মতলব দক্ষিণ:
মতলব দক্ষিণ উপজেলা সদরসহ পৌরসভার বিভিন্ন মহল্লার ছোট বড় খালগুলো যে যার মতো জবর দখল করে নিচ্ছে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং নজরদারি না থাকায় খালগুলো দখল করে বাসা-বাড়ি নির্মাণ করছে স্বার্থান্বেষী মহল।
সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ মতলব-বাবুরহাট সড়কের আইসিডিডিআরবি সংলগ্ন পূর্ব দক্ষিণ পাশে ৬নং ওয়ার্ডের নবকলস মৌজার মতলব ঘোষেরহাট সড়কের খান বাড়ি সংলগ্ন ব্রিজের নিচ দিয়ে প্রবাহিত আদর্শ স্কুলের নিকট খালটি এবং ফরাজী বাড়ি হতে মোল্লা বাড়ি পর্যন্ত খালটি স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি মাটি দিয়ে ভরাট করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছে। সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করেই খাল ভরাট করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন। কারণ, খালের আশপাশে যারা জমিজমা খরিদ করে তারা বাড়ি-ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে সরকারি সিএসভুক্ত খালসহ দখল করে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো বাধা বা আপত্তি না থাকায় খালের পাশে থাকা জমির মালিক সবাই এখন প্রতিযোগিতামূলকভাবে ছোট বড় খাল দখল করে নিচ্ছে। যেভাবে মতলবের খাল দখলের প্রতিযোগিতা চলছে তা রোধ করা না হলে আগামী ২/১ বছরে কোনো খালের চিহ্ন পাওয়া যাবে না। যেমনটি হয়েছে পৌরসভার সদর ওয়ার্ডের কলাদী ও ঘোষপাড়া এলাকায়। আইসিডিডিআরবি সংলগ্ন ব্রিজের নিচ থেকে নবকলস গ্রামের এ খালটি ১৮ ফুট প্রস্থ থাকার কথা হলেও এখন পরিমাপ করলে ১০ থেকে ১৫ ফুট পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ। উক্ত খাল দখল করে কাজী মোঃ বিল্লালসহ বেশ ক’জন। এ প্রভাবশালী ব্যক্তিকে ভবন নির্মাণ কাজ করতে দেখা গেছে। এ খালটি দিয়ে দশপাড়া, নবকলস, আশ্রম, দুর্গাও, নলুয়া, ভাঙ্গারপাড়, দিঘলদীসহ আশপাশের মানুষ বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াত করে। শুধু তাই নয়, এ খালটির কারণে উপরোক্ত গ্রামের বিভিন্ন জাতের ধানসহ নানাবিধ ফসলাদি উৎপাদন করা হয়। খালটি বন্ধ হয়ে গেলে পানি নিষ্কাশন অভাবে সকল প্রকার ফসলাদি থেকে বঞ্চিত হবে অত্র এলাকার চাষীরা। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আবাসিক উন্নয়নের ফলে পয়ঃনিষ্কাশন ও স্যুয়ারেজ হিসেবে ব্যবহারের জন্য খালটি জনগুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান সরকার খাল, পুকুর ও ডোবা নীতিমালা পাস করেছে। তাই বিদ্যমান আইন অনুযায়ী প্রবাহমান খাল ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে স্থানীয় এলাকাবাসী মনে করেন। উক্ত সরকারি খাল দখলকারীদের হাত থেকে রক্ষার জন্য এলাকাবাসীদের পক্ষে মোঃ এমদাদ হোসেন খান, মোঃ মনির ফরাজী, মোতালেব হোসেন গং লিখিতভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে আলাপ করলে তিনি জানান, সরকারি খাল দখল সংক্রান্ত বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে দেখা করার জন্য বলা হয়েছে বলে তিনি সাংবাদিকদের জানান।
