
কবির হোসেন মিজি
যৌতুকের টাকার জন্য শান্তনা আক্তার রাবেয়া (২০) নামে এক গৃহবধূকে বেদম মারধর করেছে তার যৌতুকলোভী ও মাদকসেবী স্বামী ফখরউদ্দিন খান। এমনকি তাকে মেরে গুরুতর আহত করে ঘরের ভেতর আটকে রেখে দরজায় তালা দিয়ে গৃহবন্দী করে রাখা হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ জুন বুধবার দুপুরে চাঁদপুর সদর উপজেলার মৈশাদী গ্রামের খান বাড়িতে।
চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ রাবেয়া সাংবাদিকদের জানান, প্রায় ৩ বছর পূর্বে মৈশাদী গ্রামের খান বাড়ির মৃত তসলিম খানের পুত্র ফখরউদ্দিনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার বাবা মান্নান পাটওয়ারী ২ ভরি স্বর্ণ, ফার্নিচার এবং নগদ টাকা যৌতুক দিয়ে তাকে বিয়ে দেন। তার স্বামী তখন ঢাকায় চাকুরি করতো। বিয়ের দু’ মাস পার হতেই স্বামী ফখরউদ্দিন একেবারে চাঁদপুর চলে আসেন। তখন সে বেকার হয়ে যাওয়ায় প্রায় সময়ই রাবেয়ার কাছে বাপের বাড়ি থেকে টাকা এনে দেয়ার কথা বলতো। এ নিয়ে প্রায় তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অনেক কথা কাটাকাটি এবং মারধরের ঘটনাও ঘটতো। তার স্বামী একজন মাদকসেবী বলেও তিনি জানান। এমনকি ওই সময় তার স্বামী জিদের বশবতি কয়েক হয়ে তাকে তালাক দেয়ার কথা বলে এক, দুই ও তিন তালাক উচ্চারণ করে। তবুও অসহায় রাবেয়া নীরবে স্বামীর ঘর সংসার করে আসছেন। পূর্বের ন্যায় একইভাবে তার স্বামী ফখরউদ্দিন গত ৪ জুন বুধবার দুপুরের দিকে রাবেয়াকে বাপের বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দেয়ার কথা বলে। এ নিয়ে দু’ জনের মধ্যে ঝগড়া সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তা বড় আকারে রূপ নিলে তার স্বামী তাকে লাথি ঘুষি এবং বোতলে গরম পানি ঢুকিয়ে বেদম মারধর করে আহত করে। তারপর তাকে ঘরের ভেতর রেখে বাইরে দুটি দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়। রাবেয়ার বড় ভাই মুক্তার হোসেন খবর শুনে চাঁদপুর মডেল থানায় অভিযোগ করলে থানার এসআই আঃ হামিদ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে রাবেয়াকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এনে ভর্তি করায়। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
