শাহরাস্তি উপজেলার মেহের রেলওয়ে ষ্টেশনে আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেসের টিকিট বিক্রয়ে সক্রিয় কালোবাজারি সিন্ডিকেট। খোদ ষ্টেশন মাস্টার রফিকুল ইসলাম কাউন্টারে টিকিট বিক্রি করছেন দেড় হতে দ্বিগুন মূল্যে। তদোপুরি মাষ্টারের বাড়ি এই উপজেলায় হওয়ায় তার নিয়ন্ত্রিত কালবাজারিদের হাতে লাঞ্চিত হবার ভয়ে নিত্য দিন নিরবে এসব অনিয়ম হজম করে যাচ্ছে যাত্রী সাধারণ।
জানা যায়, প্রতিদিন ভোর ৫ টায় চাঁদপুর হতে চট্রগ্রাম অভিমুখে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর মেঘনা এক্সপ্রেস ৬ টার দিকে মেহের ষ্টেশন অতিক্রম করে। এ স্থান হতে প্রতিদিন অসংখ্য যাত্রী চট্রগ্রাম যাতায়াত করে। আগের দিন সকাল হতে যাত্রী সাধারণের কাছে জনপ্রিয় এ সার্ভিসটির টিকিট বিক্রি শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ে এসে এখানে টিকিট পাওয়া যায় না। টিকিট শেষ হয়ে গেছে অজুহাতে পার্শ্ববর্তী ষ্টেশনের নাম করে প্রতি টিকিটে ৭০ থেকে ১ শত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে মাষ্টার। ষ্টেশনের পাশে চা দোকানগুলোতে মাষ্টারের এজেন্টরা টিকিট বিক্রয় করছেন হেঁটে হেঁটে। সরকারি ভাবে প্রতি সাধারণ আসনের টিকিট মুল্য ১২০ টাকা ও প্রথম শ্রেণী আসনের টিকিট মুল্য ১৫৫ টাকা নির্ধারিত থাকলেও তা ষ্টেশনে লাগানো বোর্ড পর্যন্ত সীমাবদ্ধ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেহের ষ্টেশনের জনৈক ব্যবসায়ী জানান, মাস্টার রফিকের বাড়ি শাহরাস্তি উপজেলায় হওয়ায় যাত্রীরা তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস করে না, কেউ এগিয়ে এলে তাকে নাজেহাল হতে হয় টিকেট কালোবাজারি সিন্ডিকেটের সদস্যদের হাতে। মাষ্টারের শ্বশুর রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় কেউ তার টিকিট স্পর্শ করতে পারে না।
সরেজমিনে ভোর সাড়ে ৫টায় সংবাদ কর্মীরা যাত্রীবেশে ষ্টেশন মাষ্টার রফিকুল ইসলামের কাছে টিকিট চাইলে সে সাধারণ আসনের টিকিট ১শত ২০টাকার স্থলে ২শত টাকা ও প্রথম শ্রেণির টিকিট ১শত ৫৫ টাকার স্থলে ২শত ৫০ টাকা দাবী করে। মূল্য কম দিতে চাইলে তিনি জানান, এ ষ্টেশনের টিকিট সংখ্যা সীমিত। আমি যাত্রীদের চাহিদা মেটাতে বেশি দাম দিয়ে চাঁদপুর হতে টিকিট কিনে আনি। অন্য ষ্টেশন হতে টিকিট এনে বিক্রি করা মাষ্টারের কাজ কিনা ? যাত্রীবেশী সংবাদ কর্মীর এমন প্রশ্নে তিনি তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন এবং টিকিট দেয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
এ সময় পৌরসভার কৃষ্ণপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর (৩৩) জানান, তিনি ১শত ২০ টাকার টিকিট ২শত টাকায় কিনেছেন। সুয়াপাড়া গ্রামের ইকবাল (২৬) জানান, তিনি ১শত আশি টাকা দিয়েছেন। ফেরুয়া গ্রামের শ্রমিক রাশেদ (২০) জানান, আমি গরীব বলাতে ২শত টাকা হতে ২০ টাকা ফেরত দিয়েছে। সূচিপাড়া গ্রামের মাহবুব আলম (১৮) জানান, তিনি ১শত ৯০ টাকা দিয়েছেন। নাহারা গ্রামের বিকাশের কাছ হতে নেয়া হয়েছে ১ শত ৭০ টাকা। প্রথম শ্রেণির টিকিট ১শত ৫৫ টাকার স্থলে বানিয়াচোঁ গ্রামের ফরহাদ (২৮) ২ টিকিট ৫শত টাকা ও সাহাপুরের হান্নান ২শত ৫০ টাকা দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ষ্টেশন মাষ্টার মোঃ রফিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বভাবসূলভ ঔদ্ধ্যত্বপূর্ণ আচরণ করেন এবং সংবাদ কর্মীদের সাথে কথা বলতে পারবেন না বলে জানান।
চট্রগ্রাম বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার মোঃ মফিজুর রহমান জানান, টিকিটের মূল্য বেশি রাখার কোনো নিয়ম নেই। এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ পেলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শিরোনাম:
রবিবার , ২৬ জুলাই, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ১১ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

