রফিকুর ইসলাম বাবু ॥
চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৪নং রাজরাজেশ্বর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে গত কয়েকদিন ধরে নদীর ¯্রােতে বাড়ি-ঘর ভেঙ্গে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ১৮ আগস্ট শনিবার দুপুরে জেলা প্রশাসন মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল ও চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। সেখানে গিয়ে জেলা প্রশাসক ৬নং ওয়ার্ড লগ্নীমারাচরে গৃহহীন হয়ে পড়া মানুষদের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তাদেরকে পুণর্বাসনের বিষয়ে আশ^স্ত করেন। পরে গৃহহীনদের মাঝে তিনি শুকনো খাবার বিতরণ করেন। এই আশ্রায়ন প্রকল্পটি স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাঃ দীপু মনি এমপি ২০১২ সালের ৯ মার্চ উদ্বোধন করেন। এই আশ্রায়ন প্রকল্পে প্রায় শতাধিক পরিবার বসবাস করে। জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মন্ডল বলেন গত বুধবার রাতে ভাঙন শুরু হলে এ আশ্রায়ন প্রকল্পের একটি বৃহৎ অংশ মেঘনা নদীতে তলিয়ে যায়। পরদিন সকাল ১১টায় হাজী কুদ্দুস বেপারী কান্দি জামে মসজিদটি মেঘনা নদীতে তলিয়ে যায়। এই মসজিদটিতে প্রায় অর্ধ শতাধিক মুসলিম প্রতিনিয়ত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতো। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। তবে তাদের পুনর্বাসন করার জন্য আমরা তালিকা তৈরি করে স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে পুনর্বাসিত করার চেষ্টা করবো। তিনি আরও বলেন, উত্তরাঞ্চল থেকে উজানের পানি চাঁদপুরের নদীর সীমানার উপর দিয়ে নামতে শুরু করায় ১৪নং রাজরাজেশ^র ইউনিয়নে এ নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। গত ৩ বছর যাবৎ শতাধিক পরিবার এ আশ্রায়ন প্রকল্পে বসবাস শুরু করে। রাজরাজেশ^র ইউনিয়নের নদী ভাঙ্গন এলাকা পরির্দশন কালে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডল অসহায় মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও ঔষধ বিতরণ করেন। আশ্রায়ন প্রকল্প এলাকার একটি বৃহৎ অংশ মেঘনার গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এখানকার বসবাসরত পরিবারগুলোকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ইউপি মেম্বার শফিক কুড়ালির মাধ্যমে নদী ভাঙ্গনের স্বীকার পরিবার গুলোর তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সবুর মন্ডলের কাছে প্রদান করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের গুলো হলো ঃ নূরতারা, দিদার দর্জি, খলিল তাঁতি, সেকুল বেপারী, নূরে আলম গাজী, সালাউদ্দিন মাঝি, আলী হোসেন বেপারী, আইয়ুব আলী গাজী, আব্দুর রহিম বেপারী, কামাল বেপারী, ইউসুফ আলী বেপারী, সাত্তার বেপারী, ওমর আলী বেপারী, নবী বেপারী, আনোয়ারা বেগম, ইমান মাঝি, আহমেদ আলী, শরবত প্রধানীয়া, জমির আলী বেপারী, তপিল কাজী, আহছান পাটওয়ারী, মাওলানা হাছান, জিন্দা গাজী, ওচমান প্রধানীয়া, আবুল কাজী, মজিব বেপারী, নেকমত হোসেন, তৈয়ব সরকার, ওছমান দেওয়ান, নুরুল হক শেখ, রহমত কুড়ালী, রুস্তম কুড়ালী, সেকান্তর মাল, জান শরিফ কুড়ালী, মনির খালাসী, খালেক পাটওয়ারী, নূরুল ইসলাম সহ আরও অনেকে। এদেরকে হাজী কুদ্দুছ বেপারী কান্দির আশ্রায়ন প্রকল্প থেকে বলিয়ারচর ও মান্দের বাজার এলাকায় সরিয়ে নেয়া হয়েছে। শনিবার সকালে ১৪ নং রাজরাজেশ^র ইউনিয়ন পরিষদে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হাজী হযরত আলীর বেপারীর সভাপতিত্বে বন্যা দুর্গত ও নদী ভাঙ্গনের স্বীকার পরিবারগুলোকে নিরাপদ ও উচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যদের সাথে জরুরি সভা করা হয়েছে।
