
প্রতিনিধি ॥ চাঁদপুর শহরের বড় স্টেশন রেলওয়ে মাদ্রাসা রোডে ৪টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে কারণে ওই এলাকার প্রায় ৩শ পরিবারের সহস্রাধিক মানুষ বিদ্যুৎ সট সার্কিট আতঙ্কে জীবন কাটাচ্ছে। এ ব্যাপারে ওই এলাকার শত-শত পরিবার চাঁদপুর বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে এর সমাধান চেয়ে গতকাল রবিবার লিখিত একটি অভিযোগ জমা দিয়েছেন বলে এলাকাবাসী জানান। তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে যেকোন মুহুর্তে বড় ধরনের দুঘটনা বা এলাকায় ধাঙ্গা বেধে আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে।
সরেজমিনে আজ চাঁদপুর শহরের রেলওয়ে বড় স্টেশন মাদ্রাসা রোডে গিয়ে এলাকাবাসীর সাথে আলাপকালে জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা জনৈক সেলিম, হামিদ, আরশাদ দর্জি ও সৈয়দ আলী রেলওয়ের জায়গায় অবৈধভাবে ঘরবাড়ি নির্মান করে বসবাস করছে। অবৈধ দখলদাররা অবৈধভাবে ভুয়া কাগজপত্র বিদ্যুৎ অফিসে জমা দিয়ে প্রায় ১শ ৫০ ফিট লম্বা ফিলার বিহীন বিদ্যুৎ সংযোগ তাদের ঘরে নিয়ে দীর্ঘ ২ বছর যাবত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে যাচ্ছে। এলাকাবাসী তাদেরকে এ সংযোগ সঠিকভাবে স্থাপনের দাবী জানালেও তারা কোন কর্ণপাত করছে না। ইদানিংকালে মাদ্রাসা রোড এলাকার প্রধান ফিলার থেকে বিশাল সংযোগ নেওয়ার কারণে ৪টি বিদ্যুৎ সংযোগের তার পার্শবর্তী চালের সাথে গাছের সাথে ও তার ঝুলে পুকুরের পানিতে পরে রয়েছে। এতে করে এলাকায় বৃষ্টি ও বর্ষার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বৈদ্যুতিক তার পানির নিচে গিয়ে তা দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহিত হচ্ছে। যা মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ বলে এলাকাবসী আতঙ্কে রয়েছে। বর্তমানে পানি কমলেও বিদ্যুতের তার পুকুরের উপর বিপদ জনকভাবে ঝুলে রয়েছে। বাতাসে এ ৪টি বিদ্যুৎ সংযোগের তার টিনের চালের সাথে ঘর্ষণ লেগে ৪টি তার লিক হয়ে আস পাশের বাড়িঘরে বিদ্যুতায়িত হয়ে যাচ্ছে। এতে ওই এলাকার শত শত মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সংযোগ নেওয়া জনৈক সেলিম, হামিদ, আরশাদ দর্জি ও সৈয়দ আলী নামক ব্যক্তিদের এ ব্যাপারে সংযোগগুলি সঠিকভাবে পরিচালনার কথা বললেও তারা এ ব্যাপারে কোন কর্ণপাত করছে না।
এলাকাবাসীর মতামত যেকোন মূহুর্তে এ বিদ্যুৎ সট সার্কিটের কারণে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে প্রাণ হানীর আশংকা বিরাজ করছে। বিদ্যুতের প্রধান ফিলার থেকে সংযোগ প্রথমে যে দুটি ঘরের চালে লেগে বিদ্যুতায়িত হচ্ছে, সে ঘরের মালিক আঃ জলিল গাজীর পুত্র আউয়াল গাজী (৮০) জানান, স্বাধীনতার পর থেকে এখানে বসবাস করছি, অত্যন্ত শান্তিতে ছিলাম। দীর্ঘদিন যাবত এ ৪টি সংযোগের কারণে মারাত্মক আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। ওই এলাকায় মৃত মুসা দেওয়ানের পুত্র জমির দেওয়ান বলেন, এ ৪টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের তার ঘরের উপর পরে থাকায় বিদ্যুৎ সট সার্কিটের কারণে ঘরবাড়ি বিদ্যুায়িত হয়ে যায়। যে কোন মুহুর্তে বড় ধরণের দুর্ঘটনা প্রাণ হানি হতে পারে। সংযোগকারীদেরকে অনুরোধ করলেও তারা এর সমাধান করছে না। শত শত এলাকাবাসী প্রতিবাদি কণ্ঠে বলেন, এখানে বসবাসকারী সহস্রাধিক মানুষের জীবন রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে এর একটি সঠিক সমাধান করা প্রয়োজন বিদ্যুৎ বিভাগের।
