অভিজিত রায় ॥
চাঁদপুর জেলা সিভির সার্জন কার্যালয়ে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইেন উপলক্ষে জেলা ওরিয়েন্টেশন ও কর্মপরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০ টায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সন্মেলন কক্ষে এ ওরিয়েণ্টশাসন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিভিল সার্জন ডাক্তার রথিন্দ্রনাধ মজুমদারের সভাপতিত্বে ও মেডিকেল অফিসার ডা: আশ্রাফ আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল।
তিনি বক্তব্যে বলেন, ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইেন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক হিসেবে আমার যা করনীয় তাই করবো। যতটুকু সাপোর্ট দেওয়ার প্রয়োজন আমাকে বলবেন আমি তা দেব। ক্যাম্পেইন চলাকালে কোন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালনে অনিহা করতে পারবেনা। বর্তমান প্রধান মন্ত্রী শেখ হাছিনার যে কর্মপরিকল্পনা এ ক বছরে করেছেন সেই কারনে আমাদের দেশে বর্তমানে মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে। চাঁদপুরে ৮ টি ক্যাম্পের মধ্যে ৪ টি সম্পন্ন হয়েছে। আমরা যে আঙ্গিকে জনগনের কাছে যাচ্ছি তার ফল আমরা পাচ্ছি। স্বাস্থ্য সেবা জনগনের দোর গোড়ায় পৌছে দিতে সক্ষম হয়েছি। এতে করে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে। এভাবে যদি আমরা কাজ করতে পারি তাহরে আগামী ২ বছরের মধ্যে চাঁদপুর মধ্যেম আয়ের দেশে পরিণত হবে। আমি যদি ২ বছর চাঁদপুরে কমৃরত থাকি তবে আর কোন শিশুকে বাড়ি থেকে ধরে এেেন ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়াতে হবেনা। প্রধান মন্ত্রী স্বাস্থ্য সেবার জন্য তৈরি করেছেন ই মেডিসিন সেবা। দেশবাসি এক সময় ই মেডিসিন সেবা সম্পর্কে জানতোনা। এখন তারা ই মেডিসিন সেবা গ্রহন করতে অগ্রনি ভুমিকা পালন করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার সামছুন্নাহার বলেন আমার পরিবারের পাশাপাশি এলকার সকলকে সচেতন করতে হবে যেন তারা শিশুদেরকে ১৪ নভেম্বর ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে শিশুদেরকে এ ক্যাপসুল খাওয়ায়। এ ক্যাম্পেইন অনেক গুরুত্বপূর্ণঅ তাই এ ম্যাসেজ সর্বত্র পৌছে দিতে হবে। যারা ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন নিয়ে কাজ করবে তাদেরকে গুরুত্বের সাথে কাজ করতে হবে। এ ক্যাম্পেইনটি প্রত্যন্ত গ্রামঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে হবে। এর জন্য আমরা যদি ক্যাবল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সম্পচার করি তাহলে মানুষ আরো বেশি সচেতন হবে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সহায়তা করা প্রয়োজন আমরা তা করবো।
পৌর মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদ বলেন, বর্তমান সরকার দেশকে দরীদ্রমুক্ত করেছে। এখন আর কোন মানুষ না খেয়ে থাকেনা। ভিক্ষবৃত্তি করেনা। স্বাস্থ্য সেবায় সরকার ব্যাপক গুরুত্ব দিয়েছে। যদি কোন মানুষ চোখে না দেখে তার কাছে সবই অন্ধকার। তাই দৃষ্টিশক্তি ও সুস্থ দেহ রাখতে ভিটমিন এ‘র কোন বিকল্প নেই। ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনকে বাস্তবায়ন করতে আমাদের কমযজ্ঞ বাড়াতে হবে। যেকোন কাজের কর্মপরিকল্পনা গ্রহন না করলে কাজ করা সহজ হয়না।
সভাপতির বক্তব্যে ডাক্তার রথিন্দ্রনাধ মজুমদার বলেন, ২০০৬ সাল থেকে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ বছর চাঁদপুর জেলায় ৩লাখ ৪ হাজার ৬৫ জন শিশূকে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশূদেরকে একটি করে নীল রংয়ের ভিটামিন খাওয়াতে হবে। ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদেরকে একটি করে লাল রংয়ের ভিটামিন এক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। শিশুর বয়স ৬ মাস হলে মায়ের দুধের পাশপাশি পরিমান মতো ঘরে তৈরি সুসম খাবার দিতে হবে। অনেক অভিভাবক এখনো অসচেতন রয়েছে। তারা একবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ালে আর ভিটামিন খাওয়াতে চাননা। তাদেরকে সচেতন করতে হবে। শিশুদেরকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ালে দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি, শারীরিক বৃদ্ধি ও শিশূকে সুস্থ রাখে। ভিটামিন এ ক্যাপসুল শিশূর চোখের রসের কাজ করে। তিনি আরো বলেন, মায়ের দুধে সবচেয়ে বোশি ভিটামিন এ রয়েছে। বাইরের ভিটামিন না খাইয়ে মায়ের দুধ খাওয়ানো উত্তম।
এ সময় আরো বক্তব্য রাখেন, স্বাধীনতা পদক প্রাপ্ত নারী মুক্তিযোদ্ধা ডা: সৈয়দা বদরুন্নাহার চৌধুরী, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শহীদ পাটওয়ারী, সাধারন সম্পাদক রহিম বাদশা, জেলা বিএমএর সভাপতি ডা: হারুনুর রশীদ সাগর, পরিবার পরিল্পনা উপপরিচালক ডা: জাহাঙ্গির খান, জেলা ভারপ্রাপ্ত তথ্য অফিসার নূরুল হক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আক্তার হোসেন, জেলা ইফা পরিচালক হিরন বেপারী, শাহারাস্তি উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা: মানিক লাল মজুমদার, আত্ম নিবেদিতার ডা: মোস্তাফিজুর রহমান, মতলব দক্ষি উপজেলা মেডিকেল অফিসার ডা: মাহবুবুর রহমান, সুর্যের হাসি ক্লিণিকের ম্যানেজার শাহেদরিয়াজ, জেলা ইমাম সমিতির যুগ্ন সম্পাদক আব্দুর রহামান গাজী,

