
চাঁদপুর নিউজ রিপোর্ট
চাঁদপুর শহরের মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভিজিটরদের অবহেলায় এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। গত ২৫ আগস্ট বুধবার ফরিদগঞ্জ উপজেলার হাঁসা গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির মোঃ আরিফুর রহমানের স্ত্রী নুরজাহান বেগমের (২০) প্রসব ব্যথা উঠলে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। আরিফুর রহমান ও তার পরিবারের অন্যান্য লোকজন জানান, তাকে শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করানোর পর থেকেই তার প্রচণ্ড প্রসব ব্যথা চলতে থাকে। তারা রোগীর এমন অবস্থা দেখে বার বার চিকিৎসার জন্য ভিজিটরদের অনুরোধ জানান। কিন্তু তারা রোগীর লোকজনের অনুরোধে ভ্রূক্ষেপ করেনি। রোগীর ব্যথা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকলে তারা আবারো কেন্দ্রের ভিজিটর বিলকিস বেগমের কাছে যান। তখন বিলকিস বেগম তাদেরকে বলেন, এখন যে চিকিৎসক ডিউটিতে রয়েছেন তিনি চলে যাবার সময় হয়ে গেছে। এরপর যে চিকিৎসক ডিউটিতে আসবেন তিনি আপনাদের রোগী দেখবেন। কিন্তু যে চিকিৎসক সন্ধ্যায় ডিউটিতে আসার কথা তিনি এসেছেন রাত ৯টায়। এ দিকে দিন গড়িয়ে রাত হয়, রোগীর ব্যথাও প্রচণ্ড হতে থাকে। তারা আবারো বিলকিস বেগমের সাথে যোগাযোগ করলে রোগীর জরায়ুর মুখ খুলেনি বলে তিনি জানান। বিলকিস আরো বলেন, আপনারা এমন করলে তো রোগীকে সিজার করতে হবে। রাতে আমরা সিজার করি না। রাত সাড়ে ১০টায় পুনরায় রোগীর লোকজন বিলকিস বেগমকে রোগী দেখার কথা বললে তিনি অনেকটা বিরক্তিবোধ করেন এবং ‘চিকিৎসার জন্য রোগীদের জ্বালায় ঘুমানো যায় না, কিন্তু বকশিস দেয়ার বেলায় কারো খবর নেই’ বলে চেঁচামেচি করতে থাকেন। পরে রাতে প্রসূতির জরায়ুর মুখ খুললে ভোর ৫টায় নরমাল ডেলিভারিতে মুমূর্ষু অবস্থায় এক কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। নবজাতকের অবস্থা ভালো না দেখে তারা তাদের সাধ্যমত চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করেন। পরে শিশুটিকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এই হাসপাতাল থেকে একটি ইনজেকশন লিখে দিয়ে তাকে সেখান থেকে পুনরায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। আর এর ফাঁকেই নবজাতকের মৃত্যু হয়। রোগীর পরিবারের দাবি, প্রসূতি মায়ের জরায়ুর মুখ খোলা এবং ভিতরে পানি ভেঙ্গে যাওয়ার পরও সময়মতো ডেলিভারি না করাতে পেটের ভেতর নবজাতক পায়খানা করে দেয়। আর সেজন্যেই নবজাতক পেটের ভেতর এমন অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং মুর্মূর্ষু অবস্থায় তার ডেলিভারি হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
এ ব্যাপারে কথা হয় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের আঞ্চলিক সুপারভাইজার ডাঃ মোঃ ইলিয়াছ ও ডাঃ স্বপ্না রাণী রায়ের সাথে। তারা জানান, রোগীর লোকজন যদি আমাদের ভিজিটরদের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে মিথ্যে অভিযোগ করেন তাহলে সেটা তারা করতেই পারেন। কিন্তু চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে যে নিয়ম কানুন রয়েছে তার বাইরে তো আর কিছু করা যায় না। একজন ডেলিভারি রোগীর জরায়ুর মুখ না খোলা পর্যন্ত তো আর ডেলিভারি করানো যায় না। রোগীর পানি ভেঙ্গে যাওয়ার পর দেখা যায় সেই পানি অনেক ঘোলাটে যার রং প্রায় সবুজ। তাতে বুঝা গেছে শিশু মায়ের গর্ভে পায়খানা করেছে এবং পেটের ভেতরে থেকে নবজাতক সেইগুলো খাওয়াতে গর্ভেই তার অবস্থা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। সেজন্যে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা দিয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য সরকারি জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করি। কিন্তু হাসপাতাল থেকে একটি ইনজেকশন লিখে দিয়ে শিশুটিকে ভর্তি না রেখে পুনরায় এখানে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এর ভেতর পথিমধ্যে শিশুটি মৃত্যু হয়।
