
রফিকুল ইসলাম বাবু, ।
ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে অবস্থিত সেন্ট্রাল হাসপাতালে চিকিৎসকের ভুল অস্ত্রপাচারে এক নবজাতক শিশু মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এঘটনায় সিজারিয়ান অপারেশনের চিকিৎসক ডা. মাহমুদাকে আসামী করে মৃত নবজাতকের নানী সাজেদা বেগম বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করে। এই ঘটনার পর ওই চিকিৎসক গা ডাকা দিয়েছে। এছাড়া পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসকসহ ৩ ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের তাক্ষৎনিক আটক করে। পরবর্তীতে তাদের জ্ঞিাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপরদিকে শিশু মৃত্যুর ঘটনা তদন্তের জন্য চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুর নাহার ওই হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট লোকজনের সাথে কথা বলার জন্য সরেজমিন উপস্থিত হয়েছিলেন। পৌর সভার মেয়র মো. মাহফুজুল হক হাসপাতালে ঘটনা পরিদর্শনে যায়। জানা যায়, (২২ মার্চ) বুধবার রাত ৮টার সময় ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৮নং পাইকপাড়া ইউনিয়নের আইয়ুব আলী পাটওয়ারী বাড়ির মালেয়শিয়া প্রবাসী মো. নাছির হোসেননের স্ত্রী খাদিজা বেগম(১৯)’র প্রসব ব্যাথা উঠলে তাকে সেন্ট্রাল হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও সাবেক ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভিজিটর শামীমার কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে শামীমা তাকে রাতে ফরিদগঞ্জ সেন্ট্রাল হাসপতালে পাঠিয়ে দেয়। হাসাপাতালে ৪ বার আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাহমুদা রাত সাড়ে ১১টার সময় খাদিজা বেগমের সিজারিয়ান অপারেশন করে পেট থেকে বাচ্চা বের করে আনে। পরবর্তীতে নবজাতক শিশুটি প্রতিবন্ধী বিকলাঙ্গ হয়েছে বলে প্যাকেট করে নবজাতকের অভিভাবকের কাছে হস্তান্তর করে। এ নিয়ে নবজাতকের খালা নাজমা বেগম এ প্রতিনিধিকে বলেন, রাতে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ নবজতাক শিশুটিকে মৃত বলে আমাদেও বাড়িতে নিয়ে যেতে বাধ্য করে। এবং শিশুটি মৃত বিকলাঙ্গ হয়েছে বলে জানায়। কিন্তু কার্টুনে করে শিশুর মৃতদেহটি বাড়িতে নেয়ার পর লোকজন দেখতে পায় শিশুটির নাড়িভুড়ি বের হয়ে আছে এবং মৃতদেহের নাড়িভুড়ি পেছানো একটি কাছি পড়ে আছে। মূলত ডাক্তারের ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার কারণে শিশুটির মায়ের পেট কাটার সাথে বাচ্চাটিরও পেট কেটে নাড়ি ভুঁড়ি বের করে ফেলা হয়েছে। শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে। এবিষয়ে সিজারিয়ান অপারেশনকারী চিকিৎসক ডা. মাহমুদার বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধীকবার যোগাযোগ করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ থাকা ও কর্মস্থলে উপস্থিত না থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায় নি। এবিষয়ে হাসপাতালের এমডি শামীমা সাংবাদিকদের বলেন, এনিয়ে আমাদের ভুল হয়েছে। তিনি ব্যস্ততা দেখিয়ে মোবাইলের কল কেটে দেন। চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার শামসুর নাহার সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
