মিজান লিটন
হাজীগঞ্জ উপজেলায় বিয়ে পাগল এড্যাভোকেট নজরুল ইসলাম পঞ্চম শ্বশুর বাড়ীতে আটক হয়েছে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে। বুধবার বিকেলে উপজেলার ৪ নং কালচোঁ ইউনিয়নের রামপুর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া এড্যভোকেট নজরুল ইসলাম উপজেলার ১০ নং গর্ন্ধ্যবপুর ইউনিয়নের ডাটরা শিবপুর হাজী বাড়ীর নুর মোহাম্মদের ছেলে। এই পর্যন্ত এড্যভোকেট নজরুল ইসলাম একাধিক বিয়ে করেছেন।
এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চম স্ত্রী রুমী (১৮)কে ফাঁদে ফেলে আট মাস আগে বিয়ে করে। কয়েকদিন পূর্বে বিয়ে পাগল নজরুলের একাধিক বিয়ের রহস্য জানতে পারে রুমীর পরিবার। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামাই আদরে সমাদর শেষে তাকে বিয়ের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি অস্বীকার করলে বুধবার দুপুরে আরো দুই স্ত্রী নজরুলকে ছাড়িয়ে আনতে হাজির হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। খবর পেয়ে হাজীগঞ্জ থানার এসআই মান্নান ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নজরুলকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
রামপুর এলাকাবাসী পক্ষে আরিফ শেখ বলেন, এড্যভোকেট নরুজলের এই পর্যন্ত ৫টি বিয়ের ঠিকানা পাওয়া গেছে। জেলার শাহরাস্তি উপজেলার টামটা ও ফরিদগঞ্জে একটি বিয়ে করেছে। এছাড়া চাঁদপুর সদর উপজেলার একটি মেয়েকে বিয়ে করে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
পঞ্চম স্ত্রী রুমী বলেন, আমাকে বিয়ের পর থেকে ঠিকমতো বরণ-পোষণ দেয়নি। বরং নিকটাত্মীয়ের কাছ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চাকরী দেয়ার নামে ১ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এছাড়া রামপুর এলাকায় একটি আদালতের মামলা বাবদ ২ লাখ টাকার নিয়ে গেছে।
নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী রোজিনা বলেন, আমার দুই সন্তান রয়েছে। ৬ বছর পূর্বে আমাকে বিয়ে করেছে। এখন হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার টোরাগড় কাজী বাড়ীতে বাসা ভাড়া থাকছি। নজরুলের একাধিক বিয়ে প্রসঙ্গে স্ত্রী রোজিনা বলেন, জানামতে পৌর ভবনের পাশে একটি ভবনে প্রথম স্ত্রী জেসমিন বাসাভাড়া থাকে। ওই সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানার এসআই মান্নান বলেন, উদ্ধার হওয়া নজরুলের বিষয়ে স্ত্রী রুমীর অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দুই বিয়ের কথা স্বীকার করলেও এ প্রসঙ্গে এড্যভোকেট নজরুল ইসলাম বলেন, সব মিথ্যে অভিযোগ। আমাকে ষড়যন্ত্র করে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। রুমীর সাথে বিয়ে হয়নি।

