চাঁদপুর নিউজ রিপোর্ট
বাবা-মার আশা ছিল সন্তান উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে চাকুরি করবে, সংসারের হাল ধরবে, নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। কিন্তু বখাটে, মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারী সন্ত্রাসীদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার সাফুয়া গ্রামের মেধাবী কলেজ ছাত্র আল-আমিন মোল্লা (২৮) এখন হাসপাতাল বেডে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৬নং ওয়ার্ডের সাফুয়া গ্রামের প্রবাসী বাবুল মোল্লার বড় সন্তান এবং চাঁদপুর সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের মাস্টার্সের ছাত্র (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) আল আমিন মোল্লার অপরাধ (!) এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ওই গ্রামের কাদির পাটওয়ারীর ছেলে হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী হাবিব, মজিবুর রহমান, সন্ত্রাসী সোহেল মোল্লাসহ আরো ৪/৫ জন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে রাস্তায় একা পেয়ে আল-আমিনের উপর হামলা চালায় এবং পেটে ছুটিকাঘাতসহ রক্তাক্ত জখম করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঘটনার পরপর আহত আল-আমিনকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। ৩০ জুন থেকে ওই হাসপাতালে চিকিৎসা চলে আল আমিনের। ডাক্তাররা তার আশা ছেড়ে দিয়ে ঈদের দু দিন আগে ১৫ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আল-আমিনকে রিলিজ দিয়ে দেন। চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যাবার জন্য বলেন এবং আল্লাহ যদি হায়াত রাখে তাহলে বাঁচবে বলে মন্তব্য করেন। আল-আমিনের অবস্থার আরো অবনতি দেখে তার অসহায় পরিবার এবং আত্মীয় স্বজন নিরূপায় হয়ে তাকে ঈদের পর বাড়ি থেকে এনে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করায়। কিন্তু এ হাসপাতাল থেকেও তাকে রিলিজ করে দেয়ায় সে এখন একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছে। এ দিকে নৃশংস এ ঘটনার পরপর সন্ত্রাসী হাবিব পাটওয়ারী, তার বড় ভাই মজিবুর রহমান পাটওয়ারীসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
আল-আমিন মোল্লার পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার প্রায় এক মাসের কাছাকাছি চলে আসলেও পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামীদের ধরছে না। আসামীরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর মামলা তুলে নিতে বাদীকে এবং সাক্ষীদের নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছে। বিষয়টিতে পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ কামনাসহ আসামীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী ও আহত আল আমিনের পরিবার।
উল্লেখ্য, হাবিবুর রহমান পাটওয়ারী হাবিব এলাকার চি?িহ্নত সন্ত্রাসী, বখাটে এবং মাদক বিক্রয় ও সেবনকারী। বড় ভাই পৌর কাউন্সিলর হওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে হাবিব নিরীহ মানুষের উপর হামলা, আহত করাসহ নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। তার বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় একাধিক মামলাও রয়েছে।
