কবির হোসেন মিজি
শুষ্ক মৌসুমে নদীর পানি কমে যাওয়ায় চাঁদপুর মাদ্রাসা রোডের বিকল্প লঞ্চ ঘাটের পন্টুনের সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন লঞ্চ যাত্রীরা। প্রতিদিনই ঢাকা এবং চাঁদপুরগামী যাত্রীরা কম-বেশি আহত হচ্ছেন। লঞ্চঘাটে যাত্রীদের এ দুর্ভোগের চিত্র চলছে প্রায় ১৫/১৬ দিন যাবৎ। গতকাল ১৭ নভেম্বর সোমবার সকালে মাদ্রাসা রোডের বিকল্প লঞ্চঘাটে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বর্ষা মৌসুমে নদীতে যে পরিমাণ ভরপুর পানি ছিলো এখন আর সেই পানি নেই। শুষ্ক মৌসুম আসতেই নদীর পানি অনেক কমে গেছে। সে সাথে লঞ্চের যাত্রীরা ওঠানামা করার জন্য ঘাটের পন্টুনও অনেক নিচে নামানো হয়েছে। এর ফলে যাত্রী যাতায়াতের গ্যাংওয়ের সংযোগ রক্ষাকারী সিঁড়িগুলো প্রায় দশ বারো ফুট উপর থেকে ঢাল করে পন্টুনে নামার জন্য দেয়া হয়েছে। এ ঢাল দেয়ার কারণে যাত্রীরা উঠানামা করতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে প্রতিদিনই প্রায় ৪০/৫০ জন যাত্রী কমবেশি আহত হচ্ছে। গ্যাংওয়ে থেকে পন্টুনটি অনেক নিচে হওয়ায় দেখা গেছে সিঁড়ি দিয়ে যাত্রী সাধারণ উঠানামার সময় পন্টুনের ছাদের টিনের সাথে এবং লোহার এঙ্গেলের সাথে অনেকে আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন। গতকাল সকালেও ঢাকাগামী যাত্রী শহরের ইচলী এলাকার আইয়ুব আলী মাঝি, ফরিদগঞ্জ উপজেলার সোলাইমান ও রোকেয়া বেগম এবং তার শিশু সন্তানকে নিয়ে পন্টুনে নামার সময় পড়ে গিয়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে আহত হন। তাদের মধ্যে আইয়ুব আলী মাঝি চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেন। বিভিন্ন সময় লঞ্চঘাটের যাত্রীদের এমন আহতের ঘটনার কথা লঞ্চ প্রতিনিধিরা পুলিশকে অবগত করলে গতকাল নৌপুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ আব্দুল বাতেন ভূঁইয়া, মোঃ মমিনুল হক ও কেশব চন্দ্র চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
লঞ্চঘাটে যাত্রীদের এমন দুর্ভোগের ব্যাপারে বিভিন্ন লঞ্চ প্রতিনিধি আলী আজগর, বিপ্লব সরকার ও রুহুল আমিনসহ আরো ক’জন বিআইডব্লিউটিএ’র প্রতি অভিযোগ করে বলেন, লঞ্চঘাটের যাত্রীদের চলাফেরার সুবিধার্থে বিআইডাব্লিউটিএ যে কার্যকর ভূমিকা নেয়ার কথা তারা তা নিচ্ছেন না।
এ ব্যাপারে কথা হয় ঘাটের দায়িত্বে থাকা বিআইডব্লিটিউএ’র উপ-পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা) মোবারক হোসেনের সাথে। তিনি জানান, মাদ্রাসা রোডের এই বিকল্প লঞ্চ ঘাটটি অনেক আগেই পূর্বের ঘাটে নেয়ার কথা ছিলো, কিন্তু পানির যে পরিস্থিতি সে কারণে তা আর হয়নি। সে আগের ঘাটটি ও পানি কমে যাওয়ায় পন্টুন অনেক নিচে নেমে গেছে। তাই এ একই সমস্যার কারণে ঘাট সেখানে স্থানান্তর করা হয়নি। মাদ্রাসা রোড লঞ্চ ঘাটে যাত্রীদের দুর্ভোগে আহত হওয়ার ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নিয়েছেন এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা যাত্রীদের সুবিধার জন্য ঘাটের দু পাশে যে গ্যাংওয়ে রয়েছে তার মাঝখানে থাকা খালি জায়গাটুকু ভরাট করে বিকল্প রাস্তা করে দিবো। আশা করছি আজকের (গতকাল) মধ্যেই কাজ ধরবো।
