
স্টাফ রিপোর্টার ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের আলগী পাঁচগাঁও মিয়াজী বাড়ির মৃত আঃ আজিজের ছেলে শাহ জালাল এর বিরুদ্ধে সংখ্যালঘু সহ বিভিন্ন লোজনের ভূমী জোড় পূর্বক দখল ও নারী অপহরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা যায়, গত ৩০ আগষ্ট ২০১৬ ইং তারিখে একই বাড়ির বৃদ্ধ দেলোয়ার হোসেন মিজি শাহ জালাল এর বিরুদ্ধে রামপুর ইউনিয়র পরিষদে একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শাহ জালাল (৪৫) জোড় পূর্বক দেলোয়ার হোসেন এর বসত ঘরের সামনে তাদের সম্পত্তিতে কাটা দিয়ে বেড়া দেয় এবং রান্না ঘর ও ছাগলে ঘর নির্মান করে। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ নিয়ে ২০১৬ সালে ২১ সেপ্টেম্বর শালিশ বৈঠক হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের কথা শুনে দেলোয়ার হোসেনের সম্পত্তি থেকে বেড়া ও ঘর সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
পরবর্তিতে ভূমীদস্যু শাহজালাল বৈঠকের সিদ্ধান্ত অমান্য করে চাঁদপুর আদালতে দেলোয়ার ও তার ছেলেদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
দেলোয়ারের ছেলে শরীফ উদ্দিন মিজি জানায়, গত ১১ জানুয়ারী স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ সহ সাবেক ইউপি সদস্য মিলে আমাদের সম্পত্তিতে শাহজালাল কর্তৃক জোড় পূর্বক যে বেড়া ও ঘর নির্মান করেছে তা সরিয়ে দেন। কিন্তু স্থানীয় কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে বসত ঘরে হামলা সহ লুঠপাটের সংবাদ। যা সম্পূর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন।
তিনি আরো জানান, আমি ও আমার ছোট ভাই আরিফ ঢাকা কারণ বাজারে কাচা মালের ব্যবসা করে কোনরকম জীবন যাপন করছি। আমার বৃদ্ধ বাব ও আমার স্ত্রী সহ শিশু সন্তানরা বাড়িতে থাকে। আমরা কেউ না থাকার কারনে শাহজালাল ও তার পুত্র আরাফাত রহমান নিশান সহ কয়েকজন মিলে গত দু’ বছর পূর্বে বেড়া ও ঘর নির্মান করে। এছাড়াও প্রতিনিয়তই আমার পরিবারের উপর নির্যাতন করে যাচ্ছে। বেড়ার জন্য আমরা ঠিকমতো ঘর থেকে বের হতে পারিনা।
এ বিষয় নিয়ে এলাকায় এর পূর্বেও একাধিক শালিশ বৈঠক হওয়া সত্বেও সে বৈঠকের কোন সিদ্ধান্তই মানে না। তিনি ২২ শাতাংশ সম্পত্তির মালিক। তা থেকে ১২ শতাংশ বাড়ির অন্যান্য লোকদের কাছে বিক্রি করে। বাকি ১০ শতাংশ সম্পত্তির মালিক তিনি। কিন্তু তার ভোগ দখলে প্রায় ১৭ শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে। অথচ তিনি প্রচার করেন আমরা তার ৫ শাতাংশ সম্পত্তি ভোগদখল করছি।
শাহ জালাল এলাকার নারী কেলেঙ্কারি সহ একাধিক ঘটনার সাথে জড়িত রয়েছে বলেও জানা যায়। তার বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারী চাঁদপুর মডেল থানায় একটি অপহরন মামাল হয়, যার নং- ১৬। মামলার বিবরনে জানা যায়, একই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আবু রাসেল মোঃ হানিফের মেয়ে চাঁদপুর সরকারি কলেজের অনার্স ২য় বর্ষের ছাত্রী মালেহা আক্তার প্রমি (১৮) কে কয়েকজন মিলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। বর্তমানে তার কোন খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি এবং শাহ জালালো পলাতক রয়েছে বলে জানা যায়।
গত বছর খানেক পূর্বে এ ভূমীদস্যু শাহজালাল পার্শ্ববর্তি হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রী শান্তি চন্দ্র দাসের সম্পত্তি জোড় পূর্বক দখল করে দোকান নির্মান করে। যা স্থানীয় পত্রিকায়ও সংবাদ প্রকাশিত হয়।
শাহ জালাল পাশ্ববর্তি লাকি বেগম নামের এক মহিলার বসত ঘরে প্রবেশ করে চাঁদা দাবী করে। চাঁদা না দেওয়ায় তার সুকেজ ভেঙ্গে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার জোড় পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়। লাকি বেগম চাঁদপুর মডেল থানায় এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। এছাড়াও তিনি এলাকার বহু অপকর্মের হোতা বলেও জানা যায়। তার অত্যাচারে এলাকার অসহায় হত দরিদ্র লোকজন অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে।
শাহ জালাল বিএনপি জামায়াতের সরকার বিরোধী আন্দোলনের সময় সদর উপজেলার ঘোষের হাট এলাকার নাশকতা মামলার আসামী বলেও জানা যায়।
শাহ জালাল দুষ্ঠ প্রকৃতি লোক হওয়ায় তার সাথে কেউ বাকবিতন্ডায় জড়াতে চায় না। শাহ জালালের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছেন দেলোয়ারের পরিবার।
শিরোনাম:
শুক্রবার , ১ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
