ্জমুখী বৈশাখী পরিবহনের একটি বাস রুবেলকে চাপা দেয়। এতে রুবেল ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আর ঘাতক বাসটি রুবেলকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে হাজীগঞ্জ-রামগঞ্জ সড়ক অবরোধ করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
উল্লেখ্য, এ সড়কে চলাচলকারী বৈশাখী পরিবহনের বাসগুলো দানবের মতো চলাচল করছে। যার কারণে প্রতি সপ্তাহে কিংবা প্রতিমাসে এ পরিবহন এ সড়কের কোনো না কোনো অংশে দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। সম্প্রতি হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের এক ছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসের স্টাফ। এরপরই আরেকটি একই পরিবহনের বাস একই সড়কের মনতলা ইটভাটার সামনে এক যুবককে চাপা দিয়ে হত্যা করে। ঐ যুবকের বাড়ি হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার মনিনাগ এলাকায়।
