
চাঁদপুর: চাঁদপুরে ডাকাতিয়া পারের মানুষ কর্মসংস্থানের অপার সম্ভাবনা ও লাভজনক মাধ্যম হিসাবে খাঁচায় মাছচাষ শুরু করে। চাঁদপুরের এই পদ্ধতি ছিলো সারাদেশের জন্য মডেল। এ পদ্ধতিতে মৎস্য চাষিদের অপার সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের আশা জাগানিয়া স্বপ্ন দেখালেও বর্তমানে লোকসানের ভারে তা নিভে যেতে বসেছে। গত ৮ বছর আগে খাঁচায় মাছচাষ প্রকল্প শুরু হয়। অনেকে বিকল্প কর্মসংস্থান হিসাবে বেছে নেয় এ পদ্ধতি। এসব খাঁচায় মনোসেক্স জাতের তেলাপিয়া মাছচাষ করা হয়।
এ ছাড়াও পাঙ্গাশ ও জিওল মাছও চাষ করা হয়। জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রথম দিকে জেলেদের মাছ চাষের জন্য দশটি করে লোহার তৈরি খাঁচা দেয়া হয়। এতে করে অনেক বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সুযোগ হয়। বর্তমানে খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, ডাকাতিয়া নদীর পানি দূষণ এবং মাছের কাক্সিক্ষত দাম না পাওয়ায় লোকসানের বোঝা বহন করতে গিয়ে অনেকে এ পদ্ধতিতে মাছচাষ বন্ধ করে দিয়েছে।
চাঁদপুর শহরের ইচলী এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর কিনারায় গিয়ে দেখা যায় বেশ কিছু খাঁচা মাছশূন্য হয়ে পড়ে রয়েছে। চাঁদপুর শহরের ফিশারি গেটস্থ একতা পোলট্রি ফার্মের মালিক ফিরোজ পাটওয়ারি জানান, মাছের খাদ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। গত ছয় মাসের মধ্যে প্রতি কেজি খাদ্যে এক টাকা বেড়ে গেছে। যে কারণে মৎস্য চাষিরা এখন লাভবান হতে পারছেন না।
আবুল বাশার নামে ডাকাতিয়া নদীতে খাঁচায় মৎস্য চাষি জানান, বর্ষায় পানি দূষণের ফলে মাছ মারা যাওয়াসহ খাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও মাছের দাম না পাওয়ায় তিনি লোকসানে পড়েছেন। তিনি আরও জানান, দেড় কেজি ওজনের তেলাপিয়া মাছ পাইকারি বিক্রি করছেন ১৬০ টাকা দরে। অথচ এ মাছ চাষে তার খরচ অনেক। তার ওপর যখন মাছ মারা যায় তখন মূলধন তুলতে কষ্ট হয়। তিনি বলেন, আমি পাঁচ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে মাছচাষ শুরু করি। যা শেষ এখন। বর্তমানে লোন আর বাকিতে খাদ্য কিনে টিকে আছি। এভাবে চললে হয়তো বেশি দিন টিকতে পারব না।
চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আনিসুর রহমান বলেন, ডাকাতিয়া নদীর পানি দূষণে মাছ মরে যাওয়ার কারণ হচ্ছে পানি কমে যাওয়া, কচুরিপানার কারণে অক্সিজের সংকট এবং অপরিকল্পিতভাবে চাষ। অন্য কোনো কারণ নয় বলে তিনি জানান। এ নিয়ে এর আগে তিনি একটি রিপোর্টও জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিয়েছেন। তবে পানি বৃদ্ধি পেলে ডাকাতিয়া নদীর পানি দূষণ কমে যাবে বলে এ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান।
চাঁদপুর ১৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দে র নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী আরিফুল হক বলেন, মিউটালাইজ্ড করে অল্প পানি নদীতে ছাড়া হয়। যা কোনো মতেই পানি দূষণ করে না। অন্য কোনো কারণে মাছ মারা যেতে পারে।
চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকি বলেন, চাঁদপুর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দে র নির্গত বর্জ্য ডাকাতিয়া নদীতে অপসারণের কারণে পানি দূষণ হয়ে পড়া কথাটি সম্পূর্ণ ভুল ও মিথ্যা। কেননা আমি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা করেছি। এটা অপপ্রচার ছাড়া কিছু নয়।
চাঁদপুরনিউজ/এমএমএ/
