প্রতিনিধি
সামান্য একটু বৃষ্টি হলেই হাঁটু সমান পানি জমে থাকে চাঁদপুর শহরের পৌরসভাধীন ওয়্যারলেস এলাকার কাঁচা বাজারটিতে। বাজারটি চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়ক থেকে কিছুটা ঢালু হওয়ায় বৃষ্টি হলে পুরো বাজারে পানি জমে থাকে। সকালবেলা সকল প্রকার দেশীয় মাছ টাটকা শাকসবজি কেনার অন্যতম বাজার এটি। অথচ বাজার করতে আসা ক্রেতা সাধারণকে অসহায়ের মতো রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। নতুবা গায়ে থাকা জমা-কাপড় ভিজিয়ে কাদা মিশ্রিত পানিতে একাকার হয়ে কেনা কাটা করতে হয়। বাজারে কাঁচা বাজার, মাছ ও মাংস বিক্রেতারা এ পানি দিয়ে কোনরকম মাচা পেতে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। অনেক সময় বৃষ্টি হলে ক্রেতাগণ কাঁচা বাজারে ঢুকে কেনাকাটা করতে চান না। ঐতিহ্যবাহী এ বাজারটিতে পানি সরানোর জন্য কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারে থাকা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী হাঁটু সমান পানি এবং জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচানোর জন্য চাঁদপুর পৌরসভার মেয়রের দৃষ্টি কামনা করছেন। তারা মনে করেন চাঁদপুর পৌরসভা থেকে যদি অনেক পুরাতন এ বাজারটির প্রতি একটু নজর দেয়া হয় তাহলে বাজারে হাঁটু সমান পানি জমে থাকা, জলাবদ্ধতা ও পয়ঃনিষ্কাশনের সমস্যা থাকবে না। মূল সড়ক থেকে বাজারটি দেখতে ভালো দেখা যাবে।
গতকাল সকালে চাঁদপুর শহর থেকে বাজার করতে যাওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা সংবাদকর্মীর পরিচয় পেয়ে কাছে এসে বলতে থাকেন, আপনার লেখনির মাধ্যমে পৌর মেয়রের কাছে আমাদের সমস্যার কথা তুলে ধরুন। তিনি পত্রিকায় দেখলে আমাদের কষ্টের কথা চিন্তা করে হয়তো একটি ভালো ব্যবস্থা নিবেন। বাজারের পানিগুলো সরানোর জন্য যদি মূল ড্রেনের সাথে এটিকে সম্পৃক্ত করে দেয়া হয় তাহলে আর আমাদের বাজার করতে এসে সম্যায় পড়তে হবে না। কাঁচা বাজারটিতে ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় ৩০টির মতো দোকান রয়েছে। বাজারে থাকা ঔষধ ব্যবসায়ী ডাঃ বাবুল কুমার রায় বলেন, একটু বৃষ্টি হলেই মানুষ চলাফেরা করতে পারে না। গত ক’দিনের বৃষ্টিতে বাজারে কোনো কাস্টমারই ঢুকাছে না। বাজারে ড্রেন ও পয়ঃনিয়ষ্কানের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক কষ্ট শিকার করতে হয় বাজারের বিক্রেতা ও ক্রেতাদের।
মাছ বিক্রেতা বিপ্লব জানান, পানিতে কাঁচা বাজারটি নোংরা হয়ে যায়। এতে করে কোনো কাস্টমার ভেতরে ঢুকে কেনাকাটা করতে চায় না। আমরা মাছ নিয়ে বসে থাকলেও ক্রেতা সাধারণ নোংরা পানি পার হয়ে আমাদের কাছে আসে না। বেচা বিক্রি আমাদের খুবই কম।
বাজারের মৎস্য ব্যবসায়ী সুবল দাস বলেন, বৃষ্টির পানিতে পুরো বাজারটি কাদা হয়ে থাকে। পাকিস্তান আমল থেকে এ বাজারটিতে মানুষ কেনাকাটা করতে আসে। চাঁদপুর পৌরসভার মধ্যে সকল কাঁচা বাজারেরই ড্রেনেজ ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু ওয়্যারলেস বাজারটি পুরাতন হলেও এর কোনটাই নেই। অথচ এ বাজারটি শহরের অদূরে হলেও গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সকালের কাঁচা বাজার হিসেবে প্রসিদ্ধ। পৌরসভার বাজার হওয়ার পরও কোনো সুযোগ সুবিধাতো দূরের কথা, উপরন্ত সমস্যার পাহাড়ের কারণে বাজারটি তার পুরানো ঐতিহ্য হারাতে বসেছে।
কাঁচা বাজারের ইজারাদারের সহকারী চুন্নু গাজী বলেন, চাঁদপুর পৌরসভা থেকেই কাঁচা বাজারটি ইজারা নেয়া হয়েছে। বৃষ্টিতে বাজারটিতে হাঁটু সমান পানি ও কর্দমাক্ত হওয়ায় মাছ ও কাঁচা তরকারি বিক্রেতাদের বসে থাকতে হয়। তাদের কাছে থেকে ঠিকমতো কালেকশন পাওয়া যায় না। বাজারটিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকলে ক্রেতাদের চাহিদা অনেক বাড়তো। আমরা পৌর মেয়রের আন্তরিক হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
