স্টাফ রিপোর্টার ॥
মতলব দক্ষিন উপজেলার করবন্দ গ্রামের আব্দুর রব মেম্বারের বাড়ির শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী আকলিমা আক্তার (৩০) কে শশুর বাড়ির লোকজন মারধর করে বিষ খাইয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ নভেম্বর আনুমানিক বিকেল ৩টার দিকে আকলিমা বিভিন্ন প্রজাতির সবজির চারা রোপন করতে গেলে তার ভাসুর শামীম বেপারী (৪৭) ও তার স্ত্রী পারুল বেগম (৪২), তাদের ছেলে মোঃ রাসেল বেপারী (২৩), মেয়ে রিনা আক্তার (২১) মিলে তার সাথে ঝগড়া ঝাটি শুরু করে। এর এক পর্যায়ে তারা সবাই মিলে বাড়ির উঠানে আকলিমাকে দেশীয় লাঠি সটা দিয়ে বেদম মরাধর করে। এ সময় আকলিমা ঘরে গিয়ে বিষয়টি তার প্রবাসী স্বামীকে জানাইলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ঘরে ডুকেও মারধর করে এবং হত্যার উদ্দেশ্যে তার মুখে বিষ ঢেলে দিয়ে তার মুখ চেপে ধরে রাখে।
আকলিমার মা রতœা বেগম জানায়, আমার মেয়ের ৮ বছরের শিশু কন্যা সন্তান রাহা আমার মোবাইলে ফোন দেয় এবং বলে আম্মুকে জেটা, জেটিমা ও ভাইয়ারা অনেক মেরেছে, আম্মু ফ্লোরে পড়ে আছে এবং আম্মুর মুখে তারা কি যেন ঢালছে। আম্মুর মুখ দিয়ে কি যেন বের হচ্ছে। এ কথা শুনার সাথে সাথে আমি সিএনজি নিয়ে মেয়ের শশুর বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি বাহির থেকে ধরজা আটকিয়ে রাখা হয়েছে। আমি ঘরে ঢুকে আকলিমার মুখ দিয়ে লালা পড়তে দেখে ডাক চিৎকার শুরু করলে তার ভাসুর শামীম এগিয়ে এসে আমাকে বলে আপনার মেয়ে অনেক খারাপ, এ বাড়ি থেকে তাকে নিয়ে যান। না হলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকী ধমকী দেয় এবং শামীমের স্ত্রী বলেন, এখনো মরে না। মরলে ভালোই হতো, দুই চারদিন না হয় জেল খাটতাম। তাও দুশমন শেষ হতো। এরপর আমি আকলিমাকে আলীগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাই। তার অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে রেপার করেন। ওই দিনেই রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে এম্বুলেন্সে করে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করাই।
বর্তমানে আকলিমা আশঙ্কা জনক রয়েছে বলে চিকিৎসক জানায়।
আকলিমার বড় ভাই ইউছুফ জানায়, আমার ভগ্নিপতি প্রবাসে থাকায় তারা প্রতিনিয়তই আমার বোনের উপর নানান ভাবে নির্যাতন করে আসছে। ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট আকলিমার ভাসুর ও ছেলে মেয়েরা তাকে মারধর করে। তখনও আমরা তাকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি এবং তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার বরাবর অভিযোগ দিয়েছি। তার প্রেক্ষিতে তারা আর কখনো এমন নির্যাতন ও এহেন কর্মকান্ড করবে না বলে অঙ্গিকার প্রদান করেন। কিছু দিন যেতে না যেতেই তারা পুনরায় গাল মন্দ শুরু করেন। আকলিমার স্বামী শাহাদাত গত কয়েক মাস পূর্বে দেশে আসলে তাকেও মারধর করে। বিষয়টি তাদের এলাকার লোকজনও অবগত আছেন। আমার ভগ্নিপতি গত ৭ সেপ্টেম্বর বিদেশ চলে যাওয়ার পর থেকেই আমার বোনকে তাদের বাড়ি থেকে চলে যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়তই অশ্লিল ভাষায় গালমন্দ করতো। তাদের অত্যাচারে আমার বোন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। সর্বশেষ তারা আমার বোনকে মেরে ফেলার জন্য মারধর করে এবং বিষ খাইয়ে দেয়।
এ বিষয়ে আকলিমার ভাসুর শামীম বেপারী কাছে জানতে চাইলে তিনি জানায়, আমাদের বিরুদ্ধে যে সকল অভিযোগ এনেছে তা মিথ্যা। আকলিমার মা আসার ১৫/২০ মিনিট পর ঘরে ডাক চিৎকার দেয়। তার ডাকচিৎকার শুনে আমরা ঘরে গিয়ে দেখি, সে বিষ খাইছে, তবে বেশি খায়না। তবে আমাদের সন্দেহ তার মা খাওয়াইছে অথবা তার মায়ের সামনেই বিষ খাইছে। এরপর বাড়ির লোকজনের সহযোগীতায় আলীগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
শামীম বেপারীর স্ত্রী জানায়, তার মা আসার ১০মিনিট পরেই ডাক চিৎকার শুনা যায়। আমাদেরকে পাশানোর জন্যই তার মা তাকে বিষ খাওয়াইছে।
বিষয়টি নিয়ে মামলা প্রক্রিয়াধিন রয়েছে বলেও ভোক্তভূগীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়।
শিরোনাম:
রবিবার , ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ২৯ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।
