খালেদ হোসেন টাপু,রামু
রামু উপজেলায় ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। পানিতে ডুবে ও পাহাড় ধ্বসে ৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরো ২ জন। বাঁকখালী নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের মিতার ছড়া এলাকায় পাহাড় ধ্বসে মারা গেছেন মো. শফির ছেলে মো. রিদুয়ান (১০)। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের আমতলিয়া পাড়া গ্রামে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান মোস্তাক আহমদের স্ত্রী হালিমা বেগম (৩০)। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ারঘোনা এলাকায় পাহাড় ধ্বসে চাপা পড়া আমির হোসেন এর মৃতদেহ উদ্ধার করা করা হয়। ৪ সন্তানের জনক আমির হোসেন স্থানীয় ছমি উল্লাহর ছেলে।
শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের তিতারপাড়া এলাকায় পানিতে ডুবে প্রাণ হারান খতিজা বেগম (৩৮)। একইদিন সকালে পানিতে ডুবে প্রাণ হারান রামু ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের দক্ষিণ দ্বীপ ফতেখাঁরকুল এলাকার জুনু মিয়া (৬০)।
বৃহস্পতিবার সকালে রামু উপজেলার গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজর বিল এলাকায় বন্যা কবলিতদের নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার সময় নৌকা ডুবিতে ২ জন নিখোঁজ হয়েছেন। তারা হলেন, বশির আহমদের মেয়ে কামরুনাহার (২২) ও এরশাদ উল্লাহর মেয়ে তরিকা হাসনাত (৪)।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাফর আলম জানিয়েছেন, উপজেলার ফতেখারকুল, রাজারকুল, কাউয়ারখোপ ইউনিয়নে বাঁকখালী নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে শতাধিক গ্রাম বন্যা কবলিত হয়েছে।
উখিয়ার ঘোনা টিলা গ্রামের বাসিন্দা শাহ আলম জানান, শুক্রবার টিলা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পাশে বাহাদুর, হেলাল, মিজান ও নুরুল আলমের গুদাম ঘর ধসে মহিলাসহ ১০ জন গুরুত্বর আহত হয়।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদ হোসেন ৫ জনের মৃত্যু বিষয় নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গর্জনিয়া ইউনিয়নের ক্যাজর বিল এলাকায় নৌকা ডুবিতে নিখোঁজ ২ জনের এখনো সন্ধান মেলেনি।
বুধবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় আবারো পানিতে একাকার হয়ে গেছে রামু উপজেলার সিংহভাগ জনপদ। বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে যাওয়ায় লোকজন মানবেতর সময় কাটাচ্ছে। ভয়াবহ বন্যার পানিতে নিমজ্জিত হওয়া মানুষের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠছে আকাশ-বাতাস।
টানা কয়েকদিনের বর্ষণের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল, দ.মিঠাছড়ি, খুনিয়া পালং, চাকমারকুল, জোয়ারিয়ানালা, রশিদ নগর ও ঈদগড় ইউনিয়ন। এখানকার বেশির ভাগ গ্রাম পানিতে ডুবে আছে। এদিকে রামু-কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সাইমুম সরওয়ার কমল, রামু উপজেলা চেয়ারম্যান রিয়াজউল আলম, রামু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুদ হোসেন বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রান বিতরণ অব্যাহত রেখেছেন।
অন্যদিকে সংস্থ্যার উদ্ধার কর্মীরা পানিতে বন্দি থাকা মানুষদের কে বাড়িঘর থেকে বের করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
শিরোনাম:
বুধবার , ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ , ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
এই ওয়েবসাইটের যে কোনো লেখা বা ছবি পুনঃপ্রকাশের ক্ষেত্রে ঋন স্বীকার বাঞ্চনীয় ।

