
উজানের পাহাড়িঢল, অতিবৃষ্টিপাত এবং বর্ষার পনি প্রবাহে এখন উত্তাল মেঘনা নদী। ফলে চাঁদপুর এলাকার নদী তীরবর্তী স্থান দিয়ে বইছে প্রবল স্রোত। তাই আবারো দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন আতঙ্ক।
সরজমিনে দেখা যায়, চাঁদপুর-হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় স্রোতের তীব্রতা অনেক বেশি। এখানে স্থাপিত বালুর বস্তাগুলো দেবে যাচ্ছে। বন্যার পানি নামার সময় স্রোত যখন আরো বাড়বে তখন বালুর বস্তাগুলো টিকবে না। এ পরিস্থিতিতে হরিণা ফেরিঘাট এলাকা মারাত্মক হুমকির মুখে রয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে মসজিদ, মাদ্রাসা-দোকানপাট, মাছঘাট এবং ফেরি গ্যাংওয়ে নদীতে বিলীন হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, নদী ভাঙ্গন রোধে কাজ হবে, হবে কেবল শুনছেন। কবে নাগাদ সেই কাজ হবে তা নিশ্চিত করে কেউ কিছু বলতে পারছে না। সেই প্রকল্পের কাজ হয়তো এমন সময় হবে তখন ফেরিঘাট এলাকার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন ভাঙ্গন কবলিত ওই জনপদের মানুষগুলো। অনিশ্চিয়তার মধ্যে তারা জীবন-যাপন করছেন। এবার নদী ভাঙ্গনে কোথায় ঠাঁই নিবে দুঃশ্চিন্তায় আছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত শুষ্ক মৌসুমে চাঁদপুরের হরিণা ও হাইমচরের ভাঙ্গন রক্ষায় ১৯০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়। ওই প্রকল্পে হরিণা ফেরিঘাট এলাকায় ৯৩০ মিটার সিসি বাঁধ নির্মাণ এবং হাইমচর এলাকায় ৮৬০ মিটারসহ মোট ১৭৯০ মিটার ভাঙ্গন স্থান সংরক্ষণে কাজ করা হবে। সেই কাজের মধ্যে বালু ভর্তি বস্তা ও সিসি বস্নকের ডাম্পিং কাজও রয়েছে। এখন পর্যন্ত সেই প্রকল্পটি আলোর মুখ দেখেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান চাঁদপুর কণ্ঠকে জানান, ১৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁদপুর হরিণা ও হাইমচর রক্ষা প্রকল্পটি একনেকে ওঠার অপেক্ষায় আছে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে একনেকের সভায় উত্থাপিত হলে এবং সেটি অনুমোদন পেলে প্রকল্প কাজ তারা শুরু করতে পারবে। পাউবোর ওই কর্মকর্তা আরো জানান, নদীর বর্তমান অবস্থা তাদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে। পানি বৃদ্ধি ও স্রোতের তীব্রতা সম্পর্কেও খবর নিচ্ছেন। হরিণা ফেরিঘাট এলাকা দিয়ে যাতে নদী না ভাঙ্গে আরো বস্তা ফোলার ব্যবস্থা তিনি করবেন এবং কালকে সেই জায়গা পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন। এখন দেখার অপেক্ষা কবে নাগাদ প্রকল্পটি অনুমোদন লাভ করে।
