নাজমুল হাসান বাঁধন ॥
চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে মলম পার্টি চক্রের ২ নারীসহ ৩ সক্রিয় সদস্য আটক করা হয়েছে। ১৯জুন রোববার তাদেরকে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আটক করা হয়। আটককৃতরা মানুষকে প্রতারণা করে ফাঁদে ফেলার বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর ঘটনা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক নারি বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছে।
ঘটনার বিবরনে জানাযায়, গত ৮ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের কালিবাড়ি এলাকায় একটি সিএনজি দাঁড়ানো অবস্থায় থাকে। সে সিএনজিতে পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক মলম পার্টির সদস্য সিএনজি চালকসহ আরো দুজন নারী বসা ছিল। এ সময় শহরের নিউ ট্রাকরোড এলাকার মান্নানের স্ত্রী জাকিয়া (৩৮) ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে তার ফরিদগঞ্জস্থ টোরা মুন্সিরহাট বাপের বাড়ীতে যাওয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। এ সময় সিএনজিতে বসা থাকা চালক জাকিয়াকে কোথায় যাবে জানতে চায়। জাকিয়া সিএনজি চালককে ফরিদগঞ্জ যাবে কিনা জানতে চাইলে চালক জানায় হ্যা যাবে। চালক আরো জানায় গাড়িতে যে দুজন রয়েছে তারাও ফরিদগঞ্জ যাবে। চালকের কথামত জাকিয়া উঠে বসে। সিএনজিটি ছাড়ার পর জাকিয়ার পায়ের কাছে সিএনজিতে থাকা এক নারী গোপনে একটি কাগজে মোড়ানো স্বর্ণ সদৃশ কিছু একটা ফেলে দেয়। উক্ত কাগজে মোড়ানো জিনিসটি নিয়ে জাকিয়াকে কিছুটা লোভে ফেলার চেষ্টা করে সিএনজিতে জাকিয়ার পাশে বসা নারী। এ ঘটনার সাথে উক্ত নারীকে সমর্থন দেয় পাশে বসা নারী এবং সিএনজি চালক। কিন্তু জাকিয়া কোনভাবেই প্রলোভনে পরতে রাজি হয়নি। সিএনজিটি শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের মাঝামাঝি যাওয়ার পর সিএনজিতে থাকা উক্ত দু নারী জাকিয়াকে অচেতনমূলক কিছু নাকের কাছে দিলেই জাকিয়া অজ্ঞান হয়ে যায় বলে জানায় জাকিয়া। এ সময় জাকিয়ার কাছে থাকা নগদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা এবং স্বর্নালংকার নিয়ে নেয় উক্ত মলমপার্টির চক্ররা। জাকিয়া অচেতন হয়ে থাকায় তাকে সিএনজি থেকে বঙ্গবন্ধু সড়কের মাঝামাঝি নামিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় প্রতারক চক্ররা। এদিকে এ খবর চাঁদপুর মডেল থানাকে অবহিত করার পর চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওয়ালি উল্লাহ অলি পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরের নির্দেশনা মোতাবেক গোপনে এ চক্রকে ধরার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেন। তিনি এ কাজে উপ-পরিদর্শক মোঃ রেজাউল করিমকে নির্দেশনা প্রদান করেন। উপ-পরিদর্শক রেজাউল করিম বঙ্গবন্ধু সড়কের একটি দোকান থেকে ঘটনার দিনের সিসি টিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেন। ঐ বনর্ণার সিএনজিটি খুজতে থাকেন। অবশেষে গতকাল সেই সিএনজিটি এক ঝলক দেখতে পেয়ে পিছু নেয় উপ পরিদর্শক রেজাউল করিম। খবর পেয়ে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওয়ালি উল্লাহ অলিও সঙ্গিয় ফোর্স নিয়ে অভিযানে অংশ নেন। পরবর্তিতে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা সিএনজি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। ২ নারী ও ১ সদস্যকে আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলো চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ এলাকার পশ্চিম হাটিলা এলাকা নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম (৪০), তার মেয়ে পান্না আক্তার (২৫) ও বরিশাল জেলার পূর্ব অগৈল জেরা থানার পূর্ব ঘেরাল এলাকার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন (৩৫)। আটকৃতরা পুলিশের কাছে এ ঘটনার সত্যত্র স্বিকার করেছে বলে জানায় পুলিশ।
এ বিষয়ে চাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওয়ালি উল্লাহ অলি জানান, আমরা এ ধরনের প্রতারক চক্রকে আটক করার জন্য পুলিশ সুপার জিহাদুল কবির স্যারের নির্দেশনা মোতাবেক সু দীর্ঘ পরিকল্পনা করি। এ জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করি। অবশেষে তাদেরকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তারা এ ঘটনার সত্যতা স্বিকার করেছে। তাদের দেওয়া বর্ণনা মোতাবেক তারা স্বর্ণ সদৃশ বস্তুকে ফেলে মানুষের মাঝে লোভ সৃষ্টি করে। মাঝে মাঝে তারা অচেতন করার কাজও করে থাকে। এ ধরনের চক্রের ফাঁদে যেন মানুষ না পা বাড়ায় অফিসার ইনচার্জ সে পরামর্শ প্রদান করেন সকলের প্রতি। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানান অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওয়ালি উল্লাহ অলি।
